ঢাকা   রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  উন্নয়ন প্রকল্প যেন একটি আরেকটির পরিপূরক হয়: প্রধানমন্ত্রী (জাতীয়)         ইউএনডিপি সুদীর্ঘকাল থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী : স্পিকার (জাতীয়)        আজ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা (জাতীয়)        বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন হচ্ছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী (জাতীয়)        বিটিআরসিকে ১০০০ কোটি টাকা দিলো গ্রামীণফোন (জাতীয়)        খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ, বৃহস্পতিবার শুনানি (আইন ও বিচার)        দূষিত বাতাসের শহরের তালিকা দ্বিতীয় খারাপ অবস্থানে ঢাকা (জাতীয়)        জামিন পাওয়া খালেদা জিয়ার হক : মির্জা ফখরুল (রাজনীতি)        প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত জ্ঞান অর্জন করুন : সেনাসদস্যদের রাষ্ট্রপতি (জাতীয়)        ভারত থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে আগামী মাসেই পাইপলাইন নির্মাণ শুরু (জাতীয়)      

আরও দুয়েকদিন থাকবে শৈত্যপ্রবাহ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে ৬ ডিগ্রি

Logo Missing
প্রকাশিত: 11:27:10 pm, 2020-01-22 |  দেখা হয়েছে: 2 বার।

আ.জা.ডেক্সঃ

দেশের উত্তরে বিস্তীর্ণ এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের যে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা আরও দুয়েকদিন চলবে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল বুধবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস শ্রীমঙ্গলে। আবহাওয়াবিদরা জানান, চলতি মৌসুমে এখন চতুর্থ শৈত্য প্রবাহ চলছে। মাঘ মাসের প্রথম সপ্তাহের পর কুয়াশার দাপটের সঙ্গে উত্তরে শীতের তীব্রতা বাড়ল। আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন বলেন, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগসহ রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুরের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। এলাকার বিস্তার না বড়লেও এ জন্যে আরও দু’দিন দিন চলৎ শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। আগামি সপ্তাহে তাপমাত্রা বাড়ার আভাস রয়েছে। বাংলাদেশে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীত মৌসুম ধরা হয়। তবে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে বাংলা পঞ্জিকার মাঘ মাসের শুরুতে বরাবরই শীতের তীব্রতা বাড়ে। এবারের শীত মৌসুমে ডিসেম্বরের শেষার্ধে দুটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায়। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেও ছিল এক দফা শৈত্যপ্রবাহ। গত ২৯ ডিসেম্বর তেঁতুলিয়ায় থার্মোমিটারের পারদ নেমেছিল ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ মৌসুমে এটাই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আর নতুন বছরের শুরুতে ৭ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নামে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা কম থাকলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। থার্মোমিটারের পারদ ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। আর পারদ ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরনিচে নেমে গেলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে বলে ধরা হয়।
এদিকে গত ৪ দিন পর দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে দেখা মিলেছে সূর্যের। চলৎ শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশার পর স্বস্তি ফিরে এসেছে এই জনপদের মানুষের মধ্যে। গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় সূর্যের মুখ দেখা যায়। এরআগে, সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সরেজমিনে আবদুল হাই নামে একজন রিকশা চালক বলেন, গত কয়েক দিনের শীতে প্রায় কাজ করতে পারছি না। আজ সূর্যের দেখা দেওয়ায় আবহাওয়াটা কিছুটা ভালো লাগছে। শরিফুল নামে আরেকজন জানান, এতোটাই ঠান্ডা বাতাস বইছে যে চলাচল করা যায় না। গরম কাপড় পরেও ঠান্ডা কমছে না। রোদের তাপে একটু গরম হওয়ার চেষ্টা করছি। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ওসি রহিদুল ইসলাম জানান, সামনে আরও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
নীলফামারী: প্রথম দফা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পর গত কয়েকদিনে তাপমাত্রা বেড়েছিল খানিকটা। এরপর গত দু’দিন আগে হঠাৎ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নীলফামারীতে ফের শীত বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। গতকাল বুধবার সকালে নীলফামারীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সর্ববোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলার শহরের নিউবাবু পাড়ার ম্যাচে রান্নার কাজে যেতে পারেনি আলেয়া বেগম (৬৫)। তিনি বলেন, ঠান্ডায় পানি নাড়তে পারছি না। হাত-পা ঝিম ঝিম করে। ওই কাজ করে পরিবাবের পাঁচজন মানুষ খাই। ঠান্ডায় কাজে যেতে না পারায়, এখন কীভাবে সংসার চালাবো ভেবে পাচ্ছি না। শহরের কিচেন মার্কেটের পাহারাদার সুধীর চন্দ্র রায় (৬৫) জানান, দু’দিন আগে কুয়াশা কম ছিল। মোটামুটি গরম পড়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ফের শীত পড়তে শুরু করেছে। সকাল থেকে কনকনে ঠান্ডা বাতাস বইছে। ঠান্ডায় ডিউটি করাই দায় হয়ে পড়েছে। দুপুর গড়িয়েও মিলছে না সূর্যের দেখা। সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়া কর্মকর্তা মো. লোকমান হাকিম বলেন, মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। সে কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। ফলে খেটে খাওয়া মানুষ হাত-পা গুটিয়ে আগুন তাপিয়ে দিন পার করছে। হাতে কাজ না থাকায় বিপাকে পড়েছে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। মো. লোকমান হাকিম আরও বলেন, তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি দেশের দ্বিতীয় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। জেলায় আগামি দু’দিনে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গায়: চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীত জেঁকে বসেছে। ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহন ও লোকজনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।পাশাপাশি বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ওসি সামাদুল হক জানান, গতকাল বুধবার সকাল থেকে ছিল ঘন কুয়াশা। সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই তীব্র শীত অনূভুত হতে থাকে। গত মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জেলায় তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল বলে জানান তিনি। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। কুয়াশা ও তীব্র শীতে জনজীবর স্থবির হয়ে পড়লেও নিম্ন আয়ের মানুষেরা বাধ্য হয়েই কাজের সন্ধানে বাইরে বেড়িয়েছেন। চুয়াডাঙ্গার সবজিবাজারের কর্মী শাহ আলম বলেন, কাজের জন্যই খুব ভোরে বাজারে আসতে হয়। আজ ছিল কুয়াশা। কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। এদিকে শীত জেঁকে বসার সঙ্গে সঙ্গে জেলা সদর হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগ আক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়েছে।এর মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা শামীম কবির বলেন, হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। প্রতিদিনই ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কমপক্ষে ৩০-৩৫ জন নতুন রোগী এসে ভর্তি হচ্ছেন। মেডিসিন ওয়ার্ডেও শীতজনিত রোগী এসে ভর্তি হচ্ছেন।