ঢাকা   শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  সুনামগঞ্জে শিশু তুহিন হত্যা: বাবার পক্ষে লড়বেন না কোনো আইনজীবী (আইন ও বিচার)        যেখানে দুর্নীতি-টেন্ডারবাজি, সেখানেই অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)        সড়কে দুর্ঘটনা এাড়তে সবাইকে সচেতন হবার আহবান প্রধানমন্ত্রীর (জাতীয়)        বাংলাদেশের কৃষি এখন বিশ্বের অন্যতম রোল মডেলু: খাদ্যমন্ত্রী (জাতীয়)        প্রচুর অন্যায় এদেশে গেড়ে বসে আছে: পরিকল্পনামন্ত্রী (জাতীয়)        জামালপুরে ঘুষের টাকাসহ হাসপাতাল কর্মচারী আটক (জেলার খবর)        আজারবাইজানের ন্যাম সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী (জাতীয়)        সংবাদকর্মীদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস তথ্য প্রতিমন্ত্রীর (জাতীয়)        আবরার হত্যা নিয়ে বিএনপির নোংরা রাজনীতি পরিহার করা উচিত: হানিফ (রাজনীতি)        জামালপুরে শিশু নির্যাতন সম্পর্কে স্বভাব নেতাদের সাথে কর্মশালা (জামালপুরের খবর)      

আবরার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি ছাত্রলীগের

Logo Missing
প্রকাশিত: 12:45:57 pm, 2019-10-10 |  দেখা হয়েছে: 4 বার।

ঢাকা ডেক্স:

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িতদের দ্রুতবিচার আইনে বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। আবরার হত্যাকান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের নেওয়া নানা পদক্ষেপের পাশাপাশি সংগঠনের দাবিও তুলে ধরেন সভাপতি জয়। তিনি বলেন, আমরা দাবি জানাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য। আবরার হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে এবং হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত প্রত্যেকের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয় সে উপযোগী করে পুরো মামলাটি পরিচালনা করা হয়।

শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে গত রোববার রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে তড়িৎ কৌশল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে এ পর্যন্ত যে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের। ছাত্রলীগের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আবরারকে নির্যাতনের সময় নেতাকর্মীরা মদ্যপ ছিলেন। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ ১১ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারও করেছে। ঘটনার পরপরই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দ্রুততার সাথে বিভিন্ন সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় জানিয়ে আল-নাহিয়ান জয় বলেন, সবপ্রকার পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়ে আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি সাংগঠনিক তদন্ত কমিটি গঠন এবং কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার ভিতর রিপোর্ট জমাদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার পূর্বেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রাপ্তির প্রেক্ষিতে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে জড়িত কেউ যদি ব্যক্তি উদ্যোগে কোনো অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ে, তারাও বিচারের হাত থেকে রক্ষা পাবে না; অতীতেও পায়নি, ভবিষ্যতেও পাবে না।

ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কখনই কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে প্রশ্রয় দেয় না, উৎসাহ প্রদান করে না। সংগঠনের পরিচয়-পদবী ব্যবহার করে কতিপয় ব্যক্তির অতিউৎসাহী হয়ে সংঘটিত কোনো কর্মকান্ডকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অতীতের ন্যায় বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও প্রশ্রয় দেবে না। সম্প্রতি সংঘটিত আবরার হত্যাকান্ডে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আবারও তা প্রমাণ করেছে। জয় বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি জানাই, পলাতক অপর অভিযুক্তদেরও যেন স্বল্প সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। একইসাথে এজাহারভুক্ত ১৯ জনের বাইরে আরও যদি কেউ এই হত্যাকান্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে তাদেরও যেন অনুসন্ধানের মাধ্যমে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হয়। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।

আবরার হত্যাকান্ডের পর বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি উঠেছে। এই দাবিসহ মোট ১০ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে সময় বেঁধে দিয়ে আন্দোলন করছে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে জয় বলেন, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ, বিভিন্নভাবে ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে দেশে সা¤প্রদায়িক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা, দেশবিরোধী চুক্তির ধোঁয়া তুলে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্ন করার প্রচেষ্টা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি ও কটুক্তিমূলক বক্তব্য প্রদান প্রভৃতির মাধ্যমে কতিপয় নামসর্বস্ব, কর্মী ও কর্মসূচিবিহীন, ব্যানারনির্ভর ছাত্র সংগঠন ও সেসব সংগঠনের নেতারা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। ধারাবাহিক উস্কানির মাধ্যমে যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে, বিগত ১১ বছরে সেশনজটবিহীন নির্বিঘ্নে শিক্ষা পরিবেশ বিনষ্টের যে ষড়যন্ত্র রচনা করছে, তা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কোনোমতেই মেনে নিতে পারে না। দেশের ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে এসব হীন কর্মকান্ড সর্বাত্মকভাবে মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় প্রত্যেককে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহবান জানান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টচার্য। তিনি বলেন, আবরার হত্যাকান্ডের অনাকাংক্ষিত ঘটনাটিকে পুঁজি করে কেউ যেন দলীয় রাজনীতি চাঙা করার নামে আন্দোলন-আন্দোলন খেলায় মেতে উঠতে না পারে, সা¤প্রদায়িক উস্কানি ছড়িয়ে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত সম্প্রীতির বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করতে না পারে, হীন স্বার্থসিদ্ধির জন্য পরিকল্পিত লাশ ফেলে সন্ত্রাস কায়েম করতে না পারে, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকা ছাত্রসমাজের নৈতিক দায়িত্ব।

Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!