ঢাকা   রবিবার ০৫ এপ্রিল ২০২০ | ২২ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  মোদীর সঙ্গে যে কথা হলো টেন্ডুলকারের (খেলাধুলা)        মোদীর সঙ্গে যে কথা হলো টেন্ডুলকারের (খেলাধুলা)        মোদীর সঙ্গে যে কথা হলো টেন্ডুলকারের (খেলাধুলা)        ৫ লাখ পাউন্ড অনুদান দিলেন রুট-মর্গ্যান (খেলাধুলা)        ১০ লাখ ডলার অনুদান দিলেন নেইমার (খেলাধুলা)        করোনায় আক্রান্ত বার্সেলোনার সহ-সভাপতি (খেলাধুলা)        আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ইরানে করোনা পরিস্থিতির বড় উন্নতি হবে (আন্তর্জাতিক)        ভারতের ১৪ রাজ্যে তাবলিগ সংশ্লিষ্ট ৬৪৭ জনের করোনা শনাক্ত (আন্তর্জাতিক)        মাস্ক না পরার ঘোষণা ট্রাম্পের (আন্তর্জাতিক)        সলোমন দ্বীপপুঞ্জে ফেরি ঝড়ের কবলে পড়ে ২৮ জনের মৃত্যু (আন্তর্জাতিক)      

অনেক শ্রমবাজার চাহিদাপত্র বাতিল করায় বিপর্যয়ের মুখে দেশের জনশক্তি রফতানি

Logo Missing
প্রকাশিত: 12:41:26 am, 2020-03-25 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আ.জা. ডেক্স:

করোনার প্রভাবে বিশ্ব শ্রমবাজারগুলোতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ইতিমধ্যে অনেক শ্রমবাজারই তাদের চাহিদাপত্র বাতিল করে দিয়েছে। ফলে প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ বছর ১০ লাখ কর্মী বিদেশে চাকরি দিয়ে পাঠানোর যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল তা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মন্ত্রণালয় পুরনো বাজারের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নতুন বাজারে ওসব নিয়োগের টার্গেট নিয়েছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে তাতে এদেশের শ্রমবাজার মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়ার আশঙ্কা বেড়েই চলেছে। প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে বিদেশের বন্ধ শ্রমবাজারগুলো এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও বাহরাইনে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া বিদেশে বাংলাদেশী মিশন ও দূতাবাসের লেবার উইংগুলোর তৎপরতার অভাবেও শ্রমবাজার সম্প্রসারণ হচ্ছে না। সম্ভাবনাময় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে এখনো আশার আলো দেখা না গেলেও দেশটিতে ধরপাকড় অব্যাহত থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা চরম আতঙ্কে রয়েছে। নতুন অনলাইন সিস্টেম চালু হলেও বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যেই করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক শ্রমবাজার সব ধরনের চাহিদাপত্র বাতিল করে দিয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয় অধিক দক্ষ কর্মী বিদেশে প্রেরণের লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে মহামারী আকারে করোনাভাইরাসের আক্রমণ শুরু হওয়ায় ওই উদ্যোগ এখন আশার আলো দেখছে না। কারণ বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে আক্রান্ত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ মারাও গেছে। এমন অবস্থায় কর্মী নিয়োগকারী সব দেশ নিয়োগ বন্ধ ঘোষণা করেছে। কারণ প্রায় সব দেশেই করোনা আক্রমণ করেছে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে বাংলাদেশী লাখ লাখ কর্মী কাজ করছে। ওসব দেশে ব্যাপকহারে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। দিন যত যাচ্ছে আক্রান্ত দেশের সংখ্যা ততো বাড়ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশীরা শুধু আতঙ্কেই নন, তারা চাকরিও হারাচ্ছেন। এই মুহূর্তে ২ লাখ ৬০ হাজারের মতো বাংলাদেশী ইতালিতে রয়েছে। ইতালির বেশিরভাগ শহরে জনকোলাহল থেমে গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তালা ঝুলছে। সুপারশপ, রেস্টুরেন্ট, নাইট ক্লাবগুলোর বেশিরভাগই বন্ধ। সিনেমা হল, যাদুঘরও বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চরম সঙ্কটে পড়েছে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। রেস্টুরেন্টের বেশিরভাগই চীনা মালিকানায়। এরসঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন বাংলাদেশীরা। রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাকরি হারাচ্ছে হাজার হাজার বাংলাদেশী।

সূত্র আরো জানায়, সৌদি আরবে ২৬ লাখের বেশি বাংলাদেশী কাজ করে। সৌদি কর্তৃপক্ষ সেখানে বেশ কয়েক এলাকায় কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। বিনা বেতনে মালিক তাদের ২-৩ মাসের ছুটি দিয়ে দিয়েছে। ছুটি দেয়ার সময় কর্মীদের বলে দেয়া হয়েছে তারা যেন ঘরের বাইরে না যান। ফলে তাদের ঘরেবন্দী জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। যার যার কাছে যে পরিমাণ টাকা ছিল তা দিয়ে খাবার কিনে ঘরে নিলেও পরিস্থিতি যে হারে অবনতি হচ্ছে, তাতে তাদের খাদ্য সঙ্কট দেখা দেয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। সৌদির পরেই ওমান, কাতার, জর্দান, লেবানন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একই অবস্থায় পড়েছে বাংলাদেশী কর্মীরা। গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ লাখের বেশি কর্মী রয়েছে। আর মালয়েশিয়াতে ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশী কর্মী কাজ করে। ওই কর্মীরা কাজ করতে না পারলে তাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে। তাছাড়া থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানের বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী রয়েছে। ইরাকেও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী কাজ করছে। সেখানেও করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। তাছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরী দিয়াগুর একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী ও একটি হাসপাতাল থেকে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। তারপর সেখানে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয়নি। দেশটিতে বাংলাদেশের ৭০ হাজার কর্মী কাজ করছে। দেশটির নাগরিকদের জীবন-যাপনের সঙ্গে বাংলাদেশী কর্মীদের জীবন-যাপনের কোন মিল নেই। সেখানে একটা কক্ষে ১০-১২ জন করে বসবাস করেন। ফলে তাদের সংক্রমিত হলে বহু বাংলাদেশী আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউরোপের মধ্যে ইতালিতে করোনাতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। লম্বার্ডি ও ভেনেতো অঞ্চলের অনেক শহরে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কর্তৃপক্ষ। আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বিশেষ অনুমতি ছাড়া প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা এলাকা ছাড়তে পারবে না। সেখানে অনেক ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে সেশেলস সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে উচ্চ অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়ায় সেশেলস আবার কর্মী নিয়োগ শুরু হয়েছে। সেশেলস সরকারের সঙ্গে ‘এগ্রিম্যান্ট অন লেবার কন্ট্রাক’ (এএলসি) স্বাক্ষর হয়। ওই চুক্তির বলে সেশেলস বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সেক্টরে কর্মী নিয়োগ করছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সরকারী রিক্রুটমেন্ট এজেন্ট হিসেবে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট এ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) সেশেলসে কর্মী রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়া শেষ করেছে। বোয়েসেলের মাধ্যমেই কর্মী নিয়োগ করা হবে। কিন্তু ওই দেশটিও কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে।