ঢাকা   শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  সুনামগঞ্জে শিশু তুহিন হত্যা: বাবার পক্ষে লড়বেন না কোনো আইনজীবী (আইন ও বিচার)        যেখানে দুর্নীতি-টেন্ডারবাজি, সেখানেই অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)        সড়কে দুর্ঘটনা এাড়তে সবাইকে সচেতন হবার আহবান প্রধানমন্ত্রীর (জাতীয়)        বাংলাদেশের কৃষি এখন বিশ্বের অন্যতম রোল মডেলু: খাদ্যমন্ত্রী (জাতীয়)        প্রচুর অন্যায় এদেশে গেড়ে বসে আছে: পরিকল্পনামন্ত্রী (জাতীয়)        জামালপুরে ঘুষের টাকাসহ হাসপাতাল কর্মচারী আটক (জেলার খবর)        আজারবাইজানের ন্যাম সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী (জাতীয়)        সংবাদকর্মীদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস তথ্য প্রতিমন্ত্রীর (জাতীয়)        আবরার হত্যা নিয়ে বিএনপির নোংরা রাজনীতি পরিহার করা উচিত: হানিফ (রাজনীতি)        জামালপুরে শিশু নির্যাতন সম্পর্কে স্বভাব নেতাদের সাথে কর্মশালা (জামালপুরের খবর)      

মাদক পাচারের নতুন পথ এখন জামালপুর

Logo Missing
প্রকাশিত: 12:37:43 pm, 2019-10-07 |  দেখা হয়েছে: 14 বার।

আ.জা. ডেক্স:

জামালপুর জেলার ভারতীয় সীমান্তবতি দেওয়ানগঞ্জ,বকসিগঞ্জ উপজেলা হওয়ায় মাদক পাচারের নতুন পথ এখন জামালপুর। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এসব উপজেলা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তÍবতি হওয়ার সুবাধে ওপাড় থেকে ইয়াবা ফেন্সিডিল,গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন জাতের নেশা জাতীয় মাদক দ্রব্য দেদাচ্ছে ঢুকছে।

জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তথ্যনুযায়ী গত জুন মাস থেকে আগষ্ট/১৯ পর্যন্ত গত ৩মাসে জামালপুর জেলায় ১৬৬.৯৫গ্রাম হেরোইন, ২৪হাজার ৮শ ৬০পিছ ইয়াবা, ৩ বোতল বিদেশী মদ, ৩২কেজি গাঁজা, প্রায় ২০৮ লিটার চোলাই মদ, ১০০লিটার ওয়াশ, নেশা জাতীয় ইঞ্জেকশন ১পিছ উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। যার আনুমানিক মুল্য ৯৩লাখ ৭২হাজার ৫শ পচাত্তর টাকা। কিন্তু মায়ানমার সীমান্ত কড়াকড়ির পর হঠাৎ জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ, বকসিগঞ্জ উপজেলা দিয়ে ব্যাপক ভাবে মাদক আটকের ঘটনায় এলাকাবাসী শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তার কারণ ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর/১৯ পর্যন্ত শুধু এক মাসে সারা জেলায় ৮৬ গ্রাম হেরোইন, ৩৭ হাজার ১শ ৭৯পিছ ইয়াবা, ৮ বোতল বিদেশী মদ, ১৫ বোতল ফেন্সিডিল, প্রায় ১০ কেজি গাঁজা, ৩৪০লিটার চোলাই মদ যার আনুমানিক মুল্য ১ কোটি, ২২লক্ষ,৭ হাজার ৮শত টাকার মাদক শুধু পুলিশের কাছে আটক হয়। এ ছাড়া বর্ডারগাড (বিজিবি) এর ৩৫ ব্যাটালিয়ান এবং র‌্যাব-১৪ এর পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত আটক করছে মাদক।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, জামালপুর পুলিশ সুপারের নির্দেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যেদের কড়া নজরদারির কারণে গত সেপ্টেম্বর এক মাসে পুলিশের মাদক উদ্ধার এবং আটকের ঘটনায় ১৮০টি মাদক মামলায় ২৪০জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। জামালপুরের পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন (বিপিএম পিপিএম বার), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল রকিবুল ইসলাম রাসেল এবং দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি মইনুল ইসলামের নির্দেশে গত ১৪ সেপ্টেম্বর/১৯ইং তারিখে দেওয়ানগঞ্জের তারাটিয়া তদন্ত কেন্দ্রের আইসি পরিদর্শক ফরহাদ আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ২০ হাজার পিছ ইয়াবার বড় একটি চালান আটক করতে সক্ষম হন।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানাধীন সানন্দবাড়ি তদন্ত কেন্দ্রের আইসি, পরিদর্শক হাবিবুর রহমানের নের্তৃত্বে একদল পুলিশ সানন্দবাড়ি বাজার থেকে ৩ শ ৮৫পিছ ইয়াবাসহ একজনকে আটক করেন একই দিনে বাংলাদেশ বর্ডারগার্ড (বিজিবি) ৩৫ ব্যাটালিয়ানের সদস্যেরা বকসিগঞ্জের ধানুয়া কামালপুর এলাকায় রৌমারী-ঢাকা গামী একটি বাসে তল্লাসী চালিয়ে ১ হাজার ৮ পিছ ইয়াবাসহ এক নারী মাদক চোরা কারবারী আটক করেন। এসব মাদক দ্রব্য জেলা পুলিশের সাফল্যের পাশাপাশি, বিজিবি, র‌্যাব সমান তালে মাদক আটক করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জেলা পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন ও বিশিষ্ট মানবাধিকার নেতা জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, বর্তমানে জামালপুর জেলায় ব্যাপক হারে বিভিন্ন মাদকে ছেয়ে গেছে। জেলা পুলিশের পাশাপাশি, বিজিবি, র‌্যাব প্রচুর মাদকদ্রব্য আটক করছেন, সে তুলনায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ কোন চমক দেখাতে পারেনি। তিনি বলেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের কাজটা কি? কেন তারা মাদক আটকে ব্যর্থ? এমন প্রশ্ন এলাকারবাসির সকলের। এ বিষয়ে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তার জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের লোকবল ও যানবাহন সংকটের কারণে অভিযান পরিচালনা করা দুস্কর বলে উল্লেখ করেন। এই নতুন পথে বড় ধরনের ইয়াবা চালান আটক হওয়ার কারণে বিষয়টি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যেসহ এলাকাবাসিকে ভাবিয়ে তুলেছেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ভারতীয় সীমান্ত থেকে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী, রাজীবপুর উপজেলার খেয়ারচর, দাঁতভাঙা, আগলার চর দিয়ে এবং জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জের ডাংধরা,পাথরের চর, বাঘারচর, বকসিগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর সীমান্ত দিয়ে, ইয়াবার, ফেন্সিডিল, গাঁজার বড় বড় চালান ঢুকছে। অধিকাংশ মাদক দ্রব্য সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে সড়ক পথে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ডাংধরা, সান্দবাড়ী, তারাটিয়া বাজার হয়ে জামালপুর এবং রাজিবপুর-রৌমারী থেকে ডাংধরা- ধানুয়া কামালপুর হয়ে বকসিগঞ্জ উপজেলা দিয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। অপরদিকে রাজিবপুর-রৌমারী থেকে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর নৌ-পথে দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, ও মেলান্দহ উপজেলা দিয়ে জামালপুর হয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে এসব মাদক দ্রব্য।

এব্যাপারে ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক ল্যা: কর্নেল আজাদ এর কাছে মাদাক প্রবেশের রোড সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উল্লেখ করেন যাদের আটক করা হয়েছে, তারা জানিয়েছে রৌমারী-রাজিবপুর সীমান্ত দিয়ে মাদক আসছে।

এ বিষয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন (বিপিএম পিপিএম বার) বলেন কুড়িগ্রামের রাজিবপুর, রৌমারী এবং জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ ও বকসিগঞ্জ উপজেলা গুলো ভারতের সীমান্তবর্তি। তাই এসব উপজেলায় অতি সহজেই ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজাসহ নেশা জাতীয় বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার হয়ে আসছে। হঠাৎ এই পথে মাদক পাচরের বিষয়টি বেশ ভাবিয়েই তুলেছে। তবে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতার কারণে মাদক পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরাও পড়ছে। সেই জন্যে পাচারকারিরা তেমন সুবিধা করতে পারছে না বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, এ অঞ্চলে ভারতীয় ও বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা মাদক পাচারে জড়িত। আগে যাঁরা মাদকদ্রব্য আনা-নেওয়া করতেন, তাঁরাই এখন ইয়াবা আনা-নেওয়া করছেন। বাংলাদেশের বেশ কজন গডফাদারের নাম আমরা ইতোমধ্যে জানতে পেয়েছি। তাই সার্বক্ষণিক পুলিশের নজরদারি আরো বাড়িয়েছি বলে জানিয়েছেন।