ঢাকা   সোমবার ৩০ মার্চ ২০২০ | ১৬ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  শেরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় ১ ব্যক্তি খুন (জেলার খবর)        জামালপুরে গত ২৪ ঘন্টায় ২৫ জন হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়া পেয়েছেন (জামালপুরের খবর)        করোনা প্রভাবে কর্মহীন শ্রমজীবি মানুষের ঘরে জেলা প্রশাসনের খাবার বিতরণ (জামালপুরের খবর)        করোনা মোকাবেলায় বকশিগঞ্জ মেয়রের দিনরাত্রী (জামালপুরের খবর)        জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াছমিন ঘরে ঘরে পৌছে দিলেন ত্রান (জামালপুরের খবর)        ইসলামপুরে করোনা পরিস্থিত মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশনা মানছে না অনেকেই (জামালপুরের খবর)        সরিষাবাড়ীতে দরিদ্রদের মধ্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর চাল-ডাল বিতরণ (জামালপুরের খবর)        করোনা প্রতিরোধে গোল্ডেন জামালপুরের জীবানুনাশক সামগ্রী বিতরণ (জামালপুরের খবর)        রৌমারীতে ৭০২ পিস ইয়াবাসহ ১জন কে আটক করেছে বিজিবি (জামালপুরের খবর)        করোনার ক্লান্তিকালে বকশিগঞ্জ পৌরসভার ত্রাণ সহায়তা (জামালপুরের খবর)      

দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে বিতরণ কোম্পানিগুলোর ভূগর্ভস্থ লাইন নির্মাণের উদ্যোগ

Logo Missing
প্রকাশিত: 10:29:12 pm, 2020-02-18 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আ.জা.ডেক্সঃ

বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু তারপরও সরকারের পক্ষে দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘোষণা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে বিতরণ অবকাঠামো উন্নত করতে হবে। আর ওই প্রক্রিয়ায় প্রথমেই বিতরণ লাইন মাটির নিচে নিয়ে যাওয়ার কাজ করতে হবে। পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুতের সাবস্টেশনও মাটির নিচে নিয়ে যেতে চায় সরকার। ওই লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) নিজস্ব বিতরণ এলাকার কিছু অংশে বিদ্যুতের বিতরণ লাইন মাটির নিচে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। আবার ঢাকার দুই বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানি ডিপিডিসি এবং ডেসকোও ভূগর্ভস্থ লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। সেক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল পল্লী বিদ্যুৎতায়ন বোর্ড (আরইবি)। এবার তারাও বিতরণ লাইন মাটির নিচে নেয়ার বড় প্রকল্প হাতে নিল। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশে মোট বিদ্যুতের উৎপাদন ২৩ হাজার মেগাওয়াট। তার বিপরীতে চাহিদা গ্রীষ্মেই ১৪ হাজার মেগাওয়াটের বেশি নয়। ফলে এখন গ্রীষ্মেই অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়। বিশেষ করে ডিজেল চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বছরের বেশিরভাগ দিনই বন্ধ থাকে। আর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ দেয়া সম্ভব হলে বিদ্যুতের চাহিদা আরো কিছুটা বাড়তে পারে। সেজন্য ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ বিতরণ সংস্থাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সূত্র জানায়, দেশের ১১ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৮ হাজার ৮৬৮ কিলোমিটার বিতরণ লাইন ভূগর্ভে নিয়ে যেতে চায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এক কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ লাইন নির্মাণে প্রয়োজন হবে ৫ কোটি টাকা। ওই হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সব লাইন মাটির নিচে নিতে প্রয়োজন হবে প্রায় ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রথমদিকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী জেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লাইন ভূগর্ভে যাবে। যদিও ওভারহেড মাটির উপরিভাগে এক কিলোমিটার লাইন নির্মাণে ব্যয় হয় এক কোটি টাকার মতো। সেখানে এক কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ লাইন নির্মাণের ব্যয় পাঁচ গুণ। কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে ভূগর্ভস্থ লাইন নির্মাণের কোন বিকল্প নেই। কারণ ঝড় ঝঞ্ঝার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভূগর্ভস্থ লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার প্রয়োজন পড়ে না। মাটির নিচে দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন যাওয়াতে ওই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরবরাহ লাইন বিনষ্ট হয় না। আর একবার বসালে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ থাকে না। ফলে শুরুতে বিনিয়োগ কিছুটা বেশি হলেও ভূগর্ভস্থ লাইন নির্মাণ দীর্ঘ মেয়াদে লাভজনক। আরইবির অধিকাংশ লাইন উপরিভাগ দিয়ে গেছে। গ্রামীণ এলাকায় গাছপালার মধ্য দিয়ে ওই ধরনের লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে প্রায়ই লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা সংস্কার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করাতে গ্রাহক বিড়ম্বনায় পড়ে যায়।
সূত্র আরো জানায়, দেশে ৬১ জেলায় আরইবি ৮১ সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ করে। দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে আরইবি এলাকায় বসবাস করে ১০ কোটি ৬৮ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ। প্রতিদিন ওসব মানুষের ঘরে ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে দেশের সব থেকে বড় এই বিতরণ কোম্পানিটি। ইতিমধ্যে আরইবির ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৪ এর আওতাধীন কেরানীগঞ্জ এলাকার ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক লাইনের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তার মধ্যে ৫৩৭ কিলোমিটার ওভারহেড বিতরণ লাইনকে ভূ-গর্ভস্থ ক্যাবল দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হবে। আরইবি সেজন্য ২ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছে। বর্তমানে প্রস্তাবটি বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তাছাড়া মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৫৯৬ কিলোমিটার, মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৩৩৪ কিলোমিটার, নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর ৭২ কিলোমিটার, নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর ৩০০ কিলোমিটার, নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর ১৪০ কিলোমিটার, নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর ৪৪৫ কিলোমিটার এবং গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর ৭৩৮ কিলোমিটার ওভারহেড বিতরণ লাইন মাটির নিচে নিয়ে যাওয়া হবে। সেজন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ করছে আরইবি। সম্ভাব্যতা জরিপ শেষের পর প্রকল্পগুলোর জন্য কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে তা জানা যাবে। তাছাড়া ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর এক হাজার ২৯৩ কিলোমিটার, ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৩ এর এক হাজার ৩৩০ কিলোমিটার এবং গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার ওভারহেড বিতরণ লাইনকে ভূগর্ভে নিয়ে যাওয়া হবে। সেজন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কাজ শুরু করেছে আরইবি।