ঢাকা   রবিবার ০৫ এপ্রিল ২০২০ | ২২ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

করোনার কারণে খালেদার মুক্তির কর্মসূচি স্থগিত করেছে বিএনপি

Logo Missing
প্রকাশিত: 08:18:06 pm, 2020-03-10 |  দেখা হয়েছে: 2 বার।

আ.জা. ডেক্স:

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আজ বুধবার সারাদেশে যে বিক্ষোভ কর্মসূচি বিএনপি দিয়েছিল, নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে তা স্থগিত করেছে দলটি। গতকাল মঙ্গলবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানান। তিনি বলেন, সকল মহানগর ও জেলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু মুক্তির দাবিতে আমরা সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটায় জনসমাবেশে আগতগণ যাতে এই ভাইরাসের ঝুঁকিতে পড়তে না হয়, সেজন্য আগামীকালের (বুধবার) ওই কর্মসূচি আমরা আপাতত স্থগিত ঘোষণা করছি।

করোনাভাইসরাসে আক্রান্ত রোগীদের আশু আরোগ্য কামনা ও এই রোগ যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানান ফখরুল। দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের করোনাভাইরাসে প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কর্মকান্ড পরিচালনার আহবান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দুঃস্থ রোগীদের সুচিকিৎসা এবং রোগ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সরঞ্জাম নিয়ে জনগণের পাশের থাকার জন্য আমি দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রায় এক বছর ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে তার সুচিকিৎসা হচ্ছে না দাবি করে জামিনে তার মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন বিএনপি নেতারা। এই দাবিতেই গত শনিবার ঢাকাসহ জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন মির্জা ফখরুল। কিন্তু রোববার আইইডিসিআরের এক সংবাদ সম্মেলনে দেশে প্রথমবারের মত তিনজনের দেহে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানানো হয়। এরপর সারকারি-বেসরকারি নানা পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি স্থগিতের হিড়িক পড়ে যায়।

এদিকে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো নভেল করোনাভাইরাস এখন বাংলাদেশে চলে আসায় সব স্কুল দুই সপ্তাহ বন্ধ রাখার দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, স্কুল-কলেজ, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। অন্ততঃ প্রথম দিকে দুই সাপ্তাহ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তারপর অবস্থা দেখে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আইইডিসিআর গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশে প্রথমবারের মত তিনজনের দেহে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানায়। এরপর থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। গত সোমবার সচিবালয়ে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধা রাখার মত পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। আর শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হলে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই তা নেওয়া হবে। ফখরুলের যুক্তি, দেশের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতেই প্রতিদিন সবচেয়ে বেশি রুটিন জমায়েত হয়। শিশুদের পাশাপাশি অভিভাকরাও স্কুলে যাতায়াত করেন। আর নভেল করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে যেহেতু জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, সেহেতু আপাতত দুই সপ্তাহ স্কুল বন্ধ রাখাই নিরাপদ হবে বলে বিএনপি মনে করছে।

ফখরুল অভিযোগ করেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে যে প্রস্তুতি প্রয়োজন ছিল- সরকার তা নিতে ‘ব্যর্থতার পরিচয়’ দিয়েছে। আপনারা জানেন যে, তিনটি হাসপাতালকে ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের নেওয়ার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে কুর্মিটোলা হাসপাতাল।ৃ ওই হাসপাতাল থেকে সাধারণ রোগীদের সরানো হয়নি। করোনাভাইরাস আর ডেঙ্গু তো এক জিনিস নয়। করোনাভাইরাস এত ছোঁয়াচে যে, অন্যান্য রোগীরা সেখানে আক্রান্ত হয়ে পড়বেন। প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারের উচিত ছিল সেখান থেকে অন্য রোগীদের সরিয়ে দিয়ে শুধুমাত্র করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেখানে রাখার ব্যবস্থা করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা করা হয়নি। ডাক্তার ও নার্সদের যে ট্রেনিং দেওয়া দরকার তা এখনোও দেওয়া হয়নি। সরকারের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব আক্রান্ত রোগী ও সাম্ভব্য আক্রান্তদের সুচিকিৎসা ও ভাইরাসের প্রকোপ যাতে না বাড়ে সেজন্য সর্তকতা ও প্রতিরোধমূলক যাবতীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে সরকারের ব্যর্থতা জনগণ কখনো ক্ষমা করবে না। কারণ জনগণ ১৯৭৪ সালের মত আরেকবার গণমৃত্যুর শিকার হতে চায় না।

এসময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়াপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, নাজিমউদ্দিন আলম, হাবিবুল ইসলাম হাবিব মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, শওকত শাহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদলের কর্মসূচি স্থগিত: করোনা ভাইরাস আতঙ্কে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সাত্তার পাটোয়ারী বলেন, গতকাল মঙ্গলবার পূর্বঘোষিত দলীয় কার্যালয়ে দোয়া-মিলাদ মাহফিল ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, মূল দল বিএনপির নির্দেশেই এসব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবারের বাতিল করা দু’টি কর্মসূচির মধ্যে ছিল, খালেদা জিয়া ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিবের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ।

অপরদিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের প্রথম নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক বাবলু, ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রদল নেতা মিজানুল ইসলাম, সাকিবুল হাসান, আরিফুল ইসলাম ও সজিব মিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। তিনি বলেন, ঘোষিত এসব কর্মসূচি বাতিলের পাশাপাশি মূল দলের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত আপাতত বড় কোনো কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে না।