ঢাকা   ০৪ জুলাই ২০২০ | ২০ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভা (জাতীয়)        স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়ার দাবি সংসদে (জাতীয়)        এইচএসসির মূল সনদ বিতরণ আজ থেকে (শিক্ষা)        ২৪ ঘণ্টায় নতুন মৃত্যু ৪১, আরও ৩৭৭৫ করোনা রোগী শনাক্ত (জাতীয়)        চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী, এগিয়ে যাবো আমরাও - তথ্য প্রতিমন্ত্রী (জামালপুরের খবর)        জামালপুর পৌরসভার ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ১৩২ কোটি ৩৪ লক্ষ ২৪ হাজার টাকার বাজেট ঘোষনা (জামালপুরের খবর)        মেলান্দহ পৌরসভার পানি শোধানাগার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন (জামালপুরের খবর)        মাদারগঞ্জ পৌরসভার নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করলেন মির্জা আজম এমপি (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু (জামালপুরের খবর)        জামালপুর সদর উপজেলায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি (জামালপুরের খবর)      

ট্রেনের ধাক্কায় নয়, পরিকল্পিত খুনের শিকার শরীফ

Logo Missing
প্রকাশিত: 03:21:04 am, 2019-11-18 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আ.জা. ডেক্স:

ট্রেনের ধাক্কায় নয়, প্রেমের সম্পর্কের কারণে পরিকল্পিত খুনের শিকার হয়েছিলেন শরিফুল ইসলাম শরীফ। ঘটনা তিন বছর আগের। আর খুনের কাহিনি বেরিয়ে এলো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর তদন্তে। এরইমধ্যে খুনের অভিযোগে প্রেমিকাসহ দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। গতকাল রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক মো. মতিউর রহমান এ তথ্য জানান।

পিবিআই জানায়, ২০ দিন আগে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তদন্তে বেরিয়ে আসে হত্যার রহস্য। ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গোলাচৌ গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে শরীফের (২২) মরদেহ উদ্ধার করে লাকসাম রেলওয়ে থানা পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর ট্রেনের ধাক্কায় মারা গেছে এমন ধারণায় রেলওয়ে থানা পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। লাশের শরীরে অসংখ্য আঘাতের দাগ ও হাত ভাঙা দেখে ঘটনাটিকে রেল দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে পারেননি শরীফের বাবা সিরাজুল হক। এ সময় দরিদ্র সিরাজুল হক হত্যা মামলা করতে চায়। তবে রেলওয়ে থানা ও প্রভাবশালীদের চাপে মামলা করতে পারেননি। একপর্যায়ে বিষয়টি মেনে নেন তিনি। এভাবে কাটে যায় এক বছর। ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর কুমিল্লার আদালতে হত্যা মামলা করেন সিরাজুল হক। আদালত মামলাটি রেলওয়ে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ ট্রেনের ধাক্কায় শরীফ মারা গেছে বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়। পরে শরীফের বাবা সিরাজ আদালতে নারাজি দিয়ে অধিকতর তদন্তের আবেদন করেন। আদালত পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পর পিবিআই বের করে আনে হত্যার রহস্য।

পিবিআই পরিদর্শক মতিউর রহমান বলেন, তদন্তের শুরুতে জানতে পারি সদর দক্ষিণ থানার উৎসব পদুয়া গ্রামের মোর্শেদ আলমের মেয়ে রহিমা আক্তার শিপার (১৯) সঙ্গে শরীফের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের পরিচয় হয় শিপার মামা আবু তাহেরের মাধ্যমে। বৃহস্পতিবার শিপাকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা টাকিয়া কদমা গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। শিপা জানান, তাদের প্রেমের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি মামা আবু তাহের। তিনি বিভিন্নভাবে শরীফকে হুমকি দেন। ঘটনার কয়েক দিন আগে শরীফ বাড়িতে দেখা করতে এলে তার আরেক মামা বিষয়টি দেখে ফেলেন। তখন ওই মামাও শরীফকে হুমকি দেন। বেশ কয়েক দিন পর শরীফ তাকে উৎসব পদুয়া গ্রামের পাশের রেললাইনে দেখা করতে বলেন। ঘটনার দিন ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর শিপা সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ওই রেললাইনের ধারে দেখা করতে যান। আগে থেকে সেখানে ওত পেতে থাকা শিপার মামা আবু তাহেরসহ আরও কয়েকজন শরীফকে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে। একপর্যায়ে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে শরীফের কপালেও কোপ দেয়। তার ডান হাত ভেঙে দেয়। শরীফকে প্রায় মৃত অবস্থায় পাশের সড়কে নিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় আহত হয়েছে বলে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন তারা। এরপর একটি সিএনজিতে তাকে তুলে দেয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে শরীফের মৃত্যু হয়।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শিপাকে শুক্রবার কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তি দেন। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠান আদালত। এ ঘটনায় তার মামা আবু তাহেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকেও জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।’ৎ