ঢাকা   মঙ্গলবার ২১ মে ২০১৯ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  আজ ঢাকায় আসছেন গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)        নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: হাইকোর্ট (জাতীয়)         ধান পোড়ানোর ঘটনা পরিকল্পিত: খাদ্যমন্ত্রী (জাতীয়)        মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে বৈঠক চলতি মাসেই (জাতীয়)        খালেদাকে কেরাণীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তরে বিএনপির খুশি হওয়ার কথা: তথ্যমন্ত্রী (রাজনীতি)         সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)        ঢাকায় শিশু হাসপাতালের শৌচাগার থেকে নবজাতক উদ্ধার (ঢাকা)        চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেলেন রাষ্ট্রপতি (জাতীয়)        মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ (বিবিধ)        চিকিৎসক-নার্সদের ঢাকায় বদলির তদবির গ্রহণ করা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী (জাতীয়)      

বেসরকারি ব্যবস্থাপনা ট্রেন পরিচালনার চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ

Logo Missing
প্রকাশিত: 10:57:23 pm, 2019-05-14 |  দেখা হয়েছে: 2 বার।

আজ ডেক্সঃ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন চালানোর চুক্তি না বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত অর্ধশতাধিক ট্রেনের লিজ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী ওসব ট্রেনের কোনো কোনোটি ২০২৫ সাল পর্যন্ত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। অথচ সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকেও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন পরিচালনায় স্বাক্ষরিত চুক্তির নবায়ন না করা ও মেয়াদ উত্তীর্ণের আগে লিজ নবায়নকৃত ট্রেনের তালিকা দিতে সুপারিশ করা হয়। ওই পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিতে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন ধরনের ট্রেন পরিচালনার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মূল চুক্তির পর বছরে ১০ শতাংশ লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি সাপেক্ষে সংশোধিত চুক্তি করা হয়েছে। আর মেয়াদ বৃদ্ধিসংক্রান্ত সংশোধিত ও বিদ্যমান ওসব চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে আর নবায়ন করা হবে না। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই ৫৫টি ট্রিপের (প্রত্যেকটি ট্রিপকে একটি ট্রেন হিসেবে ধরে) লিজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, অদক্ষতা আর অব্যবস্থাপনার কারণে রেলওয়ে খাতে প্রতি বছর বিপুল লোকসান হয়। তবে বেসরকারি খাতের ট্রেন পরিচালনাকারীরা বিপুল মুনাফা করছে। ওই কারণে বেসরকারি উদ্যোক্তারা ট্রেন পরিচালনার ব্যাপক আগ্রহী। শুধুমাত্র তদারকি জোরদারের মাধ্যমেই আয় বাড়িয়েছে লিজ নেয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। আন্তঃনগর বাদে বেসরকারি খাতে এখন ৭৩টি লোকাল ট্রেন পরিচালিত হচ্ছে। বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া ওসব ট্রেন থেকে লিজগ্রহীতারা বিপুল অর্থ আয় করছে। কিন্তু লিজ প্রদানের সময় চুক্তিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের আরোপিত শর্তের অধিকাংশই লিজগ্রহীতার পক্ষে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার। সূত্র জানায়, ঈশ্বরদী-ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ৫৫১/৫ ও ৬/৫৫৪ রাজশাহী কমিউটার ও লোকাল ট্রেনগুলো ২০১৩ সালে লিজ দেয়া হয়। যার মেয়াদ ছিল ২০১৭ সাল পর্যন্ত। কিন্তু দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর ফলে ওই রুটে চলাচলকারী ট্রেনের লিজের মেয়াদ শেষ হবে ২০২১ সালের ৩১ মে। বিগত ২০১১ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ২১১-২২২ ও ২২৫-২৩৮ লোকাল ট্রেন প্রথম লিজ দেয়া হয়। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০২১ সালের জুনে ওই লিজের মেয়াদ শেষ হবে। একইভাবে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-ঢাকা রুটে ৫১/৫২ জামালপুর কমিউটার ট্রেন ২০১১ সালে লিজ দেয়া হয়। দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর ফলে ওই রুটে চলাচলকারী ট্রেনের লিজের মেয়াদ শেষ হবে ২০২১ সালের ৩১ মে। ঢাকা-আখাউড়া-ঢাকা ও ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ঢাকা রুটে ৩৩/৩৬, ৩৪/৩৫ তিতাস কমিউটার ট্রেন ২০১৫ সালে লিজ দেয়া হয়। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ওসব ট্রেনের লিজের মেয়াদ শেষ হবে। ঢাকা-ময়মনসিংহ-ঢাকা ও ঢাকা-ঝারিয়াঝাঞ্জাইল-ঢাকা রুটে ৪৯/৫০ নং বলাকা কমিউটার ট্রেনের তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হবে। তাছাড়া ২০১৬ সালে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ৪৭/৪৮ নং দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনগুলো লিজ দেয়া হয়। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০২২ সালের এপ্রিলে ওসব ট্রেনের লিজের মেয়াদ শেষ হবে। তিন দফায় বাড়ানোর পর ঢাকা-মোহনগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ৪৩/৪৪ নং মহুয়া কমিউটার ট্রেনগুলোর লিজের মেয়াদ ২০২৪ সালের এপ্রিলে শেষ হবে। সূত্র আরো জানায়, লিজের মেয়াদ দুই দফা বাড়ানোর পর খুলনা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রহনপুর রুটে চলাচলকারী ১৫/৫৮৫/১৬ নং ট্রেনগুলোর মেয়াদ ২০২২ সালে মে মাসে শেষ হবে। একইভাবে দুই দফা বাড়ানোর পর খুলনা-গোয়ালন্দঘাট-খুলনা রুটে চলাচলকারী ২৫/২৬ নং নকশীকাঁথা এক্সপ্রেসের লিজের মেয়াদ ২০২২ সালের মে মাসে শেষ হবে। তাছাড়া খুলনা-পার্বতীপুর-খুলনা ও পার্বতীপুর-চিলাহাটি-পার্বতীপুর রুটে চলাচলকারী ২৩/২৪ নং রকেট মেইল ও ২৭/২৮ নং চিলাহাটি এক্সপ্রেসের লিজের মেয়াদ ২০২২ সালের মে মাসে শেষ হবে। তাছাড়া তিন দফা বাড়ানোর পর চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ২৯/৩০ নং সাগরিকা কমিউটার ট্রেনগুলোর লিজের মেয়াদ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে। এদিকে আগামী বছরের পর থেকে এভাবে আর কোনো ট্রেন লিজ না দেয়ার জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী জানান, ২০২০ সালের পর থেকে আর কোনো ট্রেন লিজ না দেয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়েছে। তাছাড়া রেলওয়ের নিজস্ব জনবল দিয়ে রেল পরিচালনার বিষয়েও সুপারিশ করেছে কমিটি।