ঢাকা   ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  পানির দাম ৮০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক: টিআইবি (জাতীয়)        চীনকে মাস্ক-গ্লাভসসহ চিকিৎসা সামগ্রী দিল বাংলাদেশ (জাতীয়)        কচুরিপানা খেতে বলিনি, গবেষণা করতে বলেছি: পরিকল্পনামন্ত্রী (জাতীয়)        দেশে করোনা ভাইরাসের রোগী মেলেনি, আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ (জাতীয়)        শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ দ্বিতীয়: সেনাপ্রধান (জাতীয়)        ফখরুলের সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ড আছে: কাদের (রাজনীতি)        দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাসের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাংলাদেশ (জাতীয়)        খালেদার প্যারোল নিয়ে কাদেরের সঙ্গে কথা হয়নি: ফখরুল (রাজনীতি)        দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে বিতরণ কোম্পানিগুলোর ভূগর্ভস্থ লাইন নির্মাণের উদ্যোগ (জাতীয়)        বকশিগঞ্জ উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত (জামালপুরের খবর)      

শ্রীবরদী সীমান্তে বাড়ছে চোরাচালান আসছে গরু ও মাদক, হাত বদল হচ্ছে রুপি

Logo Missing
প্রকাশিত: 01:18:53 am, 2019-09-09 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

শ্রীবরদী প্রতিনিধি: শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সিংগাবরুনা ও রাণীশিমুল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে চোরাচালান। সংগবদ্ধ চোরাকারবারীরা প্রতিনিয়ত পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে চোরাই পথে মাদক, গরু ও ভারতীয় পণ্য সামগ্রী আনলেও স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পগুলো চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না বলে জানিয়েছে সীমান্ত জনপদের সচেতন মহল। একটি সূত্র জানায়, উপজেলার ২টি ইউনিয়নের সীমান্ত জনপদের গ্রামগুলোতে এখন চোরাকারবারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সিংগাবরুনা ইউনিয়নের চান্দাপাড়া, বাবেলাকোনা, হারিয়াকোনা, মারাকপাড়া, রাণীশিমুল ইউনিয়নের খারামোড়া, খ্রিস্টানপাড়া, রাঙ্গাজান সহ একাধিক গ্রাম চোরাকারবারীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। এ এলাকাগুলোতে মাদক ব্যবসা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিগত সময়ে কর্ণঝোড়া মেঘাদল বাজার সংলগ্ন জহুরুল হকের ছেলে রফিককে এক হাজার পিছ ইয়াবা সহ র‌্যাব-১১ আটক করে। মাটিফাটা গ্রামের খোকা মিয়ার ছেলে আজাদ মিয়া নিজ বাড়ী থেকে এক হাজার পিছ ভারতীয় ইয়াবা ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পথে টঙ্গী কলেজ গেটে ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়। মাটি ফাটা গ্রামের গাজী মিয়ার ছেলে মাহফুজ এবং চান্দাপাড়া গ্রামের রহমানকে বাবেলাকোনা সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সহ আটক করা হয়। এছাড়াও আটক হয় মদ, গাজা ও ইয়াবা সহ অর্ধ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে চোরাই পথে গরু ও মাদক আনতে গিয়ে বিএসএফ এর গুলিতে পঙ্গুত্ব বরণ করেন, মেঘাদল গ্রামের মহিজলের ছেলে নুরু মিয়া, বাবেলাকোনা গ্রামের বিশ্বাস, পাঁচমেঘাদলের হাছেন আলী সহ অনেকেই। নিখোজ হয়েছে পাঁচমেঘাদলের চোরহকের ছেলে, ঝুলগাঁও গ্রামের শহিজল। নিহত হয়েছে চান্দাপাড়া গ্রামের কাদির, শহিদ, বাহে, বগলাকান্দি গ্রামের কাদির, পাঁচমেঘাদল গ্রামের কলিমদ্দিন সহ অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি। তবুও থেকে নেই এই সীমান্ত অঞ্চলের চোরাচালান। হুন্ডির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত হাত বদল হচ্ছে কয়েক লক্ষ টাকা। এ অঞ্চলের হুন্ডি ব্যবসা নিয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ১২জনকে অভিযুক্ত করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও দীর্ঘদিনেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তালিকাভূক্ত হুন্ডি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। কর্ণঝোড়া সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকার বিশাল বনভূমি পাহাড়ি অঞ্চল থাকায় ভারতীয় মালামাল আনা নেওয়ার জন্য চোরাকারবারীরা তিনটি যাতায়াত পথ ব্যবহার করছে। এদের মধ্যে মারেংপাড়া, গোজংপাড়া এবং বাক্তাপাড়া। এছাও রয়েছে দুপায়ের অসংখ্য চোরাইপথ। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত সোর্সরা এসকল চোরাচালান ব্যবসা থেকে প্রতিনিয়ত মাসোয়ারা উত্তোলন করে আসছে। এর মধ্যে সীমান্ত এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিপ্লব নামের এক গ্যাংস্টার। এই বিপ্লব কর্ণঝোড়া এলাকার হারুনের ছেলে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিগত সময়ে এই বিপ্লবের বিরুদ্ধে টাকা ছিনতাই ও মোটর সাইকেল চুরির অভিযোগও আছে। স্থানীয় এক হুন্ডি ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, প্রতিটি চোরাচালান পন্য থেকেই বিপ্লব মাসোয়ারা তুলে থাকে। তাই তাকে মাসোয়ারা দিয়েই ব্যবসা করতে হয়। স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানায়, এলাকাবাসীরা জানায়, চোরাচালান ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুটি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর আদিবাসী ব্যক্তিদের ব্যবহার করা হচেছ। অভাবের তারনায় আদিবাসীরা জীবনের ঝুকি নিয়ে ভারতে গিয়ে চোরাই পথে মালামাল আনছে। গত শুক্রবার রাতে ভারতীয় রুপি ও ইয়াবা সহ উপজেলার খাড়ামোড়া গ্রাম থেকে এক আদিবাসীসহ স্থানীয় এক যুবককে আটক করে বিজিবি। তবুও কোন ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না চোরাই পথে ভারতে যাওয়া আসা। চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস নেই কারো। গত ৩১ আগষ্ট শনিবার চান্দাপাড়া গ্রামের নুর আমিনের আইজল মিয়া ভারত থেকে চোরাই পথে পাঁচটি গরু আনার সময় বিএসএফের হাতে আটক হয় গরু। এঘটনাকে কেন্দ্র করে হারিয়াকোনা গ্রামের আদিবাসী যুবক মিঠুন সাংমাকে দোষারুপ করে জনসম্মুখে মেরে ফেলার হুমকি দেয় কর্ণঝোড়া এলাকার ইসমাইলের ছেলে সানু ও চান্দাপাড়া নুর আমিনের ছেলে আইজল। মিঠুন জানায়, চোরাকারবারীরা আমার বাড়ীতে মদ রেখে আমাকে চালান দিবে বলে শাসিয়ে যায়। আমি বর্তমানে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। এখানেও শেষ নয়, এমন ধরনের হুমকি ধামকিতে আজ সীমান্ত অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ আতংকে রয়েছে। খাড়ামোড়া এলাকার এক বাসিন্দা জানায়, প্রতি রাতেই রাঙ্গাজান ও খাড়ামোড়া দিয়ে ভারতীয় গরু আসছে। তাওয়াকুচা বিজিবি ক্যাম্পের কতিথ সোর্স আফসার জানায়, আগের তুলনায় এখন গরু আসছে কম। বিএসএফ সমস্যা করছে। তবে বিএসএফের সমস্যা না থাকলে গরু আসা বৃদ্ধি পাবে। সে আরও জানায়, এসকল পন্য এলে এলাকার মানুষ অর্থনীতি ভাবে লাভবান হবে। স্থানীয় এলাকাবাসী শ্রীবরদী উপজেলার সিংগাবরুনা ও রাণীশিমুল ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বন্ধে বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।