ঢাকা   ২৯ জানুয়ারী ২০২০ | ১৬ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  জামালপুরে রক্তের বন্ধনের ৯ম প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উদযাপিত (জামালপুরের খবর)        পরীক্ষা কেন্দ্রে কোন ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না -জেলা প্রশাসক (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে স্যার ফজলে হাসান আবেদের স্মরণ সভা “ধন্যবাদ আবেদ ভাই” (জামালপুরের খবর)        যারা ইউটিউব চ্যানেল ও বিভিন্ন ধর্ম সভায় কৌশলে যুদ্ধাপরাধীদের কথা বলে তারা জামায়াতের প্রডাক্ট-ধর্মমন্ত্রী (জামালপুরের খবর)        মেলান্দহে জামিয়া হুসাইনিয়া আরাবিয়া’র ৬০বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ঐতিহাসিক ইসলামী মহা সম্মেলন (জামালপুরের খবর)        নির্ধারিত সময়ের ৬ মাস পরেও শেষ হয়নি কাজ (জামালপুরের খবর)        নানা অনিয়মের অভিযোগে ইসলামপুর বাইপাস সড়কের কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে, (জামালপুরের খবর)        দেওয়ানগঞ্জ ডাংধরায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শোক র‌্যালি (জামালপুরের খবর)        খুপিবাড়ী এমএম উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া মাহফিল (জামালপুরের খবর)        শাহবাজপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দূর্নীতির বিস্তার নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা (জামালপুরের খবর)      

বাংলা একাডেমিতে কবি হায়াৎ সাইফকে শেষ শ্রদ্ধা

Logo Missing
প্রকাশিত: 11:11:32 pm, 2019-05-14 |  দেখা হয়েছে: 2 বার।

আজ ডেক্সঃ লেখক, কবি, প্রকাশক ও সংস্কৃতিজনরা শেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি জানালেন কবি হায়াৎ সাইফকে। ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমাগার থেকে কবির লাশ গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় নিয়ে আসা হয় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে। প্রথমে সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজীর নেতৃত্বে বাংলা একাডেমি শ্রদ্ধা জানায়। এরপর কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করে কবি নজরুল ইন্সটিটিউট, জাতীয় কবিতা পরিষদ। শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শিরীন আখতার, অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন রামেন্দু মজুমদার, কথাশিল্পী রশীদ হায়দার, কথাশিল্পী আবু সাঈদ জুবেরী। কবিদের মধ্যে ছিলেন জাহিদুল হক, কামাল চৌধুরী, আসাদ মান্নান, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, সালেম সুলেরী, হালিম আজাদ, গৌরাঙ্গ মোহান্ত, তারিক সুজাত, আমিনুর রহমান। আরও ছিলেন লেখক আমিনুল ইসলাম বেদু। সাবেক কূটনীতিক মহিউদ্দিন আহমেদ, ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক আতাউর রহমান, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ, প্রকাশক নিশাত জাহান রানাও প্রয়াত কবির কফিনে ফুল দেন। কবির ছেলে জিসান সাইফ বাংলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার বাবার লাশ নিয়ে যাওয়া হবে গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদে, সেখানে জানাজা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানান। আগামি ২০ মে সকাল ১১টায় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে কবি হায়াৎ সাইফ স্মরণসভার আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি। কবি হায়াৎ সাইফের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, কবি হায়াৎ সাইফ অত্যন্ত নিভৃতচারী একজন মানুষ ছিলেন। পাঠক হিসেবে এবং লেখক হিসেবে ছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান একজন মানুষ। আমরা সেই মানুষকে হারালাম। শ্রদ্ধা জানানো শেষে কবি হায়াৎ সাইফ সম্পর্কে বলতে গিয়ে রামেন্দু মজুমদার বলেন, হায়াৎ সাইফ অত্যন্ত রুচিবান একজন ব্যক্তি ছিলেন। আমার সাহিত্য রুচি তৈরিতে ওর একটা অবদান ছিল। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সঙ্গে ইংরেজি বিভাগে পড়লেও বাংলা সাহিত্যে আলাদা একটা ভালোবাসা ছিল। কবি তারিক সুজাত বলেন, হায়াৎ সাইফের হাত ধরে শুধু মৌলিক কবিতা নয় বরং অসাধারণ সব অনুবাদ কবিতাও আমরা পেয়েছি। আর এই কবি সংখ্যায় কম লিখলেও মানের দিক থেকে সবগুলো অনন্য। রোববার রাত ১২টা পাঁচ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান কবি একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি হায়াৎ সাইফ। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। কিডনি জটিলতাসহ দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। ১৯৪২ সালে ঢাকায় জন্ম হায়াৎ সাইফের। সাইফুল ইসলাম খান সাহিত্যাঙ্গনে হায়াৎ সাইফ নামেই পরিচিত ছিলেন। গত শতকের ষাটের দশক থেকে লেখালেখির মাধ্যমে সাহিত্যাঙ্গনে হায়াৎ সাইফের প্রবেশ। ১৯৬২ সালে তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় তৎকালীন সমকালে। আর ১৯৮৩ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সন্ত্রাসে সহবাস’ প্রকাশিত হয়। তার ১৫টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে যার মধ্যে কবিতার সংকলন আটটি আর প্রবন্ধ সংকলন দুইটি। এ ছাড়া বিভিন্ন সাময়িকীতে তার অসংখ্য লেখাসহ ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায়ও তার কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। ১৯৯২ সালে তার লেখা সাহিত্য বিষয়ক সংকলন গ্রন্থ ‘উক্তি ও উপলব্ধি’ প্রকাশিত হয়। ২০০৪ সালে মাহবুব তালুকদারের সাথে যৌথভাবে বাংলাদেশের সমসাময়িক গদ্য নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় তার ৭৫টি কবিতার সংকলন ‘প্রধানত স্মৃতি এবং মানুষের পথচলা’। ১৯৯৮ সালে দিব্য প্রকাশ থেকে ফয়জুল লতিফ চৌধুরীর সম্পাদনায় ‘ভয়েস অব হায়াৎ সাইফ’ নামে একটি ইংরেজিতে অনুদিত কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়, এতে সংকলিত হয়েছে ৪৫টি কবিতা। ২০০১ সালে পাঠক সমাবেশ থেকে ‘হায়াৎ সাইফ: সিলেক্টেড পয়েমস’ প্রকাশিত হয়। সাহিত্যে অবদানের জন্য কবি হায়াৎ সাইফ ২০১৮ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ স্কাউটসের সাবেক জাতীয় কমিশনার (জনসংযোগ ও প্রকাশনা) এবং আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কাউটসের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া স্কাউটিংয়ে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বিশ্ব স্কাউট সংস্থার সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড ‘ব্রোঞ্জ উলফ’ এবং বাংলাদেশে স্কাউটসের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড ‘রৌপ্য ব্যাঘ্র’ অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা হায়াৎ সাইফ কর্মজীবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সদস্য ও পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। পারিবারিক জীবনে কবি হায়াৎ সাইফ তিন ছেলের জনক ছিলেন।