ঢাকা   শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  সুনামগঞ্জে শিশু তুহিন হত্যা: বাবার পক্ষে লড়বেন না কোনো আইনজীবী (আইন ও বিচার)        যেখানে দুর্নীতি-টেন্ডারবাজি, সেখানেই অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)        সড়কে দুর্ঘটনা এাড়তে সবাইকে সচেতন হবার আহবান প্রধানমন্ত্রীর (জাতীয়)        বাংলাদেশের কৃষি এখন বিশ্বের অন্যতম রোল মডেলু: খাদ্যমন্ত্রী (জাতীয়)        প্রচুর অন্যায় এদেশে গেড়ে বসে আছে: পরিকল্পনামন্ত্রী (জাতীয়)        জামালপুরে ঘুষের টাকাসহ হাসপাতাল কর্মচারী আটক (জেলার খবর)        আজারবাইজানের ন্যাম সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী (জাতীয়)        সংবাদকর্মীদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস তথ্য প্রতিমন্ত্রীর (জাতীয়)        আবরার হত্যা নিয়ে বিএনপির নোংরা রাজনীতি পরিহার করা উচিত: হানিফ (রাজনীতি)        জামালপুরে শিশু নির্যাতন সম্পর্কে স্বভাব নেতাদের সাথে কর্মশালা (জামালপুরের খবর)      

মহামারি চেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয় সড়ক দুর্ঘটনায়: সুলতানা কামাল

Logo Missing
প্রকাশিত: 12:23:05 am, 2019-09-14 |  দেখা হয়েছে: 6 বার।

ঢাকা ডেক্স: মহামারি থেকেও সড়ক দুর্ঘটনায় বেশি মানুষ নিহত হয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মানিক মিয়া হলে যাত্রী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। পরিবহন খাত সামগ্রিক সুশাসনের বিষয় মন্তব্য করে সভায় সুলতানা কামাল বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, সুশাসন ফিরিয়ে আনতে না পারলে এভাবেই চলবে। অনেক সমস্যার মধ্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যা। প্রতিদিন রাস্তায় মানুষ মারা যাচ্ছে। মহামারির চেয়েও বেশি মানুষ মরছে। এটা তো একটা দেশে হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের দায়িত্ব আছে। রাজনীতিবিদদেরও দায়িত্ব আছে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় আছে। আওয়ামী লীগ জনমানুষের দল। অন্য যেকোনো দলের চেয়ে মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বেশি। কিন্তু তারা নাগরিকদের নাগরিক বোধ দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ক্রমে তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন প্রজায় পরিণত হয়েছি। অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, বর্তমানে আমাদের সমাজে একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাস্তা ভালো না, ট্রাফিক পুলিশ ঘুষ খায়, আরও অনেক সমস্যার কথা বলতে শুনি। কিন্তু কথা হচ্ছে এগুলোর কারণে যাত্রীরা কেন ভোগান্তির শিকার হবে? তিনি বলেন, কাজের জন্য প্রতিদিনই আমাদের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। এখন গাড়িতে উঠে আমরা বসার জায়গা পাব কিনা সেটা নিয়ে ভাবি না, ভাবি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবো কিনা! মেয়েরা ভাবে সম্মান নিয়ে, ধর্ষিত না হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবো তো! সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা কেউ-ই যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের দায়িত্বটা পালন করছিনা। দায়িত্ব ও দোষ সব সময় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেই। দুর্ঘটনার কারণ কী তা বের করার চেষ্টা করি না। যারা দায়িত্বশীল জায়গায় রয়েছে, তারা দায়িত্ব এড়িয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন। এসব সম্ভব হচ্ছে সুশাসনের অভাবের কারণে। তিনি আরও বলেন, সড়কের সঙ্গে জড়িত সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এটা মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধানের প্রশ্ন। এটা মানুষের সুস্থ থাকার প্রশ্ন, মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন। সুলতানা কামাল বলেন, গতকাল দেখলাম আমাদের অর্থনীতি হংকং-সিঙ্গাপুরকেও ছাড়িয়ে গেছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এটা আমার জন্য অনেক গর্বের বিষয়। আমরা যখন এই দেশকে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে তুলনা করি, তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনা করলে চলবে না। এখন কিন্তু সরকারি দলের লোকেরাই হংকং-সিঙ্গাপুরের সঙ্গে তুলনা করছেন। আমি পেশাগত কারণে এক বছর হংকংয়ে বসবাস করেছি। হংকং একটা ছোট্ট দ্বীপময় রাষ্ট্র। আমি যে দ্বীপে বাস করতাম, সেখানে যাওয়া-আসার জন্য সমুদ্রের পাড় ঘেঁষে একেবারে খাড়া রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হতো। কিন্তু এই এক বছরে একদিনের জন্যও সেখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। কারণ সেখানে কোনো আনফিট গাড়ি চলে না। সেখানকার চালকেরা প্রশিক্ষিত ও দায়িত্ববান। হংকংয়ের চালকদের যে মানুষরা চালান, তারাও দায়িত্বশীল। পাশাপাশি সরকারই সেখানকার মালিকদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। পরিবহন ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে এই মানবাধিকারকর্মী বলেন, আমাদের দেশের চালকরা এখনও ট্রিপে গাড়ি চালায়। এটা কোন ধরনের মানবিকতা? তারা আট ঘণ্টার চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করে। আমরা বারবার বলেছি, তাদের একটা নির্দিষ্ট বেতনের আওতায় নিয়োগ দেন। কিন্তু তা এখনও কার্যকর করা হচ্ছে না। বাস চালকদের ক্ষেত্রে আপনারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছেন। রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কথায় কথায় বলেন, আপনারা দেশ ও গণমানুষের স্বার্থে কাজ করছেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন, আপনারা মানুষের চেতনাবোধ কতটুকু সচেতন করতে পেরেছেন? অবশ্যই যাত্রীদেরও দোষ আছে। পুলিশ ধরবে সেই ভয়ে তারা নিজে মাথায় হেলমেট পরে। কিন্তু পরিবার ও ছোট্ট শিশুর মাথায় হেলমেট থাকে না। কোথায় তাদের চেতনাবোধ? কেন আমরা ফুটওভার ব্রিজে উঠি না? কেন কাঁটাতারের মাঝ দিয়ে এবং কংক্রিট পেড়িয়ে রাস্তা পার হই? দেশের জনগণের চেতনাবোধ জাগ্রত করতে না পারার বিষয়ে আমি রাজনীতিবিদদেরই দোষারোপ করব। সরকারকে উদ্দেশ্য করে সুলতানা কামাল বলেন, আপনারা যেহেতু দাবি করেন, আপনারা দেশের উন্নয়নে জনসাধারণের স্বার্থে রাজনীতি করেন এবং দেশের জনগণের সেবা করার জন্য রাজনীতি করেন; আপনারা একটু প্রমাণ করে দেখান যে, আমরা যারা রাস্তায় চলাচল করি, আমাদের নিরাপত্তা বিধান করতে আপনারা ব্যর্থ হন নাই। সভায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাংসদ মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, ৭০ শতাংশ সাংসদই কোটিপতি। তাঁরা তো গত ৩০ বছরেও বাসে চড়েননি। তাহলে সাধারণ মানুষের কষ্ট তাঁরা কী করে সংসদে বলবেন? সাধারণ মানুষের চেয়ে ভিআইপিরাই সড়কে বেশি নিয়মশৃঙ্খলা ভাঙেন। যাঁরা আইন করেন, তাঁরাই তা পরের দিন ভঙ্গ করেন। ‘ফ্লাইওভার নির্মাণের সংস্কৃতি’ বন্ধ করা উচিত, এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, একের পর এক ফ্লাইওভার করা হচ্ছে। এ ফ্লাইওভারগুলোতে কয়টা বাস ওঠে আর কয়টা প্রাইভেট কার ওঠে? উন্নয়ন করেন ভালো কথা কিন্তু এই উন্নয়ন কি ধনীদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য, নাকি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য? গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সড়কে প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। অথচ নিকটাত্মীয় কেউ মারা না গেলে এটা কোনো বিষয়ই না। আমরা প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা পড়ছি। এটা নিছক একটা সংখ্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে। অথচ জনগণ কী সেবা পেল, তা বলা হচ্ছে না। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান। দিনটি উপলক্ষে যাত্রী কল্যাণ সমিতি যাত্রী অধিকার দিবস পালনের ঘোষণা করেছে। সভায় সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ১৯ বছর আগে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে। যাত্রীদের বঞ্চনা, নিপীড়ন, হয়রানি, ভাড়ানৈরাজ্য গণমাধ্যমে তুলে ধরার মাধ্যমে সরকারে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছি। গণপরিবহনে যাত্রীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা উল্লেখযোগ্য ভ‚মিকা রাখার চেষ্টা করেছি। এতে কখনো কখনো সরকার, কখনোবা কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর চক্রান্তের শিকার আমাদের হতে হয়েছে। তবু আমরা পিছপা হইনি। আমাকে যখন চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার করা হলো, অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলা দেওয়া হলো, এ দেশের গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ সমাজ তখন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছিল। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরও অংশ নেন- গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, সংসদ সদস্য মাঈনুদ্দিন খান বাদল প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা ও নাগরিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। সংবাদ সম্মেলন থেকে যাত্রী সাধারণের হয়রানি বন্ধে প্রতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বরকে ‘যাত্রী অধিকার দিবস’ হিসেবে পালন করার ঘোষণা দেওয়া হয়।