ঢাকা   মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  জামালপুরে ৬শ অসহায় পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ (জামালপুরের খবর)        জামালপুরবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই: আশরাফুল ইসলাম বুলবুল (জামালপুরের খবর)        করোনা দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের সমস্যা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন-মির্জা আজম এমপি (জামালপুরের খবর)        গন্তব্যে পৌছবে কি ছানুর নৌকা (জামালপুরের খবর)        বেতন ও বোনাসের টাকায় ঈদ সামগ্রী নিয়ে দেড়শ মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন কিরন আলী (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে ভাগ্য বিড়ম্বিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ। (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে তরুনদের সহায়তায় দুইশত পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ (জামালপুরের খবর)        ময়মনসিংহে ৩শ দরিদ্র পরিবারের মাঝে সেনা প্রধানের ঈদ উপহার পৌঁছে দিলেন আর্টডক সদস্যরা (ময়মনসিংহ)        করোনা যোদ্ধা নার্সিং সুপারভাইজার শেফালী দাস শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন (ময়মনসিংহ)        বিদ্যানদীর মত সকল সামাজিক সংগঠন যদি এই দুর্যোগের সময়ে এগিয়ে আসে তবে সরকারের উপর চাপ অনেকংশে কমে যাবে -মির্জা আজম এমপি (জামালপুরের খবর)      

রৌমারী ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে পাল্টে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার মানচিত্র

Logo Missing
প্রকাশিত: 09:33:57 pm, 2019-10-22 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

রৌমারী সংবাদদাতা:

রাক্ষসী ব্রহ্মপুত্র নদের প্রলয়কারী ভাঙ্গনে ক্রমে পাল্টে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার মানচিত্র। প্রতি বছর ভাঙ্গনের ফলে গ্রামের পর গ্রামের ঘর-বাড়ী ফসলী জমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গাছপালা বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদী গর্ভে। জেগে উঠছে নতুন নতুন চর। হাজার হাজার মানুষ তাদের বাব দাদার ভিটে মাটি হারিয়ে পরিনত হচ্ছে ভূমিহীনে। গত ১৬বছরে দুটি উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৫৬টি মৌজার মধ্যে ৩৫টি মৌজা নদী গর্ভে নিলীন হয়েছে। গৃহহীন হয়েছে ১৯০০ পরিবার ৩৫ হাজার মানুষ। এছাড়াও ১৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি মাদরাসা, ১টি তহশিল ভবন, ১টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ৩টি হাইস্কুল, ১টি ফাঁড়ি থানা, ৭শ হেক্টর জমি, ৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ৫টি ব্রীজ, ১০টি মসজিদ, ১টি বিজিবি ক্যাম্প, ১টি বিএস কোয়াটারসহ ১৫কিলোমিটর রাস্তা। ব্রহ্মপুত্রের পেটে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। এছাড়া আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন রাস্তার দুপাশে হেলিপ্যাডে আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে ঝুপড়ি তুলে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে রৌমারী উপজেলার বাগুয়ারচর, বাইটকামারী, উত্তর খেদাইমারী, দক্ষিণ খেদাইমারী, উত্তর পাখিউড়া, পশ্চিম খনজনমারা, কুঠিরচর, চরবাঘমারা, চর বন্দবেড়, সাহেবের আলগা, গেন্দার আলগা, ধনারচর, দিগলাপাড়া, রাজিবপুর উপজেলার উত্তরসাজাই, দক্ষিণসাজাই মাধবপুর, কড়াতিপাড়া, রাজিবপুর উপজেলা প্রশাসন, খাদ্যগুদাম, হাসপাতাল, টিএন্ডটি ভবন ও মোহনগঞ্জ ইউনিয়নসহ প্রায় ২৫টিগ্রাম।

ভাঙ্গনে বিলীন গ্রামগুলো হলো রৌমারী উপজেলার ইটালুকান্দা, সাহেবের আলগা, চর গেন্দার আগলা, ঘুঘুমারী, খেরুয়ারচর, খেদাইমারী, পশ্চিম বাগুয়ারচর ,বাইসপাড়া, বলদমারা, পশ্চিম পাখিউড়া ফলুয়ার চর, পালেরচর, ধনারচর, দিগলাপাড়া, তিনতেলী

অপরদিকে রাজিবপুর উপজেলার পশ্বিম রাজিবপুর, ধলাগাছা, তারাবর, বড়বেড়, মদনের চর, মুন্সীপাড়া, হাজীপাড়া, নয়ার চর,লম্বাপাড়া, সন্দেসীকান্দা, সবুজপাড়া, ব্যাপারীপাড়া, ফকিরপাড়া, ঢাকাইয়াপাড়া, দশঘরি পাড়া, বাজারপাড়া, বোল্লাপাড়া, মাঠেরভিটা শংকরপুর, সংকর মাধবপুর, মাধবপুর, উত্তর সাজাই, কোদালকাটি, দক্ষিণ সাজাই, চর সাজাইসহ প্রায় শতাধিক গ্রাম ।

এক একটি পরিবার এক থেকে ৭বার নদী ভাঙ্গনে শিকার হয়েছে। এরকম পরিবারের সংখ্যা ১৭’শ অধিক। যেহারে ভাঙ্গন এগিয়ে চলছে তাতে জরুরী কোন পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে ২টি উপজেলা পরিষদ ভবনসহ সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গনের কবল থেকে উপজেলা শহর রক্ষার জন্য কয়েক দফা কয়েকশ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করলেও বাস্তবে তেমন কোন কাজে লাগছে না। চলছে দুর্নীতি আর লুটপাট। ফলে মানুষ দিন দিন নিঃস্ব ও ভূমিহীন হয়ে পড়ছে।সেক্ষেত্রে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা দু’টি সম্পূর্ণরূপে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

রৌমারীর পালেরচর গ্রামের ছোরমান মাঝি বলেন, আমরা এক সময় অনেক স¦য়-সম্পত্তি ছিল বর্তমানে সয়-সম্বল সব নদীতে ভেসে গেছে। রাস্তার ধারে পলিথিন কাগজের ছাপড়া দিয়ে পোলাপান নিয়া কোন মতে বাইচা আছি।
উত্তর ফলুয়ারচর গ্রামের জব্বার, আছমা বেগম, নুরুন্নবী, হাজেরা, কাওসার, আমজাদ, কছিম, রহমত, আক্কাছ, জবেদ, সামছুল, আকবর, রহিম তারা জানান, দিনের পর দিন নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হলেও সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। তবে প্রতি বছরে নদী ভাঙনে আমাদেরকে আতঙ্কে থাকতে হয়। আমরা শুনেছি বর্তমান সরকার মানবতার মা এ নদের বাম তীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবার জন্য ৪শত ৭৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়েছে। দ্রæত কাজটি করলে হয়তো আমরা নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবো।

বন্দবেড় ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান ও বন্দবেড় ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ আব্দুল কাদের ও সিএসডিকে পরিচালক আবু হানিফ মাষ্টার বলেন, নদী ভাঙ্গনের কবলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ মাদ্রাসাসহ হাজার হাজার পরিবার নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে এবং আরো বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রৌমারী উপজেলার প্রায় ১০হাজার পরিবার হুমকির মূখে রয়েছে।

খেদাইমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাধান শিক্ষক ও বন্দবেড় ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক মাষ্টার বলেন, আমার স্কুলসহ পশ্চিম বাগুয়ারচর,বলদমারা গ্রামের প্রায় ৫ শত বাড়ী-ঘর ১মাসের মধ্যে নদীর র্গভে বিলীন হয়ে যায়।

নদী ভাঙ্গন রোধে, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার বামতীর রক্ষায় ৪শত ৭৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনায়লয়ের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনকে ধন্যবাদ ও অভিন্দন জানিয়ে নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রæত কাজ শুরু করার দাবিতে গত ১৬ অক্টোবর এক গণপদযাত্রা উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা চত্তরে মানববন্ধন করেন রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি, রৌমারীর পক্ষে। পরে একটি স্বারকলিপি প্রদান করেন।

রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্যাহ বলেন, গত ১ বছরে রৌমারী,রাজিবপুর উপজেলার প্রায় ৫ হাজার পরিবার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে উদবাস্ত হয়েছে। এ সব পরিবারের একটি বড় অংশ ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বস্তিতে বসবাস করছে। উদবাস্ত পরিবারের পূর্নবাসন ও নদী ভাঙ্গন রোধ না করলে আগামী ২/৩বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে রৌমারী ও রাজিবপুর নামের দুটি উপজেলা বিলিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দুটি উপজেলার নদী ভাঙ্গন রোধে একনেকে বাজেট পাশ হয়েছে। দ্রুতগতিতে কাজ করলে হয়তো রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা দুটি নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে।