ঢাকা   বৃহস্পতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ে দলে নতুন মুখ মাধেবেরে (খেলাধুলা)        বার্সেলোনাকে রক্ষা করলেন গ্রিজম্যান (খেলাধুলা)        ঘরের মাঠে বায়ার্নের কাছে বিধ্বস্ত চেলসি (খেলাধুলা)        অশান্ত দিল্লিতে কারফিউ, নিহত ১৭ (আন্তর্জাতিক)        কোথায় ছিলেন অমিত শাহ, তার পদত্যাগ করা উচিত: সোনিয়া (আন্তর্জাতিক)        পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে ডাকা উচিত: কেজরিওয়াল (আন্তর্জাতিক)        দিল্লির মসজিদে আগুন, মিনারে হনুমানের পতাকা (আন্তর্জাতিক)        দিল্লিতে প্যান্ট খুলে সাংবাদিকের ধর্ম যাচাই (আন্তর্জাতিক)        করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭৬৩ (আন্তর্জাতিক)        টানা ২৫ দিন চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে অপূর্ব (বিনোদন)      

ধর্ম নিয়ে রেষারেষি কেন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

Logo Missing
প্রকাশিত: 09:41:19 pm, 2020-02-12 |  দেখা হয়েছে: 4 বার।

আ.জা. ডেক্স:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা যদি বিশ্বাস করি শেষ বিচার করবেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, কে বেহেশত যাবে, কে দোজখে যাবে তা তো আল্লাহ নির্ধারণ করবেন। সেই বিচারটা এখন বান্দা কেন করবে। কে মুসলমান, কে মুসলমান না, কে ধর্ম পালন করে, কে ধর্ম পালন করে না সেও তো আল্লাহ বিচার করবেন। যে যা করবে তার ফল তাকেই ভোগ করতে হবে। কারও ফল তো অন্য কেউ ভোগ করে দেবে না। এ অবস্থায় কেন এই রেষারেষিটা থাকবে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মের মধ্যে ভাগ করা, কে ভালো, কে ভালো না আমি জানি না। আমাদের নবী করিমও (সা.) একথা বলেননি। অথবা ইসলাম ধর্মও একথা বলেনি। আমি মনে করি আমাদের ইসলাম ধর্মে যারা বিশ্বাসী তারা যদি ইসলাম ধর্মকেই বিশ্বাস করে এবং নবী করিম (সা.) এর বাণী সেটাও যদি ধারণ করে, সেটাও যদি মেনে চলে তাহলে তো এই বিচারের পথে কেউ যেতে পারে না। আমি ভালো মুসলমান না উনি ভালো মুসলমান এটা বলার দায়িত্ব তো আল্লাহ কাউকে দেননি। এই বিচার করার অধিকারও কাউকে দেননি। আল্লাহ তো বারবার বলেছেন, কুরআনেও বলা আছে শেষ বিচার আল্লাহ রাব্বুল আলামিন করবেন। সেই ধৈর্যটা থাকবে না কেন। এখানে আমি বলবো যারা সত্যিকার অর্থে ইসলাম বিশ্বাস করে তারা প্রত্যেকেই যার যার ধর্ম সেই সেই পালন করবে।

তিনি বলেন, কারও ধর্মে আঘাত দিয়ে কথা না বলা, মুসলমান হয়ে মুসলমানকে আঘাত এটা যেন না করে। একই সঙ্গে অন্য ধর্মালম্বীদেরও (এটাও ইসলামের শিক্ষা) আঘাত করা যাবে না। আঘাত করা উচিত না। সুরা কাফে স্পষ্ট বলা আছে। যার যার ধর্ম তার তার কাছে। যার যার ধর্ম সেই সেই পালন করবে। সেই বিশ্বাস নিয়ে চললে এই দ্বন্দটা থাকে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম হলো ইসলাম ধর্ম। সেই ধর্মে আমাদের শান্তির কথা বলা আছে। জীবনযাত্রা, জীবনমান সবকিছু চমৎকারভাবে বলা আছে। সেখানে জঙ্গিবাদ সমস্যা শুধু বাংলাদেশে না এটা সারা বিশ্বব্যাপী। ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয়ে আমাদের এই ধর্মটাকে মুষ্টিমেয় লোকের জন্য বিশ্বের কাছে ইসলাম ধর্ম প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে। আমরা সব সময় সেটাতে আপত্তি জানিয়েছি। ধর্মের নামে যেন জঙ্গিবাদ সৃষ্টি না হয়। তার জন্য আমরা আলেম ওলামাদের এক করে (আমাদের ছাত্রছাত্রী যুব সমাজ যেন সচেতন হয় এবং ইসলাম ধর্মের সত্যিকার বাণীটা যেন বুঝতে পারে তার জন্য) সম্পৃক্ত করেছি। তার কিছু ভালো ফলও আমরা পাচ্ছি।

এদিকে কিশোরগঞ্জ-৩ এর সংসদ সদস্য, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নুকে কালার ব্লাইন্ড বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে রসিকতা করে মুজিবুল হক চুন্নুর একটি মন্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রীর রঙিন শাড়ির প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সংসদ নেত্রীকে দেখে আজকে মনে হলো বসন্ত খুব শিগগিরই। সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেওয়ার শুরুতে সংসদ সদস্য মুজিবুল হককে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় সংসদ সদস্যের জানা উচিত বসন্তের যে রং সেটা বাসন্তী রং। আমি কিন্তু বাসন্তী রংয়ের কাপড় পরিনি। এখানে অনেক রঙ আছে, কালোও আছে। আমার মনে হচ্ছে সংসদ সদস্য বোধ হয় কালার ব্লাইন্ড। অর্থাৎ রং কানা। এটার বাংলা করলে হয় রং কানা। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জানি না আজকে বাড়িতে যেয়ে ওনার কপালে কি আছে।

সম্পূরক প্রশ্নে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ, প্রয়োজনে আইন করার বিষয়ে জানতে চান মুজিবুল হক চুন্নু। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সান্ধ্যকালীন ক্লাস নিয়ে যে সমস্যার কথা বলা হয়েছে সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতিও বলেছেন, এ বিষয়ে যাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয় সেটা আমি দেখছি। তবে এজন্য আইন করার প্রয়োজন নেই। এটা প্রাতষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সব কিছুতে আইন করার প্রয়োজন নেই। এটা বিশ্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, ইউজিসি ব্যবস্থা নিতে পারে।