ঢাকা   রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  উন্নয়ন প্রকল্প যেন একটি আরেকটির পরিপূরক হয়: প্রধানমন্ত্রী (জাতীয়)         ইউএনডিপি সুদীর্ঘকাল থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী : স্পিকার (জাতীয়)        আজ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা (জাতীয়)        বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন হচ্ছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী (জাতীয়)        বিটিআরসিকে ১০০০ কোটি টাকা দিলো গ্রামীণফোন (জাতীয়)        খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ, বৃহস্পতিবার শুনানি (আইন ও বিচার)        দূষিত বাতাসের শহরের তালিকা দ্বিতীয় খারাপ অবস্থানে ঢাকা (জাতীয়)        জামিন পাওয়া খালেদা জিয়ার হক : মির্জা ফখরুল (রাজনীতি)        প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত জ্ঞান অর্জন করুন : সেনাসদস্যদের রাষ্ট্রপতি (জাতীয়)        ভারত থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে আগামী মাসেই পাইপলাইন নির্মাণ শুরু (জাতীয়)      

ইসলামপুরে যত্রতত্র ডাক্তারী পরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাই : জনস্বাস্থ্য হুমকীর মুখে

Logo Missing
প্রকাশিত: 02:40:42 am, 2020-01-28 |  দেখা হয়েছে: 4 বার।

ওসমান হারুনী:

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পৌর শহরসহ যত্রতত্র ডাক্তারী পরীক্ষা ছাড়া পশু জবাই হচ্ছে। শহরের শহীদ বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ব্রীজ পাড় বঙ্গবন্ধু মোড় বাজারে ইউনুস কসাই খাবার অনুপযোগী, রুগ্ন,চুরাই মহিষ জবাই করে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণাসহ এক কেজি মাংসে তিনপোয়া তেল ও হাড় দিয়ে বিক্রি করে আসছে। ফলে জনস্বাস্থ্য হুমকীর মুখে পড়েছে। বিযয়টি যেন দেখার কেউ নেই।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পশু জবাই ও মাংস পরীক্ষা’ নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘জবাইখানায় পশু রাখার শেড থাকতে হবে। এবং ঝুলিয়ে পশুর চামড়া ছাড়াতে হবে যাতে মাটি স্পর্শ করতে না পারে। কমপক্ষে তিন দিন পশু রেখে ডাক্তারি পরীক্ষায় সার্টিফিকেট মিললেই জবাইয়ের জন্য নেওয়া হবে। চাকু দিয়ে চামড়া তোলা যাবে না, পুলিং চেইন ব্যবহার করতে হবে। জবাই করার পর মাংস কুলিং অবস্থায় আট থেকে ২৪ ঘণ্টা রাখতে হবে যাতে মাংসের ওপর চর্বির কোটিং পড়ে। এতে মাংস জীবাণুমুক্ত থাকবে। প্রসেসিং রুমে প্যাকেটিং করার আগে ভেটেরিনারি সার্জন পয়জন ও অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য পরীক্ষার পর সার্টিফিকেট দেবেন এটা বাজারজাত হবে কি না। বাজারজাতের উপযুক্ত হলে সিলম্যান গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়ার জন্য আলাদা আলাদা সিল দেওয়া হবে।এর পর সরকারি চার্জ হিসেবে টাকা নিবেন। জবাইখানায় আট ঘণ্টা হিসেবে প্রতি শিফটে একজন ভেটেরিনারি ডাক্তার, হুজুর, পরিদর্শক, সিলম্যান এবং ক্লিনার থাকবে। এভাবে পশু জবাই হলেই কেবল স্বাস্থ্যসম্মত মাংস পাওয়া যাবে।

এ নীতিমালার শর্ত মেনেই জবাই স্ল্যাবের ইজারাদার ইজারা নেন। সরকার অনুমোদিত জবাইখানার বাইরে এবং সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া পশু জবাই করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিধান রেখে ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ বিল’ ২০১১ পাস হয়েছে।

এ বিলে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিক্রির জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জবাইখানার বাইরে পশু জবাই করতে পারবে না। আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তির ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন ২০০৯ অনুসারে বিচার হবে। বিচারে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে অনূর্ধ্ব এক বছর বিনা শ্রম কারাদন্ড অথবা ন্যূনতম পাঁচ হাজার এবং অনূর্ধ্ব ২৫ হাজার টাকা আর্থিক দন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার পৌর শহরসহ যত্রতত্র ডাক্তারী পরিক্ষা ছাড়া পশু জবাই হচ্ছে। শহরের শহীদ বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ব্রীজ পাড় বঙ্গবন্ধু মোড় বাজারে ইউনুস কসাই প্রতি সম্পাহে খাবার অনুপযোগী, রুগ্ন মহিষ অবৈধভাবে জবাই করে ঢাক ঢুল পিটিয়ে মাইকং করেন ক্রেতাদের সাথে প্রতারণাসহ এক কেজি মাংসে তিনপোয়া তেল ও হাড়, খাওয়ার অনুপোযোগী অংশ গোপনে দিয়ে দিয়ে বিক্রি করে আসছে। এই নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিযয়টি যেন দেখার কেউ নেই।

এছাড়াও ইসলামপুর ধর্মকুড়া বাজারে পৌরসভার একটি মাত্র কসাই খানা রয়েছে। কিন্ত কসাইখানাটি একটি কলেজের সংলগ্ন পড়ায় বর্তমানে কার্যক্রমবন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পৌরকসাইখানার অধীনে পৌর এলাকায় প্রায় ১০/১২ টি মাংসের দোকান রয়েছে। প্রতি বছর সরকারি নীতিমালা মেনে পৌরসভা থেকে কসাইখানা ইজারা প্রদান করা হয়। কিন্তু ইজারাদার তার কোন তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছা মত বাজারের যত্রতত্র পশু যবাই পরিচালনা করছে। দুর্গন্ধের ফলে বাজারের মার্কেটসহ পৌর সভার রাস্তা দিয়ে জনগণ চলাচল করতে পাচ্ছেনা। এই উপজেলায় প্রতিটি ব্যবসায়ী তাদের নিজেদের ইচ্ছা মত পশু জবাই করে কোন প্রকার পরীক্ষা ছাড়া নিজেরাই সিল মেরে মাংস বিক্রয় করেন। আবার বিক্রয়ের সময় দেখা যায় নানা প্রতারণা। অসুস্থ ও দুর্বল পশুর মাংশ বিক্রয় করা, ওজনে কম দেওয়া, খাওয়ার অনুপোযোগী অংশ গোপনে দিয়ে দেওয়া, ক্রেতা ভেদে দাম বেশি নেওয়া ও ময়লা যুক্ত মাংস বিক্রয় করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যায়। জানা যায়,ইসলামপুর প্রাণি সম্পদ অফিস থেকে উপ-সহকারী খলিলুর রহমানকে পশু পরীক্ষা করার দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি নির্দিষ্ট সময়ে জবাই করার পশু পরীক্ষার দায়িত্ব পালন না করে ফাঁিক দিয়ে কসাইদের কাছে মাসোয়ারা নিয়ে থাকেন। এব্যাপারে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. ছানোয়ার হোসেনর সাথে কথা হলে তিনি জানান,বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখবেন।

ইসলামপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের শেখ জানান, শেখ হাসিনা হেল্থ টেকনিক্যাল কলেজের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণে কসাইখানা আপাতত বন্ধ রয়েছে। খুব শিগ্রই জায়গা খুজেঁ কসাইখানা অন্যত্র স্থাপন করা হবে। আর পৌর এলাকায় কেই অনুমতি ছাড়া পশু জবাই করে বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান,তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিবেন।

Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!