ঢাকা   সোমবার ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  তথ্য প্রতিমন্ত্রীর জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বই শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম হুদার স্মরণ সভা (জামালপুরের খবর)        শেরপুরে শুরু হয়েছে শিশুদের টয় ব্রিকস গেইম (জেলার খবর)        সারা দেশের ন্যায় জামালপুরেও পিএসসি ও ইবতেদায়ী পরীক্ষা শুরু (জামালপুরের খবর)        শ্রীবরদীর সীমান্তে গরুর সাথে আসছে মাদক! (জেলার খবর)        জামালপুরে ৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক- ১ (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে ৫ গ্রাম হেরোইনসহ আটক-১ (জামালপুরের খবর)        চার দিনে মেলায় কর রাজস্ব আয় ১৩৪৬ কোটি টাকা (অর্থনীতি )        ট্রেনের ধাক্কায় নয়, পরিকল্পিত খুনের শিকার শরীফ (অপরাধ)        দুবাই এয়ার শো-তে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান (জাতীয়)      

প্রায় ৮১ কোটি টাকা প্রণোদনা পাবে সাত লাখ কৃষক

Logo Missing
প্রকাশিত: 10:04:45 am, 2019-10-31 |  দেখা হয়েছে: 7 বার।

আ.জা. ডেক্স:

নয়টি ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহ দিতে প্রায় ৭ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে ৮০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা প্রণোদনা দেবে সরকার। ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ বিঘা ফসলি জমিতে পেঁয়াজসহ নয়টি ফসল উৎপাদনে বিনামূল্যে বীজ, সার ও পরিবহন বাবদ এই নগদ অর্থ দেওয়া হবে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রম নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে দেশের ৬৪ জেলায় ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এই প্রণোদনা পাবে। প্রতিটি কৃষক পরিবারকে সর্বোচ্চ এক বিঘা জমির জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার (ডিএপি ও এমওপি) এবং পরিবহন খরচ দেওয়া হবে। বর্তমান রবি মৌসুমে গম, ভুট্টা, সরিষা, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, শীতকালীন মুগ, পেঁয়াজ ও পরবর্তী খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন মুগ ও গ্রীষ্মকালীন তিল উৎপাদন বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেদের তালিকা অনুযায়ী প্রণোদনা দেওয়া হবে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বীজ ও সার প্যাকেট হিসেবে দেওয়া হবে। পরিবহন খরচ তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্যান্য ফসলের সঙ্গে এবার পেঁয়াজে কৃষক প্রতি এক বিঘা জমির জন্য এক কেজি বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার পাবে। সব মিলে এই আর্থিক সহায়তার পরিমাণ হবে এক হাজার ৭১৪ টাকা। এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রতি এক টাকা ব্যয়ের বিপরীতে এক টাকা ৮৩ পয়সা আয় হবে বলে সরকার আশা করছে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ উৎপাদনের সময় অর্থাৎ ফসল ওঠার সময় যেন আমদানি না হয় সে ব্যাপারেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে, কৃষকের কাছ থেকে বেশি পরিমাণে কেনা ধান সংরক্ষণের জন্য গুদামের জায়গা খালি করতে ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রির সময় দুই মাস বাড়িয়ে পাঁচ মাসের জায়গায় সাত মাস করার কথা ভাবছে সরকার। কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে নতুন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা আসলে কোনা কর্মসূচি এখনো ঘোষণা করিনি, ধানের দামটা কত হবে এবং কীভাবে আরো বেশিসংখ্যক চাষীকে প্রণোদনা দিতে পারি আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) মিটিং হবে।

এবিষয়ে গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও চাচ্ছেন, একটি বুদ্ধি বের করে কীভাবে চাষীদের (ন্যায্য দাম) দেওয়া যায়। ধান বা চাল আমরা কিনলাম বেশি। বেশি ধান রাখার জন্য গুদামের চাল খালাসের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটা মোটামুটি ইঙ্গিত-কালকে সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত হবে- ১০ টাকা কেজি যে চাল আমরা দেই, এটার পরিমাণ বৃদ্ধি করে বেশি সংখ্যক মানুষকে আরো ২ মাস বেশি দিন দেওয়া হবে। এখন ৫ মাস দেওয়া হয়, আরো দুই মাস বাড়ানো হবে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দেশের অতি দরিদ্র ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এবং মার্চ ও এপ্রিল এই পাঁচ মাসে একবার করে ৩০ কেজি চালের একটি বস্তা কার্ডধারী দরিদ্র পরিবারকে দেওয়া হয়। তবে প্রকৃত দরিদ্ররা না পাওয়াসহ এই চাল বিতরণ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ আছে। গ্রামের চৌকিদার বা গ্রাম্য পুলিশকেও ১০ টাকা কেজি চালের সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগে বেশীরভাগ চাল কেনা হত আমরা যদি ১২ লাখ টন চাল কিনি, বেশী ধান কেনা যায় ৬ থেকে ৭ লাখ টন সেই প্রস্তুতি আমার নিচ্ছি যেটি আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) সিদ্ধান্ত হবে। এবছর বোরো মৌসুমে সরকার ১০ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, দেড় লাখ টন আতপ চাল এবং ২৬ টাকা কেজি দরে দেড় লাখ টন বোরো ধান এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক হয়, ২৫ এপ্রিল থেকে প্রতিকেজি ধান এবং প্রতি কেজি চাল ৩৬ টাকায় কিনবে সরকার। কিন্তু সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয় শুরু হতে দেরির কারণে ফড়িয়ারা সেই সুযোগ নেয়। তারা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করলে ধান নিয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ না ওঠায় অসন্তোষ থেকে পাকা ধানে কৃষকের আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের বাঁচাতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মন্ত্রণালয়কে বেশি ধান কেনার ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। পাশাপাশি চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্ক বাড়ানো হয়। পরে আরও আড়াই লাখ টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত হওয়ায় এবার সব মিলিয়ে মোট চার লাখ টন বোরো ধান কৃষকের কাছ থেকে কিনবে সরকার। আরো বেশি ধান কিনতে মিলারদের সম্পৃক্ত করতে গুদামে ধান রাখার বিষয়ে পরিকল্পনার কথা জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, মিলারদের গুদামে আমরা ধান রাখলাম, তাদের গুদামে রাখার আলাদা খরচ দেব। একটি ম্যাকানিজম বের করছি কারণ আমাদের গুদামের স্বল্পতা রয়েছে, আমি বেশি কিনতে পারি না। কৃষকদের যন্ত্রপাতি সাবসিডিতে দেওয়া হবে। ডিএপি দাম কমানোর চিন্তা করা হচ্ছে- এসব প্রক্রিয়াধীন আছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।