ঢাকা   সোমবার ৩০ মার্চ ২০২০ | ১৬ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  শেরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় ১ ব্যক্তি খুন (জেলার খবর)        জামালপুরে গত ২৪ ঘন্টায় ২৫ জন হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়া পেয়েছেন (জামালপুরের খবর)        করোনা প্রভাবে কর্মহীন শ্রমজীবি মানুষের ঘরে জেলা প্রশাসনের খাবার বিতরণ (জামালপুরের খবর)        করোনা মোকাবেলায় বকশিগঞ্জ মেয়রের দিনরাত্রী (জামালপুরের খবর)        জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াছমিন ঘরে ঘরে পৌছে দিলেন ত্রান (জামালপুরের খবর)        ইসলামপুরে করোনা পরিস্থিত মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশনা মানছে না অনেকেই (জামালপুরের খবর)        সরিষাবাড়ীতে দরিদ্রদের মধ্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর চাল-ডাল বিতরণ (জামালপুরের খবর)        করোনা প্রতিরোধে গোল্ডেন জামালপুরের জীবানুনাশক সামগ্রী বিতরণ (জামালপুরের খবর)        রৌমারীতে ৭০২ পিস ইয়াবাসহ ১জন কে আটক করেছে বিজিবি (জামালপুরের খবর)        করোনার ক্লান্তিকালে বকশিগঞ্জ পৌরসভার ত্রাণ সহায়তা (জামালপুরের খবর)      

খালেদার প্যারোলের আবেদনের বিষয়ে জানা নেই: রিজভী

Logo Missing
প্রকাশিত: 10:23:05 pm, 2020-02-17 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আ.জা. ডেক্স:

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলের আবেদনের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তির জন্য সারাদেশে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত আছে। দু’দিন আগেও আমরা একটা বড় সমাবেশ করেছি। আমরা এখনও তার মুক্তি দাবি করছি। প্যারোলের আবেদন ও পরিবারের দেওয়া চিঠির বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে অবগত নন জানিয়ে রিজভী বলেন, যখন জানতে পারবো তখন অবশ্যই আপনাদের জানাবো। তার স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে আমরা বারবার তুলে ধরছি। তার অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। সেজন্য আমরা এই মুহূর্তে তার মুক্তি দাবি করছি।

এর আগে লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের উন্নয়নের কথিত স্লোগানের আড়ালে গত এক দশকে বাংলাদেশ হারিয়েছে তার সকল অর্জন আর মর্যাদা। গুম খুন অপহরণের ফলে উদ্ভূত ভয়ে জনগণকে পরিণত করা হয়েছে একটি আত্মমর্যাদাহীন জাতিতে। তিনি বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষান রেড্ডি বলেছেন, ভারতের নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলে অর্ধেক মানুষ বাংলাদেশ ছেড়ে দেবে। ভারতীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্য ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও কান্ডজ্ঞানহীন; যা বাংলাদেশের জনগণের জন্য লজ্জাকর ও অপমানজনক। রিজভী বলেন, লাখো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে, অসংখ্য মা বোনের সম্মান- সম্ভ্রমের বিনিময়ে ৭১ সালে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলাম পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে এসে ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় নয়। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে দেশের দামাল ছেলেরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, স্বাধীন ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র ও নাগরিক হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশে মাথা উঁচু করে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার জন্য। অথচ, আমরা আশ্চর্যের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, বাংলাদেশের জনগণ সম্পর্কে ভারত সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর এমন উদ্ভট মন্তব্যের পরও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এতোদিনেও কোনরকমের প্রতিবাদ জানানো হয়নি।

রিজভী বলেন, গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কে ভোট দিলো, কে দিলো না তা বিবেচনা করে না আওয়ামী লীগ। এই বক্তব্যের মাধ্যমে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যেই স্বীকার করে নিলেন, তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য কিংবা সরকার গঠনের জন্য দেশের জনগণ কিংবা জনগণের ভোটের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় নিশিরাত আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। জনগণের প্রতি, জনগণের ভোটাধিকারের প্রতি এমন অবজ্ঞা ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য একমাত্র সরকারপ্রধান এবং তার দল আওয়ামী লীগের পক্ষেই সম্ভব। কারণ সুষ্ঠু ভোট তাদের জন্য আতঙ্ক, তাদের মসনদ উল্টে যাওয়ার ভয়ে তারা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবৈধ ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। এই কারণেই আমরা বলি, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের জনগণ ক্ষমতাহীন হয়ে যায়। আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকলে জনগণ দেশে অনিরাপদ আর বিদেশে আত্মমর্যাদাহীন হয়ে যায়।

রিজভী আরো বলেন, বিতর্কিত এবং ক্রুটিপূর্ন হওয়ার কারণে সারাবিশ্বে নিষিদ্ধ ইভিএম বাংলাদেশে আমদানি করতে রাষ্ট্রের খরচ হয়েছে শত-শত কোটি টাকা। এবারের ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আবারও প্রমাণিত হয়েছে, ইভিএম হলো মহা ভোট চুরির শান্তিপূর্ণভাবে-নিরাপদে-ঝামেলামুক্ত যন্ত্র। অথচ, এই ভোট চুরির মেশিনের পক্ষে সাফাই গেয়েই চলছেন সিইসি। কারণ, তাদের ভোটের দরকার নেই, তাদের দরকার ইভিএমের নামে মানুষের ভোটাধিকারের সঙ্গে রঙ্গতামাশা করা আর ইভিএম কেনার নামে রাষ্ট্রের শতশত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা। তিনি বলেন, একটি সভ্য দেশ হলে নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল, নির্বাচন কমিশনের প্রতি, নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। সেটি না কোরে সিইসি এখন রাজনৈতিক নেতাদের মতো বক্তৃতা দিচ্ছেন। রিজভী বলেন, আমরা বলতে চাই, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের শান্তিপূর্ণ শোডাউন ভোটের প্রচার কার্যক্রমেরই তিনি বলেন, খারাপ মানুষ যাতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতে না পারেন, এজন্য নির্বাচন কমিশনের উচিত সময়োপযোগী আইন ও বিধি তৈরি করা এবং নির্বাচনের এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা জনগণ তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে। সিইসি সেটি না করে তিনি সারাবিশ্বে নিষিদ্ধ ইভিএম নিয়ে দেশে হেড মাস্টার সেজেছেন। সিইসির ক্ষমতা পেয়েই নিজের অখ্যাত ভাগ্নেকে যিনি এমপি বানানোর লোভ সামলাতে পারেন না তার মুখে আর ভোট নিয়ে কোনো কথা মানায় না। ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটাররা ইভিএম ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলেও সিইসি চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ডিজিটাল কারচুপির এই যন্ত্র ব্যবহার করার আবারও ঘোষণা দিয়েছে। তার মানে ঢাকার মতো একই কায়দায় চট্টগ্রামে ভোট ডাকাতির সুযোগ তৈরির জন্য এটা করা হচ্ছে। সিইসির এই সিদ্ধান্তকে আমরা ধিক্কার জানাই।