ঢাকা   বৃহস্পতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  ৭ মার্চ জাতীয় দিবস ঘোষণার নির্দেশ হাইকোর্টের (জাতীয়)        অনৈতিক সম্পর্কে বাধ্য করানোয় স্বামীকে হত্যা করে প্রতিশোধ (অপরাধ)        প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই পাপিয়া গ্রেফতার: ওবায়দুল কাদের (অপরাধ)        প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ১৭২ শিক্ষার্থী (শিক্ষা)        পিলখানা ট্র্যাজেডি: নিহতদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা (জাতীয়)        বিরোধী দলকে হয়রানি ও ক্ষমতাসীনদের প্রতি নমনীয় দুদক: টিআইবি (বাংলাদেশ)        নিরাপদ খাদ্য আইন মেনে চলতে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি (বাংলাদেশ)        এনু-রুপনের আরেক বাড়িতে অভিযান, পাঁচ সিন্দুক থেকে ২৬ কোটি টাকা উদ্ধার (জাতীয়)        পিলখানা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করবে বিএনপি: ফখরুল (রাজনীতি)        জ্বর নিয়ে বাংলাদেশে এসে হাসপাতালে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক (জাতীয়)      

খালেদার জীবন রক্ষাই এখন মুখ্য: ফখরুল

Logo Missing
প্রকাশিত: 09:28:05 pm, 2020-02-12 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আ.জা. ডেক্স:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কারাগারে থাকা তাদের অসুস্থ নেত্রী খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষা করাই এখন দলের কাছে মুখ্য। গতকাল বুধবার ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির যৌথ সভা শেষে এক সংবাদ ব্রিফিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুলের এই উত্তর আসে। তিনি বলেন, সরকার সুপরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে হত্যা করার জন্য কারাগারে আটকে রেখেছে। আমরা তাকে বাঁচাতে চাই। তার মুক্তির জন্য সাংবিধানিকভাবে যতরকমের চেষ্টা করার আমরা সবই করছি। আইনগতভাবেও যতরকম পথ আছে সবরকম চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে এটা আইনের মধ্যে নেই। সেজন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার মুক্তির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন পুরো ইচ্ছেটাই সরকারের হাতে। অন্যায়ভাবে তাকে গ্রেফতারের জন্য সরকারই দায়ী। এ ধরনের মামলায় সাত দিনের মধ্যে জামিন হওয়ার কথা। সাধারণ নাগরিকও সাত দিনে জামিন পায়। কিন্তু ওনাকে দুবছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে। আইনমন্ত্রী কিছুদিন আগে বলেছেন- বিশেষ আইনে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা আছে। সেই বিষয়ে কোনও চেষ্টা করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আইনের সবগুলো বিষয়ে চেষ্টা করেছি, করে যাবো। পরিষ্কার করে একটা বিষয় বলছি, তাকে আইনিভাবে নয়, বেআইনিভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আটক করে রাখা হয়েছে। সুতরাং সিদ্ধান্তটা রাজনৈতিক হতে হবে। অর্থাৎ দখলদার সরকারকে নিতে হবে, তাকে আটক করে রাখবেন, নাকি একটা সুষ্ঠু পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপ করবেন কিনা জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা সবসময় জানাচ্ছি। আপনাদের মাধ্যমে জানাচ্ছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছি। সংসদেও আলোচনা হয়েছে। এখন পুরো বিষয়ে সরকারের কাছে বল দেওয়া আছে। এর জন্য দায়ী সরকার। তারা বেআইনিভাবে তাকে আটক করেছে। এই ধরনের মামলাতে একজন সাধারণ নাগরিকও ৭ দিনের মধ্যে জামিন পান। দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রাখা হয়েছে। গত মঙ্গলবার হাসাপাতালে গিয়ে তাকে দেখে আসার পর তার বোন সেলিমা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে খালেদা জিয়াকে মুক্তি বা জামিন দেওয়া উচিত। আমাদের আবেদন, তাকে মুক্তি দেওয়া হোক। অন্তত উন্নত চিকিৎসাটুকু করতে পারি যেন- এটাই আমাদের একমাত্র আবেদন। খালেদা জিয়ার প্যারোলের জন্য তার পরিবার আবেদন করছে বলে যে গুঞ্জন রয়েছে- সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিএনপি মহাসচিব গতকাল বুধবার বলেন, এটা (প্যারোল) সম্পর্কে আমরা ঠিক বলতে পারব না। কারণ এটা আমরা করিনি। তার পরিবার থেকে প্যারোলের আবেদন করা হয়েছে কিনা সেটাও আমাদের জানা নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পূর্বঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের অংশ হিসেবে শনিবার ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে মিছিল হবে বেলা ২টায়। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হবে মিছিলটি। বিক্ষোভ মিছিলের অনুমতি পেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনুমতির প্রয়োজন নেই। আমরা বার বার বলেছি, এটা অনুমতির বিষয় না। প্রসঙ্গত, গত শনিবার খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত সমাবেশ থেকে সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব। তবে বিক্ষোভ মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিক্ষোভ মিছিলের অনুমতির দরকার হয় না। নিয়ম ও আইন আছে- অবগত করার, আমরা তাদেরকে অবগত করবো বিক্ষোভ মিছিলেন আগে সমাবেশ হবে কিনা জানতে চাইলে মহাসচিব বলেন, সমাবেশ বলতে যা বোঝায় সেটা করবো না। তবে বিক্ষোভ মিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখা হবে। এসময় আওয়ামী লীগ ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না বলে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি তাদের নতুন চরিত্র নয়। ৭২ সালেও আমরা তাদের এই চরিত্র দেখেছি। ওই সময় যেসব রাজনৈতিক দল ও লোকেরা ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন তাদের ওপর নির্যাতন হয়েছে। সেই সময় নতুন একটি দল রক্ষীবাহিনী করে বিরোধীমতের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। আজকেও তারা একই কায়দায় সংবিধানকে কেটে-ছিঁড়ে ভিন্নপন্থায় একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করছে। ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল প্রমুখ।