ঢাকা   সোমবার ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  সারা দেশের ন্যায় জামালপুরেও পিএসসি ও ইবতেদায়ী পরীক্ষা শুরু (জামালপুরের খবর)        শ্রীবরদীর সীমান্তে গরুর সাথে আসছে মাদক! (জেলার খবর)        জামালপুরে ৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক- ১ (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে ৫ গ্রাম হেরোইনসহ আটক-১ (জামালপুরের খবর)        চার দিনে মেলায় কর রাজস্ব আয় ১৩৪৬ কোটি টাকা (অর্থনীতি )        ট্রেনের ধাক্কায় নয়, পরিকল্পিত খুনের শিকার শরীফ (অপরাধ)        দুবাই এয়ার শো-তে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান (জাতীয়)        প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিল বিএনপি (রাজনীতি)        চালের দাম যেন আর না বাড়ে, মিলারদের খাদ্যমন্ত্রী (জাতীয়)        চিপসের প্যাকেটে খেলনা : বিএসটিআইকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ (আইন ও বিচার)      

বেসিক ব্যাংকের বাচ্চুর বিরুদ্ধে মামলা না করায় দুদক চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চাইলেন তাপস

Logo Missing
প্রকাশিত: 01:22:45 pm, 2019-10-15 |  দেখা হয়েছে: 2 বার।

ঢাকা ডেক্স:

যদি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হন তাহলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের অবশ্যই পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। আজ অবধি বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সেমাবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এমন মন্তব্য করেন সরকারদলীয় এই সংসদ সদস্য (এমপি)। যিনি একই সঙ্গে সরকার সমর্থক বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব। বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় অন্তত ৫৬টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এমনকি এ ঘটনায় প্রথমে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) অপসারণ করা হয়। পরে আবদুল হাই বাচ্চু অর্থমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আমরা বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাতেও দেখেছি, তদন্তপূর্বক দেখেছি বেসিক ব্যাংকের মাধ্যমে ফিনান্সিয়াল সেক্টেরে, ব্যাংকিং সেক্টরে যে দুর্নীতি হয়েছে, সেটার মূল ব্যক্তি হলেন ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু। যার কারণে সরকার তাকে সেই পদ থেকে অপসারণ করেছে। কিন্তু আজ অবধি বেসিক ব্যাংক সংক্রান্ত যতগুলো দুর্নীতির মামলা হয়েছে, আমরা লক্ষ্য করেছি শুধুমাত্র কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ীদের সেই মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তৎকালীন যে চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু তার বিরুদ্ধে আজ অবধি কোনো দুর্নীতির মামলা আনা হয়নি। যদিও তার স্বেচ্ছাচারিতা এবং একক সিদ্ধান্ত বিভিন্নভাবে ঋণগুলোর ব্যাপারে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। সেটা আমাদের স্থায়ী কমিটির বিভিন্ন তদন্তের মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের সাবেক এই চেয়ারম্যানকে নিয়ে দুদকের কার্যক্রম সম্পর্কে শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি কয়েকদফা তাকে ডেকে জিজ্ঞাসবাদ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি। তাই আমরা মনে করি, জাতি মনে করে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান আরম্ভ করেছেন, শুদ্ধি অভিযান আরম্ভ করেছেন, সে প্রেক্ষিতে দুদকের এ বিষয়ে জবাবদিহিতা অত্যাবশ্যকীয়, কেন এখন পর্যন্ত তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর ব্যাপারে কোনো মামলা করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জাতি জানতে চায়। এ বিষয়ে দুদকের ব্যর্থতা বা দুদকের চেয়ারম্যানের ব্যর্থতা বলতে চান? এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার তাপস বলেন, অবশ্যই, আমি এ কারণে গতকাল ( গত রেববার) বলেছি দুদক চেয়ারম্যান যদি বলে থাকেন বা বলতে চান বা মনে করেন যে, তিনি কোনো প্রভাবের কারণে এ ব্যবস্থা নেননি তাহলে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং সে কারণে তার অবশ্যই পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত। তিনি যদি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হন। আর যদি উনি মনে করেন যে, না; তিনি কোনো প্রভাব দ্বারা বা কারো কথায় কোনো প্রভাবিত হবেন না তাহলে অবশ্যই জাঁতি মনে করে, আমরা মনে করি শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে মামলা করো, তাকে গ্রেফতার করো, জিজ্ঞাসাবাদ করো, দুর্নীতি দমন কমিশন আশু পদক্ষেপ নেবে। দুর্নীতি বিরোধী অভিযানকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য এ কথাগুলো বলেছেন বলেও জানান ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, চেয়ারম্যান (দুদক) একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চেয়ারম্যান। ওঁর চেয়ারম্যানশিপ নির্ধারণ করা হয় বাছাই কমিটির মাধ্যমে। সুপ্রিম কোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে বাছাই কমিটির মাধ্যমে। এটা চেয়ারম্যানের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার, উনি পদত্যাগ করবেন কিনা। সেটা তো আমি জানি না। সেটা একান্ত ওঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। তিনি বলেন, শেখ ফজলে নূর তাপস সাহেবের বক্তব্যটা আমরা এপ্রিশিয়েট করছি। উনি চাচ্ছেন বেসিক ব্যাংকের চার্জশিট হোক। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে বা একজন নাগরিক হিসেবে একজন সচেতন আইনজীবী হিসেবে উনি চাইতে পারেন। এটা এপ্রিশিয়েট করি। এটা (চার্জশিট) কেন হচ্ছে না? কিছুদিন আগে চেয়ারম্যান (দুদক চেয়ারম্যান) সাহেব বলেছিলেন, এখানে ৪ হাজার কোটি টাকার বিষয়। প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাকি অনেক টাকা উদ্ধার হওয়ার পথে। মানিলন্ডারিং মামলার প্রধান বিষয় টাকার উৎস এবং টাকাটা কোথায় গেলো সে ব্যাপারটা আইডেন্টিফিকেশন পর্যায়ে আছে। এখন টাকার যদি গন্তব্য বের করা না যায়, তাহলে তো এ চার্জশিট আদালতে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। তার মানে এই না যে অনন্ত কাল পর্যন্ত চার্জশিট হবে না। আমি যতটুকু জানি টাকার গন্তব্য ফাইন্ডআউট হলে এটা হয়ে যাবে। এটা এক্সাক্টলি টাইম বলা ডিফিকাল্ট।৫৬টি মামলা। আরও কিছু হচ্ছে। চার্জশিটে আবদুল হাই বাচ্চুর নাম থাকবে কি-না এমন প্রশ্নে খুরশীদ আলম খান বলেন, ওঁর সংযুক্তি থাকলে অব্যশই হওয়া উচিৎ। যদি ক্রেডিবল এভিডেন্স থাকে তাহলে অবশ্যই আসবে।

উল্লেখ্য, বেসিক ব্যাংকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৫৬টি এবং পরের বছর আরো পাঁচটি মামলা করে দুদক। এসব মামলা করার পর ৪০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো অভিযোগপত্র দেয়নি সংস্থাটি। মামলায় ব্যাংকার ও ঋণগ্রহীতাদের আসামি করা হলেও ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের কাউকেই আসামি করা হয়নি। বেসিক ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের জড়িত থাকার কথা বলা হলেও মামলায় তাঁদের আসামি করা হয়নি। মামলা হওয়ার পর তদন্ত পর্যায়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে আবদুল হাই বাচ্চুসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও অভিযোগপত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি। বেসিক ব্যাংকের ঘটনায় করা মামলাগুলোয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা অনেক দিন ধরে কারাগারে। ঋণগ্রহীতা কেউ কেউ ব্যবসায়ী। গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁরা জামিনে বেরিয়ে দেশের বাইরে চলে গেছেন। কেউ কেউ গ্রেফতার এড়াতে দেশ ছেড়েছেন। যাঁরা এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তাঁদের সবাই এখন বাইরে আছেন।