ঢাকা   বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  সদর উপজেলাবাসীর আশার আলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াছমিন (জামালপুরের খবর)        বকশিগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের সাথে জনতার সংলাপ (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিতর্ক প্রতিযোগিতা (জামালপুরের খবর)        খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেনা সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জামালপুরের খবর)        বাল্যবিবাহ মুক্ত ময়মনসিংহ বিভাগ ঘোষণা করায় ইসলামপুরে র‌্যালি ও মানববন্ধন (জামালপুরের খবর)        দেওয়ানগঞ্জে জাতীর পিতার জন্ম শত বার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালি, মানববন্ধন, গন স্বাক্ষর ও শপথ গ্রহন (জামালপুরের খবর)        কুষ্ঠ রোগীদের ওষুধ তৈরী ও বিনামূল্যে বিতরণে স্থানীয় কোম্পানীগুলোর প্রতি আহবান প্রধানমন্ত্রীর (জাতীয়)        খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আসল রিপোর্ট বদলে ফেলা হচ্ছে: ফখরুল (রাজনীতি)        অভিযোগ প্রমাণে শাজাহান খানকে ফের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ইলিয়াস কাঞ্চনের (ঢাকা)        আওয়ামী লীগে কোনও দূষিত রক্ত থাকবে না: ওবায়দুল কাদের (রাজনীতি)      

৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সত্যটা জানা যাবে: ফখরুল

Logo Missing
প্রকাশিত: 08:32:17 pm, 2019-11-30 |  দেখা হয়েছে: 4 বার।

আ.জা. ডেক্স:

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সত্যিকার অবস্থা দেশের মানুষ জানতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ৫ ডিসেম্বর আদালত রিপোর্ট চেয়েছেন। সারাদেশের মানুষ প্রত্যাশা করছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সত্য কথাটা বলবেন এই দিন। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি আয়োজিত এক গোলটেবিল সভায় তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, তার স্বাস্থ্যের অবস্থা এত ভয়ঙ্কর, এত ভয়াবহ যে এই মুহূর্তে তাকে বের করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা দরকার। গতকাল (শুক্রবার) একজন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তিনি জানালেন, যে ড্যামেজ তার হচ্ছে, সেটা আর ফিরে আসবে না। তার বাঁ হাত বাঁ সাইটটা প্যারালাইজড। কারও সাহায্য ছাড়া তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। অথচ তাদের সরকারি কর্মকর্তা পিজির (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) পরিচালক বলছেন, তিনি ভালো আছেন, আগের চেয়ে এখন ভালো। ধিক্কার দেই আমি জ্ঞানহীন এই মানুষদের। যারা সত্যকে গোপন করে, তাদের এখানে থাকার অধিকার নেই।

বিএনপি কখনও সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে রাজনীতি করতে চাই। এটা বারবার বলেছি এবং প্রমাণিত হয়েছে। সন্ত্রাসী তো এই সরকার। গত নির্বাচনে তারা সন্ত্রাস করে জনগণের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এখনও সন্ত্রাস করে জোর করে মানুষকে দাবিয়ে রেখে তারা টিকে থাকতে চাচ্ছে। হাইকোর্টের সামনে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা হুমকি দেওয়া শুরু করেছেন। তারা বলছেন, এ ধরনের কর্মসূচি মেনে নেওয়া হবে না। সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। এই হুমকি-ধামকি দিয়ে তো সারা জীবন চললেন। আওয়ামী লীগ তাদের অতীত ভুলে গেছে। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী যিনি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার নাম তারা একবার উচ্চারণ করে না। একাত্তরের যুদ্ধে যিনি নেতৃত্ব দিলেন প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন, তার নাম নেয় না এখন কেউ। জেনারেল ওসমানী যিনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন, তার নামও এখন কেউ উচ্চারণ করে না। কেউ উচ্চারণ করলে তার খবর আছে। এটা হচ্ছে এদের মানসিক অবস্থা। কাউকে সহ্য করতে চায় না আওয়ামী লীগ। তাদের মানসিকতার মধ্যে জমিদারি ভাব আছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নাটক ও ছেলেখেলা দাবি করে ফখরুল ওই নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহবান জানান। তিনি বলেন, নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করুন, এটা এখন দেশের মানুষের একমাত্র দাবি। আওয়ামী লীগের নেতারা প্রায়ই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটা কী ছিল? মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তো এটা ছিল না যে, দেশের মানুষের অধিকার হরণ করে নেবেন। চেতনায় তো এটা ছিল না যে, ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের আগের রাতে ভোট নিয়ে চলে যাবেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তো এটা ছিল না যে, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাভাবিক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে দেবেন না। বাধা দেবেন, টিয়ারশেল মারবেন, গুলি করবেন; তারপরে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ঢোকাবেন। এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তো ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, কথা বলার অধিকার রক্ষা করা হবে। সেই চেতনা আজকে পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, গত দশ বছর আমাদের ওপর অত্যাচার চলছে। কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। লক্ষাধিক মামলায় ২৬ লাখ আসামি করা হয়েছে। কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজনৈতিক দলকে এত বড় ত্যাগ শিকার করতে হয়, সেটা আমার জানা নেই। নিজ দল ও শরিক দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রেসক্লাবের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কক্ষে বক্তব্য রেখে হবে না। গ্রামে-গ্রামে, মহল্লায়-মহল্লায় যান। কথাগুলো মানুষকে বলেন। শুধু ওপরের নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। বিএনপির নেত্রী লড়াই করছেন, বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করছে দাবি করে মহাসচিব বলেন, কথায় কথায় বিএনপিকে দায়ী করলে হবে না। এখন সময় হচ্ছে ঐক্যের। গোটা জাতিকে এই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

সরকারের এক মন্ত্রী তার বন্ধু এবং সেই মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ার একটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সামাজিক অনুষ্ঠানে দেখা হলো। তাকে জিজ্ঞেস করলাম কেমন চলছে? তিনি বলছেন চলছে না। বললাম, কেন ভাই, এত উন্নয়ন হচ্ছে, ৮ পার্সেন্ট গ্রোথ হয়ে গেছে। জবাবে তিনি বললেন, কী বলবো, দেশের মানুষ তো বলতে শুরু করেছে। আমি বললাম, এটা বোঝা যাচ্ছে যে, দেশের মানুষ বলতে শুরু করেছে? কানে যায়? চোখে পড়ে? মির্জা ফখরুল বলেন, আমার খুব কষ্ট হয়। কোনো শাসক যদি দেয়ালের লিখন পড়তো, মানুষের চোখের ভাষা বুঝতো, তাহলে তারা এত অমানুষ হতে পারতো না। এনপিপি সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, বিকল্প ধারার (একাংশের) সভাপতি নুরুল আমীন বেপারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ।