ঢাকা   ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  ১০ ডিসেম্বর : জামালপুর হানাদার মুক্ত দিবস পালিত (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষের সমাপনী সভা (জামালপুরের খবর)        মাদারগঞ্জ আন্তর্জাতিক দূর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে জাতীয় ভ্যাট দিবস পালিত (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে মানবাধিকার দিবস পালিত (জামালপুরের খবর)        শ্রীবরদীতে অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত (জামালপুরের খবর)        লটারির মাধ্যমে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়েছে কৃষকরা (জামালপুরের খবর)        জঙ্গিবাদ বিরোধী অলআউট প্রচেষ্টায় অনেকটাই সফল হয়েছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)        আমাদের মানবাধিকার হরণ করা হয়েছে: ফখরুল (রাজনীতি)        ১৬ ডিসেম্বর থেকে রাষ্ট্রীয় সব অনুষ্ঠানে জয় বাংলা বলতে হবে: হাইকোর্ট (জাতীয়)      

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ২৬৩ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি: কৃষিমন্ত্রী

Logo Missing
প্রকাশিত: 12:42:21 am, 2019-11-14 |  দেখা হয়েছে: 5 বার।

আ.জা. ডেক্স:

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ৭২ হাজার ২১২ টন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ২৬৩ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক এ তথ্য জানিয়েছেন। গত রোববার ভোররাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৬টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। জেলাগুলো হচ্ছে- খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, নোয়াখালী, ফেনী এবং লক্ষীপুর। ঝড়ের পরপরই ফসলের ক্ষক্ষতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া না গেলেও কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর ১৬ জেলার দুই লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল, যার মধ্যে রোপা আমন, খেসারি ও পানের বরজসহ রবি শস্য ও শীতকালীন সবজি রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে একই তথ্য দেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।

১৬ জেলার ১০৩ উপজেলায় ঝড়ের প্রভাব পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক আক্রান্ত ফসলি জমির পরিমাণ দুই লাখ ৮৯ হাজার ছয় হেক্টর (মোট আবাদকৃত জমির ১৪%) এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ২২ হাজার ৮৩৬ হেক্টর (মোট আক্রান্ত জমির ৮%)। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ৫০ হাজার ৫০৩ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আক্রান্ত ফসলগুলো হচ্ছে রোপা আমন, শীতকালীন সব্জি, সরিষা, খেসারি, মসুর ও পান। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের পরিমাণ ৭২ হাজার ২১২ টন। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির মধ্যে রোপা আমনের দুই লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৮ হেক্টর, সরিষার এক হাজার ৪৭৬ হেক্টর, শীতকালীন সবজির ১৬ হাজার ৮৮৪ হেক্টর, খেসারির ৩১ হাজার ৮৮ হেক্টর, মসুরের ১৯৫ হেক্টর, পানের দুই হাজার ৬৬৩ হেক্টর এবং অন্যান্য তিন হাজার ১২৬ হেক্টর জমি রয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।

ধানে কি পরিমাণ ক্ষতি হবে জানতে চাইলে কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, অনুমান করছি ৪৭ কোটি টাকা রোপা আমনে এবং৭৯ কোটি টাকা সবজিতে ক্ষতি হবে। ঘূর্ণিঝড়ে ফসলের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাতে বাজারে তেমন প্রভাব পড়বে না জানিয়ে মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, গত বোরো ও আমন মৌসুমে অতিরিক্ত উৎপাদন হয়েছিল। এবার আমন মাঠে যে ফসল আছে, ধান কাটা কেবল শুরু হয়েছে। আমার আশা করছি খুব ভালো ফলন হবে। এ ছাড়া এবার ধানে চিটা কম হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কৃষি পুনর্বাসন শুরু হবে বলেও জানান মন্ত্রী। আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ এবং কবে নাগাদ তা দেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সরিষা পুনর্বাসন করা যাবে, বিএডিসির কাছে বীজ আছে, সরিষা বা খেসারি তারা আবার করতে পারবে। দক্ষিণাঞ্চলে শীতকালীন সবজিও খুব কম হয়। চুলচেরা হিসাব করার পর জানানো যাবে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। এবার ঘূর্ণিঝড়ে দুর্বল হয়ে যাওয়ায় যেমনটা আশঙ্কা করা হয়েছিল, তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি হতে পারত, কৃষিতে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা তৎপর রয়েছি।

রাঙ্গাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের মানসিকতা থেকে: স্বৈরাচারী এবং রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের মানসিকতা থেকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ গণতন্ত্রের আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে ‘মাদকাসক্ত’ বলেছেন বলে মনে করেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাঙ্গাঁর বিরূপ মন্তব্যে শহীদ নূর হোসেনকে ছোট করা হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, নূর হোসেনের নাম এদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং আমাদের সকলের জন্য সে একটি দৃষ্টান্ত, উদাহরণ। কাজেই এটা বলা ঠিক হয় নাই। তাকে বলা হয়েছে নেশাখোর, ফেন্সিডিল..এটা বলা আমি মনে করি খুবই দুঃখজনক। এইচ এম এরশাদের গড়া দল জাতীয় পার্টির মহাসচিব রাঙ্গাঁ রোববার দলের এক অনুষ্ঠানে বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মাদকাসক্ত নূর হোসেনকে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে গতকাল মঙ্গলবার রাঙ্গাঁ তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নূর হোসেনের পরিবারের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন।

রাঙ্গাঁর বক্তব্যের কারণ ব্যাখ্যায় কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, এটা হয়েছে কেন? বার বার বাংলাদেশে এবং এই অঞ্চলে সামরিক বাহিনী এবং সামরিক স্বৈরাচাররা এসেছে এবং তারা এসে রাজনীতিতে দুর্বৃত্ত ও ব্যবসায়ীদেরকে নিয়ে কলুষিত করেছে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ফলেই বাংলাদেশে রাজনীতি কলুষিত হয়েছে। আদর্শের রাজনীতি থেকে আমরা অনেক দূরে সরে গিয়েছি। যারা এ ধরনের মন্তব্য করে আমি মনে করি তারা অনেকেই স্বৈরাচারের সাথে জড়িত ছিল এবং রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের সাথেও জড়িত ছিল। সেই মানসিকতা থেকেই এই ধরনের মন্তব্য আসতে পারে। এক প্রশ্নে কৃষিমন্ত্রী বলেন, মহাজোটের কোনো দল যদি ভুল করে বা কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কার্যকলাপে লিপ্ত হয়, সেটার আমরা প্রতিবাদ করব না? অবশ্যই আমরা প্রতিবাদ করব। তাদেরকে সংশোধন হওয়ার জন্য আমরা অবশ্যই বলব। আমি মনে করি তাদের বোধদয় হবে এবং সুস্থ রাজনৈতিক ধারার সাথে নিজেদেরকে সংহত রাখার চেষ্টা করবে।