ঢাকা   রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  দিনাজপুরে বিপৎসীমার কাছাকাছি ৩ নদীর পানি (জেলার খবর)         সিরাজগঞ্জে বিপৎসীমার ওপরে যমুনার পানি (জেলার খবর)        এরশাদের প্রতি দলীয় নেতাকর্মীদের শেষ শ্রদ্ধা (জাতীয়)        সংসদ প্রাঙ্গনে এরশাদের জানাজায় রাষ্ট্রপতি (জাতীয়)        ভালো শিক্ষকদের ক্লাস সম্প্রচারে টিভি চ্যানেল খোলার চিন্তা: শিক্ষামন্ত্রী (শিক্ষা)        পরিকল্পিত শিল্প এলাকার বাইরে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ নয়: প্রতিমন্ত্রী (জাতীয়)        রাজস্ব বাড়াতে জেলা-উপজেলায় কমিটি চান ডিসিরা (জাতীয়)        শেষ হলো পদ্মা সেতুর পাইল বসানোর কাজ (জাতীয়)        বৃষ্টি ঝরবে আরো দু’তিন দিন (জাতীয়)        সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি লাখো মানুষ (জেলার খবর)      

নুসরাত হত্যা: অধ্যক্ষ সিরাজের ঘনিষ্ঠ কাদেরের স্বীকারোক্তি

Logo Missing
প্রকাশিত: 10:35:06 pm, 2019-04-18 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আজ ডেক্সঃ সোনাগাজীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যার আসামি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের ‘ঘনিষ্ঠ’ দুই শিক্ষার্থীর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের বক্তব্য দিতে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের কার্যালয়ে হাজির হন মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের। গত বুধবার ঢাকার হোসেনী দালান এলাকা থেকে হাফেজ আবদুল কাদেরকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছিল মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁকে ঢাকা থেকে ফেনীর আদালতে হাজির করে জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আবেদন করা হয় বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক মো. শাহ আলম। তিনি জানান, জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন জবানবন্দি রেকর্ড করছেন। আবদুল কাদের সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব সফরপুর গ্রামের মনছুর খান পাঠানবাড়ীর আবুল কাসেমের ছেলে। তিনি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক এবং ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার অনুগত হিসেবে মাদ্রাসার হোস্টেলে থাকতেন আবদুল কাদের। আবদুল কাদের গত ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পরদিন মালামাল নিয়ে হোস্টেল ছেড়ে বাড়ি চলে যান। কাদেরকে নিয়ে এই মামলায় মোট চারজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন। শামীম ৫ দিনের রিমান্ডে: নুসরাত জাহান রাফিকে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মোহাম্মদ শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ফেনীর একটি আদালত। নুসরাত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এই মামলার আসামি মো. শামীমকে জেলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানি শেষে বিচারক শরাফ উদ্দিন পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মো. শামীমকে গত মঙ্গলবার রাতে ফেনীর সোনাগাজী থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই। তিনিও সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী। তারপর গত বুধবার তাঁকে আদালতে হাজির রিমান্ডের আবেদন করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রিমান্ডের আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন। নুসরাত জাহান রাফি এবার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। তিনি সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মাওলানা এস এম মুসার মেয়ে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে নুসরাত তৃতীয়। গত ৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাদ্রাসা ভবনের ছাদে দুর্বৃত্তরা তাঁর গায়ে আগুন দেয়। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। পরে এখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে তিনি মারা যান। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলা গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহানের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। নুসরাত বিষয়টি বাসায় জানালে তাঁদের মা সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোনাগাজী থানা পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করে নুসরাতের ভাই নোমান মামলা করেন। আলোচিত এ মামলায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। তাঁরা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, নুসরাতের সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, যোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার ও জান্নাতুল আফরোজ। এদিকে গত রোববার রাতে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইনের আদালতে নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম। সেদিন বিকেল ২টা ৫৫ মিনিট থেকে দিবাগত রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত প্রায় ১০ ঘণ্টা জবানবন্দি দেন তাঁরা। জবানবন্দিতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে তাঁরা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। এ মামলায় পিবিআইর হাতে তিন নারীসহ ১৮ জন আটক রয়েছে। তার মধ্যে ১৩ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।