ঢাকা   ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  ১০ ডিসেম্বর : জামালপুর হানাদার মুক্ত দিবস পালিত (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষের সমাপনী সভা (জামালপুরের খবর)        মাদারগঞ্জ আন্তর্জাতিক দূর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে জাতীয় ভ্যাট দিবস পালিত (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে মানবাধিকার দিবস পালিত (জামালপুরের খবর)        শ্রীবরদীতে অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত (জামালপুরের খবর)        লটারির মাধ্যমে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়েছে কৃষকরা (জামালপুরের খবর)        জঙ্গিবাদ বিরোধী অলআউট প্রচেষ্টায় অনেকটাই সফল হয়েছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)        আমাদের মানবাধিকার হরণ করা হয়েছে: ফখরুল (রাজনীতি)        ১৬ ডিসেম্বর থেকে রাষ্ট্রীয় সব অনুষ্ঠানে জয় বাংলা বলতে হবে: হাইকোর্ট (জাতীয়)      

ক্রমাগত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিদেশী শ্রমবাজার জনশক্তি রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব

Logo Missing
প্রকাশিত: 02:01:53 pm, 2019-10-05 |  দেখা হয়েছে: 3 বার।

আ.জা. ডেক্স:

বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিদেশী শ্রমবাজার। বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত ৭ বছর ধরেই বন্ধ হয়ে আছে। একইভাবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়া ও বাহরাইনের মার্কেটও বন্ধ হয়ে রয়েছে। মালদ্বীপ সরকার তার দেশে এক বছরের জন্য বাংলাদেশ থেকে কর্মী না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ ধনী দেশ কাতার সরকারও কিছু দিন ধরে বাংলাদেশী কর্মীদের নামে ভিসা ইস্যু করছে না। যেকোনো সময় কাতারের শ্রমবাজারটিও হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর এভাবে একের পর এক শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনশক্তি রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে নতুন করে জাপানে বাংলাদেশী শ্রমিক যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে যেভাবে একেকটি দেশের শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে নিতে সিন্ডিকেট গড়ে উঠছে, তাতে জনশক্তি রফতানি ব্যবসায় সম্পৃক্তরা রীতিমতো শঙ্কিত। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং বায়রা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী শ্রমিক গেছে ৪ লাখ ১৭ হাজার ৮৪ জন। তার মধ্যে সৌদি আরবে গেছে সবচেয়ে বেশি ৪৪ হাজার ৭১৩ জন শ্রমিক। এরপরের অবস্থানে রয়েছে জর্ডান। ওই দেশটিতে গেছে ১২ হাজার ১২৩ জন। ওমানে গেছে ৭ হাজার ৯২৭ জন। আর কাতারে এ সময়ের মধ্যে গেছে ২ হাজার ৫২৩ জন। তবে ৮ মাসে বিদেশে যত জনশক্তি রফতানি হয়েছে, তার মধ্যে ৭১ হাজার ৯৪৫ জন নারী শ্রমিক পাড়ি জমিয়েছেন। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিসংখ্যানের তথ্যানুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৫৯ হাজার ৩৭ জন শ্রমিক বিদেশে গেছে। মার্চ মাস পর্যন্ত ওই ধারা অব্যাহত থাকে। এপ্রিল ও মে মাসে বেড়ে আগের অবস্থায় ফিরে আসে। কিন্তু জুন মাসে সেটি আবার কমে যায়। জুলাই মাসে বেড়ে ৫২ হাজার ৫৮ জনে দাঁড়ায়। কিন্তু এক মাসের ব্যবধানে অর্থাৎ আগস্ট মাসে সেটি কমে ৩২ হাজার ২৭২ জনে এসে ঠেকে। মানে জুলাই থেকে আগস্ট- এক মাসের ব্যবধানে ২০ হাজার শ্রমিক বিদেশে কম রফতানি হয়। অথচ দুই বছর আগেও বাংলাদেশ থেকে এক বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ শ্রমিক বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল। আর ওই ধারা থেকে বেরিয়ে এখন শ্রমিক যাওয়ার হার কমতে কমতে জনশক্তি রফতানি গড়ে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

সূত্র জানায়, বিগত ২০১২ সাল থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৃহৎ শ্রমবাজারটি বন্ধ হয়ে আছে। দেশটির সরকার বাংলাদেশ থেকে শুধু নারী শ্রমিকের জন্য ভিসা দিলেও পুরুষ শ্রমিক নিতে অদ্যাবধি গড়িমসি করছে। কী কারণে তারা গড়িমসি করছে, তা পরিষ্কার করেও বলছে না। তবে এ নিয়ে দেশটিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করেও এর কোনো কিনারা করতে পারেননি। এমনকি ঢাকা থেকে একাধিকবার প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী দেশটি সফর করে ইউএই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে অনুরোধ জানানোর পরও সাড়া মিলছে না। একইভাবে ২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়া সরকার এসপিএএ সিস্টেম বন্ধ করে রেখেছে। ওই মার্কেটটিও খুলবে খুলবে করেও খুলছে না। ওই শ্রমবাজার আদৌ খুলবে কি না তা নিয়ে সরকার তথা ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। একইভাবে চুরি, ছিনতাই, খুনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে আগেই বাহরাইন সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সম্প্রতি মালদ্বীপ সরকার আগামী এক বছর তার দেশে বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য ভিসা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাতারে দুই নেপালি খুনের ঘটনায় বাংলাদেশীদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই এর প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারে। দুই সপ্তাহ ধরেই দেশটির লেবার মিনিস্ট্রি বাংলাদেশী শ্রমিকদের নামে কোনো ভিসাই ইস্যু করছে না। তাছাড়া সৌদি সরকার আগামী বছর থেকে বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা না দেয়ার একটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। তা হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে বড় ধরনের একটি ধাক্কা আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে হিসাব করে এগুতে। একই সাথে বিভিন্ন দেশে ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে পাঠাতে হবে। নতুবা শ্রমবাজারে আরো অধঃপতন হতে থাকবে।

সূত্র আরো জানায়, বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারগুলো বন্ধ এবং সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিক যাওয়ার হার কমার অন্যতম কারণ হিসেবে সিন্ডিকেশনের অতি উৎসাহীকরণ দায়ী। মালয়েশিয়া সরকার আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, তারা বাংলাদেশ থেকে তিন বছরে পর্যায়ক্রমে ১৫ লাখ শ্রমিক নেবে। কিন্তু সেখানে দুই বছরে গেছে মাত্র পৌনে ৩ লাখ শ্রমিক। এর পরই সিন্ডিকেশনের কারণে দেশটির সরকার এসপিএএ সিস্টেম বাতিল করে দেয়; যার কারণে বাকি শ্রমিকেরা আর যেতে পারেননি। আর তা হয়েছে শুধু সিন্ডিকেশনের ভেতরে তৈরি হওয়া একাধিক গ্রæপ তৈরি হওয়ার কারণে। এই নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে এমন প্রতিযোগিতাও অন্যতম কারণ। আর এটি শুধু মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে নয়; দুবাই, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে সিন্ডিকেটের থাবা পড়েছে। এর মধ্যে তারা কেউ মেডিক্যাল সিন্ডিকেট করছে, কেউ ভিসা সিন্ডিকেট করছে। সৌদি আরবের লেবার ল অনুযায়ী বিদেশী কর্মী নিয়োগে কর্মীর কাছ থেকে কোনো ধরনের অভিবাসন ব্যয় নেয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু তার পরও কি দেশটিতে কেউ বিনা পয়সায় যেতে পারছে? তাছাড়া বিদেশে শ্রমবাজার বন্ধ ও শ্রমিক যাওয়ার গতি কমে যাওয়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রিক্রুটিং এজেন্সির সাথে মন্ত্রণালয় তথা সরকারের মধ্যে আস্থার সঙ্কট তৈরি হওয়া। এই দূরত্ব না কমানো পর্যন্ত শ্রমবাজারে কোনো দিনও চাঙ্গাভাব ফিরে আসবে না। সরকারের মাইগ্রেশন পলিসি (আইনকানুন) কন্ট্রোল করার প্রচেষ্টা বেশি; যার কারণে শ্রমবাজার দৃশ্যমান হচ্ছে না।

এদিকে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিদেশী শ্রমবাজার প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান জানান, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালদ্বীপসহ যেসব শ্রমবাজার এখনো বন্ধ আছে সেগুলো খোলার ব্যাপারে আমাদের মন্ত্রী আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার মার্কেট নিয়ে বেশ কিছু অগ্রগতি রয়েছে। মন্ত্রী নিজেই সেটি তদারকি করছেন। আশা করছি এই মাসের শেষ নাগাদ অথবা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়াতে সেই প্রটোকলে সই হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর দুবাই মার্কেট বন্ধ থাকার বিষয়ে মন্ত্রী কয়েকবার দেশটি ভিজিট করেছেন। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে মার্কেটটি খোলার একটা সম্ভাবনা আছে। সে ব্যাপারে মন্ত্রণালয় সারাক্ষণ তদারকি করছে। তাছাড়া মালদ্বীপে অদক্ষ ছাড়া বাকি সব সেক্টরে শ্রমিক যাওয়া চালু আছে। অবশ্য বিদেশী কোটা নিরূপণের জন্য তারা আপাতত শ্রমিক নেয়া স্থগিত রেখেছে। যাচাই-বাছাই শেষে তারা আবার শ্রমিক নেয়া শুরু করবে। আমাদের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কাছে সৌদি আরবের যে ভিসাগুলো আছে, সেগুলো তারা নানাবিধ কারণে প্রসেস করতে পারেনি। এর মধ্যে দুই শতাধিক লাইসেন্সের কার্যক্রম দূতাবাসে স্থগিত হয়ে আছে। এগুলো প্রসেসিং করা গেলে তখন দেখা যাবে এই মাসে অথবা আগামী মাসেই কর্মী যাওয়ার হার বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে এ বিষয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর বহির্গমন শাখার পরিচালক মো: মুজিবর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থ বলে জানান। বিএমইটির পরিসংখ্যানে সেপ্টেম্বর মাসে কত শ্রমিক গেছেন সেটি জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বহির্গমন শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেও বৈধপথে শ্রমিক যাওয়ার হার কমছে।