ঢাকা   মঙ্গলবার ২১ মে ২০১৯ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  আজ ঢাকায় আসছেন গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)        নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: হাইকোর্ট (জাতীয়)         ধান পোড়ানোর ঘটনা পরিকল্পিত: খাদ্যমন্ত্রী (জাতীয়)        মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে বৈঠক চলতি মাসেই (জাতীয়)        খালেদাকে কেরাণীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তরে বিএনপির খুশি হওয়ার কথা: তথ্যমন্ত্রী (রাজনীতি)         সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)        ঢাকায় শিশু হাসপাতালের শৌচাগার থেকে নবজাতক উদ্ধার (ঢাকা)        চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেলেন রাষ্ট্রপতি (জাতীয়)        মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ (বিবিধ)        চিকিৎসক-নার্সদের ঢাকায় বদলির তদবির গ্রহণ করা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী (জাতীয়)      

নুসরাত হত্যায় অর্থ লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে: সিআইডি

Logo Missing
প্রকাশিত: 11:30:21 pm, 2019-04-20 |  দেখা হয়েছে: 2 বার।

আজ ডেক্সঃ ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকা-ে অবৈধ অর্থ লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ -সিআইডি। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম। নুসরাত হত্যার হুকুমদাতা ও আলোচিত ওই হত্যাকা-ে যারা অংশ নিয়েছে তাদের মধ্যে অবৈধ অর্থ লেনদন হয়েছে। অর্থের জোগানদাতা থেকে শুরু করে কয়জনকে সে অর্থ দেওয়া হয়েছে তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান সিআইডি কর্মকর্তা। বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল বলেন, জানতে পেরেছি, এখানে অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়েছে। এ সপ্তাহেই আমরা একটি টিম পাঠাব, ওখানে আমাদের টিম অনুসন্ধান করে দেখবে যে, মানিলন্ডারিং হয়েছে কি না। যদি হয়ে থাকে তাহলে আমরা নিয়মিত মামলা রুজু করব। অবৈধ অর্থ, সেটা কেরোসিন কেনার জন্য হোক, কাউকে প্রভাবিত করার জন্য টাকা ইনভেস্ট করা হোক, বা কেউ যদি টাকা দিয়ে থাকে এই মৃত্যু অথবা শ্লীলতাহানির ক্ষেত্রে। এ হত্যাকা- প্রভাবিত করার জন্য, সাপ্রেস করার জন্য, অথবা খুন করার জন্য যদি টাকা ইনভেস্ট করে থাকে, সেটা মানিলন্ডারিং, বলেন সিআইডি কর্মকর্তা। নুসরাতকে ছাদে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার পপির: নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার আগে তাকে ছাদে ডেকে নেওয়ার কথা স্বীকার করে অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল জানান, গত শুক্রবার বিকেল ৪টায় পপিকে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের কাছে দায় স্বীকার করে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টায় তার জবানবন্দি দেওয়া শেষ হয়। পিবিআই কর্মকর্তা ইকবাল বলেন, পপি ঘটনার দিন সকালে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নেন। পপি এ হত্যার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এদিকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জাবেদ হোসেনকে একই বিচারক আরও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। সাত দিনের রিমান্ড শেষে পুলিশ তাকে আরও পাঁচ দিনের রিমান্ডে চাইলে আদালত তিন দিন মঞ্জুর করে আদেশ দেয়। এর আগে এ মামলায় চার আসামি নুসরাত হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তারা হলেন- মামলার এজহারভুক্ত আসামি নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, আবদুর রহিম শরীফ ও হাফেজ আবদুল কাদের। এদিকে নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ‘সরাসরি অংশ নেওয়া’ সহপাঠী কামরুন নাহার মণিকে নিয়ে এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পিবিআই কর্মকর্তারা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনীর পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, গত শুক্রবার মনিকে নিয়ে পিবিআই কর্মকর্তারা মাদ্রাসা ভবনের ছাঁদ ও বোরকার দোকান পরিদর্শন করেন। হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার মনি বুধবার থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে একটি দল মণিকে নিয়ে সোনাগাজী পৌরশহরের মানিক মিয়া প্লাজায় একটি বোরকার দোকানে যায়। সেখানে তারা দোকানমালিকের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তারা সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে নুসরাতকে কীভাবে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে তার বিবরণ দেন কামরুন নাহার মণি। মণিকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকা-ে অংশ নেওয়া পুরুষদের ব্যবহৃত বোরকাগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান। নুসরাত ছিলেন ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী। গত ৬ এপ্রিল আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গেলে ছাদে ডেকে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতের পরিবারের দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় অধ্যক্ষর লোকজন তার গায় আগুন দেয় বলে গ্রেফতারদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। এই হত্যাকা-ে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত শুক্রবার সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে আটক করেছে পিবিআই। তবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে কি না তা এখনও নিশ্চিত করেননি কর্মকর্তারা। নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিরও প্রভাব রয়েছে বলে এই ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান ডিআইজি এস এম রুহুল আমিন অভিমত দেওয়ার পরদিন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ধরা হল। আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি। ওই মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি বাতিল করে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। কমিটির সদস্যরা নুসরাত হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান জানিয়েছেন। নুসরাত হত্যায় জড়িতদের বিচার দাবিতে গত শুক্রবারও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বিকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক প্রতিবাদী কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল এ ঘটনা থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে সাবধান হতে বলেছেন। নুসরাতের ঘটনা তৃণমূলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের সখ্যের প্রমাণ দেয় মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে ‘মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান’ দিয়ে জনরোষ থেকে শেষ রক্ষা হবে না। অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, ফেনীর ঘটনায় আমরা দেখতে পাই, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে অপরাধী প্রিন্সিপাল সিরাজের যে সখ্য তা প্রমাণ করে, আওয়ামী লীগের সাথে জামাতের তৃণমূলের একটা বড় অংশের সখ্য তৈরি হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগরে যেমন আওয়ামী লীগের নেতারা শত ধর্ষণ উপভোগ করেছে ঠিক তেমনি স্থানীয় নেতারাও এই সকল কাজে প্রশ্রয় দেওয়া শুরু করেছে। মুক্তিযুদ্ধের শক্তির কাছ থেকে আমরা এই ভূমিকা প্রত্যাশা করি না। এই অবস্থা যদি চলতে থাকে তাহলে মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান দিয়ে জনরোষকে দাবিয়ে রাখতে পারবেন না। জনগণ তার নিজের পথ খুঁজে নেবে।