ঢাকা   শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

মাশরাফির নির্বাচনের খবর : কী ভাবছেন এলাকাবাসী?

Logo Missing
প্রকাশিত: 02:12:40 pm, 2018-05-30 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে এর প্রতিষ্ঠাতা মাশরাফি বিন মর্তুজা - নয়া দিগন্ত

আগামি সংসদ নির্বাচনে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ মাশরাফি বিন মর্তুজা অংশগ্রহণ করতে পারেন- এমন খবরে নড়াইলে আনন্দ আমেজ বিরাজ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল মাশরাফির নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ে কথা বলেন।

এমন খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখে আনন্দ-আবেগে আপ্লুত নড়াইলবাসী। তারা মাশরাফির রাজনীতিতে আগমনের বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অনেকে বলেন, মাশরাফি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হলে অবহেলিত নড়াইলের উন্নয়ন হবে। লড়াকু মাশরাফি দুর্নীতিমুক্ত থেকে নড়াইলের উন্নয়ন করতে পারবেন বলে সবার বিশ্বাস।

এ ব্যাপারে মাশরাফির বন্ধু আল মামুন বলেন, ওর (মাশরাফি) নির্বাচনে অংশগ্রহণের খবরে খুশি হয়েছি। মাশরাফি দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এলাকার উন্নয়ন করতে পারবেন।

নড়াইল পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শহিদুল হক মোল্যা বলেন, মাশরাফির রাজনীতিতে আসার খবরে আমি তার বাড়িতে ছুটে এসেছি। পরিবারের সঙ্গে দেখা করে শুভ কামনা জানিয়েছি। আশা করি মাশরাফি শুধু এমপি নয়, মন্ত্রীও হবেন। অবহেলিত নড়াইলের উন্নয়ন করবেন।

পুলিশ লাইন এলাকার মনিরা পারভীন বলেন, মাশরাফির মতো দেশপ্রেমিক লোক এমপি হলে এলাকার উন্নয়ন হবে বলে আশাবাদী।

নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী বশিরুল হক বলেন, মাশরাফি রাজনীতিতে আসলে নড়াইলের উন্নয়নে তাকে সবাই সহযোগিতা করবেন এমন প্রত্যাশা আমাদের।

তবে, এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি মাশরাফির বাবা গোলাম মর্তুজা স্বপন ও মা হামিদা মর্তুজা।

এদিকে, নড়াইল পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মলয় কুন্ডু বলেন, মাশরাফি একজন সৃজনশীল ও ভালো মানুষ। তিনি বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষের উপকার করে থাকেন, যা অনেকেই জানেন না। এক্ষেত্রে মাশরাফি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে জেলার সার্বিক উন্নয়ন হবে।

নড়াইল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর বিশ্বাস বলেন, মাশরাফি নড়াইলের গর্বিত সন্তান। দল যদি তাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে তার জন্য কাজ করবো।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু বলেন, দল যদি মনে করে মাশরাফিকে মনোনয়ন দেয়া দরকার; সেটা করবে। বিষয়টি দলীয় সিদ্ধান্ত।

মাশরাফির নির্বাচন প্রসঙ্গে সুর পাল্টালেন মন্ত্রী
বাংলাদেশের ক্রিয়া অঙ্গনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখ মাশরাফি বিন মর্তুজার নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে যে মন্তব্য করেছিলন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সেটার যথার্থতা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলেছেন মন্ত্রী নিজেই। বিষয়টি নিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন,‘আমি দলের পক্ষ থেকে বা কোনো বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে কিছুই বলিনি। তারা (মাশরাফি-সাকিব) নির্বাচন করবে কি না, আমি জানি না। মানুষের মুখে অনেক দিন থেকেই শুনে আসছি মাশরাফি নির্বাচন করবে। সে জন্যই মাশরাফির একজন ভক্ত হিসেবে আমি বলেছি, ও যদি নির্বাচন করে, তাহলে সবাই যেন তাকে ভোট দেন।’

আওয়ামী লীগ থেকে মাশরাফির মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন, ‘আমি মনোনয়ন দেওয়ার কে? আমি তো কেউ না।’ মাশরাফি নির্বাচন করবেন, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্যও তাঁর কাছে নেই, ‘মাশরাফি নির্বাচন করবে কি না, এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোনো খবর আসলেই আমার কাছে নেই। আমিও আপনাদের মতোই লোকমুখে শুনেছি ও নির্বাচন করবে। মাশরাফির সাথে আমার যোগাযোগই নেই। তার মতামত না নিয়ে আমি কীভাবে বলি মাশরাফি নির্বাচন করবে? এটা বলার আমি কেউ না।’

সেটাই যদি হবে, একনেকের সভার পর সংবাদ সম্মেলনে বলা মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে এই ধূম্রজাল কেন? এ ব্যাপারে মুস্তফা কামাল একটু বিস্তারিত ব্যাখ্যাই দিলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) আমরা মাগুরার জন্য একটি রেলওয়ে প্রজেক্ট পাস করি। এটা ছিল শেষ প্রজেক্ট, ১৩ নম্বর। সব আলোচনা শেষে আমি উপস্থিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার লোকজনদের দুষ্টুমি করে বলি, মাগুরার জন্য প্রজেক্ট পাস হলো। মাগুরার লোকজন তো মিষ্টি খাওয়ানোর ভয়ে কেউ কিছু বলছেন না। তখন তারা বলেন, ‘মাশরাফি তো নির্বাচন করবে। সে খাওয়াবে।’ আমি তখন বলি, ‘মাশরাফি নড়াইলের। সে কেন খাওয়াবে! তবে আমিও শুনেছি মাশরাফি এবার নির্বাচন করবে। সে যদি নির্বাচন করে তাহলে আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা সবাই তাকে সমর্থন দেবেন, তার জন্য কাজ করবেন। কারণ সে ভালো মানুষ।’ এ সময় অনেকে সাকিবের নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন করলে মন্ত্রী নাকি বলেছেন, ‘সাকিব যদি নির্বাচন করতে চায় সাকিবও নির্বাচন করবে। সে এখন পরিণত। নির্বাচন করতেই পারে। সেও ভালো মানুষ। নির্বাচন করলে তাকেও আপনারা সমর্থন দেবেন।’

তবে মুস্তফা কামাল ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, মাশরাফি-সাকিব কারওই এবার নির্বাচন করার সুযোগ নেই। কারণ দুজনই এখনো খেলার মধ্যে আছেন, ‘সাকিব, মাশরাফি দুজনই খেলার মাঠে আছে। মাশরাফি তো নিজেই বলেছে সে ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলতে চায়। যদি তারা ক্রিকেট খেলে তাহলে নির্বাচন কীভাবে করবে? তারপরও তারা করতে চাইলে সেটা তাদের ব্যাপার।’

সত্যি সত্যি নির্বাচন করলে জাতীয় দলের এই দুই ক্রিকেটারের পক্ষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী, ‘আমি যখন প্রথম নির্বাচন করি, আমার জন্য ভোট চাইতে গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ও আকরাম খান আমার এলাকায় গিয়েছিল। সেভাবে আমিও ওদের জন্য ভোট চাইব।’