ঢাকা   সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

ফাদার রিগনের মরদেহ দেশে আনা হচ্ছে আজ

Logo Missing
প্রকাশিত: 06:40:15 pm, 2018-10-20 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আজ ডেক্সঃ বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিক মুক্তিযোদ্ধা ফাদার মারিনো রিগনের শেষ ইচ্ছে পূরণে তার মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। এ দেশের মানুষের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করা এই ধর্মযাজককে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া চার্চের পাশেই সমাধিস্থ করার ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ইতালির ভিচেঞ্চায় মারা যান ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ পাওয়া ফাদার মারিনো। ঠিক এক বছরের মাথায় আজ রোববার তার মরদেহ কফিনবন্দি হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাচ্ছে বলে গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার অনুবিভাগ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার তার শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তার দেহাবশেষ বাংলাদেশের মাটিতে তারই স্থাপিত বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া চার্চের পার্শ্বে সমাধিস্থ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। মারিনো রিগন ১৯২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালির ভেনিসের কাছে ভিল্লভেরলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ১৯৫৩ সালে তিনি বাংলাদেশে আসেন। দেশের নানা জায়গা ঘুরে মোংলার শেলাবুনিয়া গ্রামে থিতু হন এবং সেখানে চার্চ ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তবে তার কাজ ধর্ম প্রচারের গ-ির মধ্যে থেমে থাকেনি। বাংলাদেশের মানুষের দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার প্রসার, চিকিৎসা সেবা ও দুঃস্থ নারীদের উন্নয়নে তিনি সব সময় উদ্যোগী ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল তার অকুণ্ঠ সমর্থন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিতে নিজের চার্চে তিনি গোপনে একটি চিকিৎসা ক্যাম্প খোলেন। সেই ক্যাম্পে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ফিরে গেছেন রণাঙ্গনে। মুক্তিযুদ্ধের হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েত উদ্দিন বীরবিক্রমও তাদের একজন। মুক্তিযুদ্ধে ফাদার মারিনো রিগনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেয়। ২০১২ সালে তাকে দেওয়া হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’। বাংলাদেশে বসবাস শুরু করার পর বাংলা ভাষা শিখতে শুরু করেন ফাদার মারিনো। একপর্যায়ে তিনি বাংলা শিল্প-সাহিত্য নিয়ে গবেষণায় মন দেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও লালন ফকিরের সংগীত ও দর্শনের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট ছিলেন খ্রিস্টান এই ধর্ম যাজক। রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলিসহ প্রায় ৪০টি কাব্যগ্রন্থ, লালন সাঁইয়ের ৩৫০টি গান, জসীম উদদীনের নকশীকাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট ছাড়াও এ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কবিদের অনেক কবিতা তিনি অনুবাদ করেছেন ইতালীয় ভাষায়। ১৯৮৬ সালে ফাদার রিগনের সহযোগিতায় বাংলাদেশের একটি দল ইতালির মঞ্চে পরিবেশন করে নৃত্যনাট্য ‘নকশীকাঁথার মাঠ’। বাংলার নকশিকাঁথাকেও ইতালির বিভিন্ন শহরে তুলে ধরেছেন ফাদার রিগন। তার প্রতিষ্ঠিত শেলাবুনিয়া সেলাই কেন্দ্রে তৈরি করা নকশিকাঁথার চারটি প্রদর্শনী হয় ইতালির বিভিন্ন শহরে। তার কর্মপরিধির বিরাট অংশ জুড়ে ছিল শিক্ষামূলক কার্যক্রম। তার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য তিনি বৃত্তির ব্যবস্থা করেন। ২০০১ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ইতালি নিয়ে যেতে চান। তখনই তিনি শর্ত দিয়েছিলেন, ইতালিতে মৃত্যু হলে তার মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল মুক্তিযোদ্ধার ত্যাগের মহিমাকে সমুজ্জ্বল রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশের এই ‘অকৃত্রিম বন্ধুর’ শেষ ইচ্ছে পূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।