ঢাকা   শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  সুনামগঞ্জে শিশু তুহিন হত্যা: বাবার পক্ষে লড়বেন না কোনো আইনজীবী (আইন ও বিচার)        যেখানে দুর্নীতি-টেন্ডারবাজি, সেখানেই অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)        সড়কে দুর্ঘটনা এাড়তে সবাইকে সচেতন হবার আহবান প্রধানমন্ত্রীর (জাতীয়)        বাংলাদেশের কৃষি এখন বিশ্বের অন্যতম রোল মডেলু: খাদ্যমন্ত্রী (জাতীয়)        প্রচুর অন্যায় এদেশে গেড়ে বসে আছে: পরিকল্পনামন্ত্রী (জাতীয়)        জামালপুরে ঘুষের টাকাসহ হাসপাতাল কর্মচারী আটক (জেলার খবর)        আজারবাইজানের ন্যাম সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী (জাতীয়)        সংবাদকর্মীদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস তথ্য প্রতিমন্ত্রীর (জাতীয়)        আবরার হত্যা নিয়ে বিএনপির নোংরা রাজনীতি পরিহার করা উচিত: হানিফ (রাজনীতি)        জামালপুরে শিশু নির্যাতন সম্পর্কে স্বভাব নেতাদের সাথে কর্মশালা (জামালপুরের খবর)      

কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বকশিগঞ্জ মাদারের চর গুচ্ছগ্রাম বসবাসে অনুপযোগী, মানুষের ঘরে বাস করছে গরু ছাগল

Logo Missing
প্রকাশিত: 01:00:07 am, 2019-09-15 |  দেখা হয়েছে: 17 বার।

মোহাম্মদ আলী নেই বিদ্যুৎ ও পানি। নেই ঘরের ভিটি। বেড়ার নীচ দিয়ে ঢুকে কুকুর বিড়াল ও ইদুরের দল। ভেঙ্গে পরছে ল্যাট্রিন, অকেজু নলকূপ। বসবাসের অনুপযোগী বলে ঘর পেয়ে থাকছেন না আশ্রিতরা। মানুষের ঘরে বাস করছে গরু ছাগল। বকশিগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের মাদারের চর গুচ্ছগ্রামের চিত্র এটি। জানা যায়, গত বছর ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয় মাদারের চর গুচ্ছগ্রামটি। ওই বছরের শেষের দিকে উপজেলার দরিদ্র, ভমিহীন ও নদী ভাঙ্গনে গৃহহারা ৯০টি পরিবারের মাঝে গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলো আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর প্রায় ৬মাস পর শনিবার ৭ সেপ্টেম্বর গ্রামটির মানুষের জীবন যাপনের অবস্থা সম্পর্ক্যে জানতে সরেজমিন গিয়ে গুচ্ছগ্রামের চিত্র দেখে মনে হয়েছে এটি যেন কোনো মানুষের বসতি নয়, এটি যেন একটি বিরান ভূমি। ৯০টি পরিবারের মধ্যে মাত্র ৩টি পরিবার বসবাস করছেন এ গুচ্ছগ্রামে। তারা হলেন, মতি মিয়ার আবুল ও মোফাজ্জলের পরিবার। বাকী ঘরগুলোতে কোনোটাতে তালা, কোনোটার দরজা জানলা খোলা পরে আছে, আবার কোনোটাতে গরু ছাগল বাস করছে। ভেঙ্গে পরছে ল্যাট্রিন, অকেজু হয়ে পরে আছে টিউবওয়েল সংযোগ। মাদারের চর গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারী ৩জনের একজন মতি মিয়া জানান, এখানে যারা ঘর পেয়েছে তারা বেশিরভাগই কর্মহীন দিন মজুর শ্রেণির মানুষ। তারা তাদের জীবন যাপনের প্রয়োজনেই এখানে থাকে না। তাছাড়া গুচ্ছগ্রামে বিদ্যুৎ নেই, নেই সোলারের ব্যবস্থাও, টিউবওয়েলের সংযোগ থাকলেও নেই মাথা। বসবাসের প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো এখানে নেই বল্লেই চলে। তাই, এখনও বসবাসের পরিবেশ গড়ে উঠেনি। জনৈক তোগান মন্ডল, ঘর পেলেও তিনি থাকে না এখানে। তার ঘরে থাকে গরু ছাগল। গুচ্ছগ্রামের অপর এক বাসিন্দা জালাল মন্ডল বলেন, আমি ও আমার ভাই ভাতিজাদের নামে ৮টি ঘর পেয়েছি। একটি দিয়েছি চাচাতো ভাই দুলাকে, আরেকটি আরেক চাচাতো ভাই সাদাকে, ভাতিজা লিংকন, আলমের মা ভাবী, আমার মেয়ে বিলকিছ আরেক মেয়ে শিউলিকে দিয়েছি একটি। বাকী দুইটি ঘর আমার নামে রেখেছি। কিন্তু কোনোটাতেই আমরা কেউ থাকি না। কারণ ঘর গুলো বসবাসের উপযুক্ত নয়। ঘরের ভিটি নেই, বেড়ার নীচ দিয়ে কুকুর বিড়াল ঢুকে, ঘরের মধ্যে ইদুর গর্ত করে মাটি তুলে, নেই বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। ৯০টি পরিবারের মধ্যে মাত্র ১৫টি টিউবওয়েল দেওয়া হয়েছিল তারমধ্যে বোধহয় ২/৩টি সচল রয়েছে। এমতবস্থায় একজন সুস্থ্য মানুষ এখানে বসবাস করতে পারে না, বলেও জানান তিনি। তবে, গুচ্ছগ্রামে বউ ছেলে মেয়ে নিয়ে ভালই আছেন মোফাজ্জল। তিনি বলেন, যাদের যাওয়ার জায়গা আছে তারা চলে গেছে। আমার নেই বলে আমি এখানেই রয়েগেছি। এ ব্যাপারে বকশিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ণ কর্মকর্তা, হাসান মাহবুব খান বলেন, বসবাসে অনুপযোগী নয়, আসলে যাদের নামে ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তারা বেশিরভাগই কাজের প্রয়োজনে বাইরে থাকেন। গত সপ্তাহে ইউএিনও স্যার, এসিল্যান্ড স্যার ও আমি গুচ্ছগ্রাম পরিদর্শ করেছি। যারা ঘর পেয়েও থাকেন না তাদেরকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!