ঢাকা   ২৪ এপ্রিল ২০১৯ | ১১ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  একাদশ সংসদ নির্বাচনে আ. লীগের ব্যয় ছিল আগের চেয়ে কম (জাতীয়)        শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিন্দা-শোক (জাতীয়)        গোপালগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের শিকার (জেলার খবর)        পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ: বিমান প্রতিমন্ত্রী (জাতীয়)        বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কার মতো হামলার ঝুঁকি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)        ৫ দেশের সমন্বয়ে নতুন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরাম গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর (জাতীয়)        খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে গণতন্ত্রকে মুক্ত করা যাবে না: মোশাররফ (রাজনীতি)        রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৬৭ (ঢাকা)        শ্রীলঙ্কায় নিহত শেখ সেলিমের নাতি জায়ানের মরদেহ আসছে আজ (জাতীয়)        যথার্থ ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র শবেবরাত উদযাপিত (জাতীয়)      

জেল থেকে নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দেন সিরাজ, পরিকল্পনা শামীমের: পিবিআই

Logo Missing
প্রকাশিত: 11:49:48 pm, 2019-04-13 |  দেখা হয়েছে: 3 বার।

আজ ডেক্সঃ যৌন নির্যাতনের মামলা হওয়ায় আলেম সমাজকে হেয় করা হয়েছে- এই ধরনের ‘যুক্তি’ দিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা জেলে থেকেই তার অনুসারীদের নির্দেশ দেন নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে মারার। আর নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করেন শাহাদাত হোসেন শামীম। গতকাল শনিবার সকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার। নুসরাত হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত নয় আসামির মধ্যে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বনজ কুমার সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার দিন আনুমানিক সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টায় ঘটনাস্থলে ছিলেন নূর উদ্দিন, শাহাদাত, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদের এবং আরো একজন। আমরা নাম পেয়েছি। আমরা কিছু নাম আপনাদের বলতে পারব না। বনজ কুমার আরো বলেন, রাফিকে পুড়িয়ে মারা হবে এই সিদ্ধান্ত তারা নেয়। সে মাদ্রাসার প্রিন্সিপালসহ আলেম সমাজকে হেয় করেছে, দ্বিতীয় কারণ হলো- এই শাহাদাত হোসেন শামীম প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে, রাফি এটা কোনোভাবেই অ্যাকসেপ্ট করে নাই। এই তার রাগ। এদিকে, নুর উদ্দিন নামে একজনকে ময়মনসিংহ থেকে গ্রেফতারের পর গতকাল শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, নুসরাতের গ্রামেরই যুবক নুর উদ্দিন (২০) সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র। ওই মাদ্রাসায়ই পড়তেন নুসরাত। এই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন নুসরাত। গত ২৬ মার্চ নুসরাতের মা শিরীনা আক্তার মামলা করার পরদিন সিরাজকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। অধ্যক্ষ সিরাজকে গ্রেফতারের পরদিন তার মুক্তির দাবিতে সোনাগাজীতে যে মিছিল-সমাবেশ হয়েছিল, তাতে সংগঠকের ভূমিকায় ছিলেন রাফি হত্যাকা-ের মূল সন্দেহভাজন সোনাগাজীর উত্তর চর চান্দিয়া গ্রামের যুবক নুর উদ্দিন। ওই সমাবেশে তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, অধ্যক্ষ সিরাজকে মুক্তি না দিলে মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে। অধ্যক্ষ সিরাজকে নিয়ে ‘খারাপ রিপোর্ট’ করা হলে সাংবাদিকদেরও দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন এই যুবক। অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল নুসরাতকে। তা না করায় গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার দিন মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বোরকা পরা কয়েকজন এই কাজটি করেছিল বলে নুসরাত নিজে বলে গেছেন। বোরকা পরা ওই হামলাকারীদের মধ্যে নুর উদ্দিনও ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধানম-িতে পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, নুর ও শামীম দুজনই অধ্যক্ষ সিরাজের ‘অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ’ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান যে মামলা করেন, তার প্রধান তিন আসামি হলেন অধ্যক্ষ সিরাজ, নুর ও শামীম। ময়নসিংহেরই মুক্তাগাছা থেকে গত শুক্রবার শামীমকে গ্রেফতার করে পিবিআই। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠলে সোনাগাজী থানার ওসিকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। পিবিআই দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে নুসরাতের ভাইয়ের ভাইয়ের করা মামলার আট আসামির মধ্যে সাতজনকে গ্রেফতার করা হল। আট আসামিদের মধ্যে হাফেজ আবদুল কাদের নামে একজন এখনও পলাতক। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে পিবিআই কর্মকর্তারা জানান। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলম, মাদ্রাসাটির শিক্ষক আফছার আহমেদ, মাদ্রাসাটির সাবেক ছাত্র জাবেদ হোসেন ও জোবায়ের আহমেদ। এজাহারের আসামিদের বাইরে অধ্যক্ষ সিরাজের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপিসহ কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করে আদালতের অনুমতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পিবিআই।