ঢাকা   মঙ্গলবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  কাশ্মীরে রোবট সেনা নামাচ্ছে ভারত (আন্তর্জাতিক)        বিশ্বের সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী সানা মেরিন (আন্তর্জাতিক)        বিক্ষোভ উপেক্ষা করেই লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ (আন্তর্জাতিক)        নিউজিল্যান্ডে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপতে ২০ পর্যটক আহত (আইন ও বিচার)        ২৫৭ টাকা নিয়ে ঘর ছাড়া যুবকের হাতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (বিনোদন)        মিস ইউনিভার্স হলেন আফ্রিকার জোজিবিনি তুনজি (বিনোদন)        ফের উত্তাপ ছড়াচ্ছেন নায়লা নাঈম (বিনোদন)        পতিতা পল্লীতে - শেষ দেখা (বিনোদন)        শিল্পীদের কল্যাণে সারাজীবন কাজ করব : তানহা মৌমাছি (বিনোদন)        বছর শেষে চলচ্চিত্র প্রেমীদের জন্য সুখবর (বিনোদন)      

সিগন্যাল ব্যবস্থার দুর্বলতা ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন

Logo Missing
প্রকাশিত: 01:59:53 am, 2019-11-18 |  দেখা হয়েছে: 5 বার।

আ.জা. ডেক্স:

বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনের সংখ্যা বাড়লেও সিগন্যাল ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হয়নি। আর সিগন্যাল ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই একের পর এক ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে। সিগন্যাল ব্যবস্থার দুর্বলতায় অতিসম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দবাগ স্টেশনে দুই ট্রেনের মুখোমুুখি সংঘর্ষ এবং সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সিগন্যালিং ব্যবস্থা। তাতে সামান্য ভুল হলেই মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাংলাদেশ রেলওয়েতে সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত এক দশকে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৩১টি নতুন ট্রেন চালু করেছে। তাছাড়া আরো ৩৮টি ট্রেনের রুট সম্প্রসারণ করা হয়েছে আরো ৩৮টি ট্রেনের। বিদ্যমান রেলপথে ওসব নতুন ট্রেন যুক্ত হলেও সে অনুপাতে সিগন্যাল ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হয়নি। ফলে সিগন্যাল ব্যবস্থার দুর্বলতায় একের পর এক ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে। এখনো দেশের অনেক স্টেশনে তারের কুÐলী দিয়ে সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যা ছিল ব্রিটিশ আমলের সিগন্যালিং পদ্ধতি। অথচ বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদিত মাস্টারপ্ল্যানে বলা আছে, আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে রেলপথে ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। সেক্ষেত্রে সেন্ট্রাল ট্রাফিক কন্ট্রোল (সিটিসি) ও কম্পিউটার বেজড ইন্টারলকিং (সিবিআই) সিগন্যাল ব্যবস্থা প্রবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মাস্টারপ্ল্যানে ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দেশের সিংহভাগ রেলওয়ে স্টেশনকে এ ধরনের আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থায় আনার জন্য পৃথক ছয়টি প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়। তবে এ ধরনের সিগন্যাল ব্যবস্থা দেশের ৩৪২টি স্টেশনের মধ্যে মাত্র ১০৮টিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়েতে বর্তমানে পাঁচ ধরনের সিগন্যাল ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। তার মধ্যে সর্বাধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থাটি হচ্ছে রিলে ইন্টারলকিং সিগন্যালিং। এ ব্যবস্থাটি পুরোপুরি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত। সাধারণত যেসব স্টেশনে ট্রেন চলাচল বেশি, সেসব স্টেশনে এ সিগন্যাল ব্যবস্থা রাখা হয়। রেলওয়েতে এ ধরনের সিগন্যাল ব্যবস্থা সম্পন্ন স্টেশনের সংখ্যা ৩৩টি। আর তার ৩১টিই রয়েছে পূর্বাঞ্চলে। তাছাড়া সিবিআইয়ের মতো আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থার সংস্থান আছে ১০৮টি রেলওয়ে স্টেশনে। মাত্র ১২টি স্টেশনে ব্যবহার করা হচ্ছে সিটিসি সিগন্যাল ব্যবস্থা। বাকি ২১১টি রেলওয়ে স্টেশনে এখনো পুরনো পদ্ধতিতে সিগন্যাল নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। পুরনো পদ্ধতিগুলোর একটি হলো মেকানিক্যাল ইন্টারলকড সিগন্যাল ব্যবস্থা। এ রকম সিগন্যালের জন্য লাইনের পাশে এক ধরনের তার ব্যবহার করা হয়, যা সংযুক্ত থাকে স্টেশন এলাকায় স্থাপিত লিভারের সঙ্গে। এ লিভারে টান দিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৭২টি স্টেশনের সিগন্যাল নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। তাছাড়া লাল-সবুজ বাতি ব্যবহার করে ট্রেনের সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করা হয় দেশের ৯১টি রেল স্টেশনে। আবার ৪৮টি স্টেশনে সেই ব্যবস্থাও নেই। সেসব স্টেশনে ট্রেন প্রবেশের আগ মুহূর্তে স্টেশন মাস্টার ঠিক করেন, কোন লাইন দিয়ে ট্রেনটি যাবে। সে অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা ট্রেন যাওয়ার লাইনটি ঠিক করে দেন।

এদিকে পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. সামছুল হক জানান, উন্নত বিশ্বে ট্রেনের সিগন্যাল ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। প্রযুক্তি এসে জটিল ওই কাজটি সহজ করে দিয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা বিভিন্ন দেশে ট্রেন পরিচালনাকেও সহজ করে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ঘটছে উল্টোটি। এখানে কোনো ধরনের পরিকল্পনা ছাড়াই নামানো হয় একের পর এক ট্রেন। কিন্তু এ ট্রেনগুলো সুশৃঙ্খল ও ঝুঁকিমুক্তভাবে চলাচলের জন্য যে সিগন্যাল ব্যবস্থা দরকার, সেদিকে নজর দেয়া হচ্ছে না। এখানে বড় বড় প্রকল্পকেন্দ্রিক উন্নয়ন হচ্ছে। যেসব উন্নয়নে প্রচুর দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে, সেসব উন্নয়নকেই বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। সিগন্যাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন না করে একের পর এক ট্রেন নামানো হচ্ছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বা উল্লাপাড়ার মতো দুর্ঘটনার মাধ্যমে।

অন্যদিকে রেলওয়েতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সিগন্যালিং ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানান, ১০ বছর ধরে রেলের উন্নয়ন শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। সিগন্যাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়েও কাজ করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে যে একটা বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা চাইলেই একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে রেলের উন্নয়নে মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।