ঢাকা   সোমবার ২১ জানুয়ারী ২০১৯ | ৮ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  উপজেলা নির্বাচনের জন্য ব্যয় বরাদ্দ ৬৭৭ কোটি টাকা (জাতীয়)        সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)        ধনী বৃদ্ধির হারে বিশ্বে তৃতীয় বাংলাদেশ (বিবিধ)        জন্মবার্ষিকীতে জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে বিএনপির শ্রদ্ধা (রাজনীতি)        চিকিৎসা নিতে আজ সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন এরশাদ (বিবিধ)        ডাকসু নির্বাচনের জন্য ৫ রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ (রাজনীতি)        ভুয়া আইডিতে বন্দর থেকে খালাস হয়ে গেছে হাজার হাজার চালান (চট্রগ্রাম)        বিপুল বকেয়ার কারণে বিমানকে বাকিতে জেট ফুয়েল দিতে রাজি নয় বিপিসি (বিবিধ)        পরাজয়ের বেদনা ভুলতে ভোট নিয়ে প্রশ্ন: ওবায়দুল কাদের (রাজনীতি)        ফের বিক্ষোভে পোশাক শ্রমিকরা (বিবিধ)      

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধে নীতিমালা করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

Logo Missing
প্রকাশিত: 06:20:30 pm, 2018-12-04 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আজ ডেক্সঃ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধের উপায় নির্ণয়ে একটি জাতীয় নীতিমালা তৈরিতে অতিরিক্ত শিক্ষা সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে হাই কোর্ট। রাজধানীর নামী প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যাকে কেন্দ্র উত্তেজনার মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার হাই কোর্ট এই কমিটি গঠন করে এক মাসের মধ্যে বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছে। পাশাপাশি অরিত্রী অধিকারী নামের ভিকারুননিসার ওই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধান করেও প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে। পাঁচ সদস্যের কমিটিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিবের নিচে নয়, এমন একজন প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, মনোবিদ ও আইনবিদকে রাখতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে অরিত্রীর আত্মহত্যার প্রকাশিত খবর সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী নজরে আনার পর এ আদেশ দেয় আদালত। এই চার আইনজীবী হলেন- ব্যারিস্টার অনীক আর হক, জ্যোতির্ময় বড়–য়া, আইনুন্নাহার সিদ্দিকা, জেসমিন সুলতানা। আদালতের আদেশের পর ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে অতিরিক্তি শিক্ষা সচিবের নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন আদালত। এক মাসের মধ্যে এই কমিটিকে দুটি প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত। একটি হচ্ছে, জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে তারা একটি প্রতিবেদন দেবে। আরেকটি হচ্ছে, অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আদালত সরকারের প্রতি রুলও জারি করেছেন। অরিত্রীর আত্মহত্যার মতো ঘটনা প্রতিরোধের উপায় নির্ণয় করে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানান এ আইনজীবী। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, অরিত্রী অধিকারী নামে ভিকারুননিসার নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী রোববার পরীক্ষায় নকল করে ধরা পড়েন। গত সেমাবার দুপুরে ঢাকার শান্তিনগরের বাসায় নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে সে। স্বজনদের দাবি, ওই ঘটনার পর অরিত্রীর বাবা-মাকে ডেকে নিয়ে ‘অপমান করেছিলেন’ অধ্যক্ষ। সে কারণে ওই কিশোরী আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ গতকাল মঙ্গলবার এ দুটি তদন্ত কমিটি করে। দুই কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অরিত্রীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র ভিকারুননিসার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ স্কুল পরিদর্শন করে এর অধ্যক্ষ, শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এ ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রভাতী শাখার প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আরাকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। নিহতের বাবা দিলীপ অধিকারী জানান, তাঁর বড় মেয়ে অরিত্রীর বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রোববার পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল অরিত্রী। সেখানে তার কাছে মোবাইল ফোন পান শিক্ষিকা। শিক্ষিকা অভিযোগ করেছেন যে অরিত্রী নকল করেছে। ওই সময় শিক্ষিকা মোবাইল সেট রেখে দেন। এবং তার বাবা-মাকে বিদ্যালয়ে যেতে বলেন। পরে গত সেমাবার তাঁরা মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যান। দিলীপ অধিকারী বলেন, আমরা ভাইস প্রিন্সিপাল ও প্রিন্সিপালের রুমে গিয়ে তাঁদের ওই অভিযোগ শুনি। জোর হাত করে ক্ষমা চাই। মেয়েও পায়ে ধরে ক্ষমা চায়। কিন্তু তাঁরা কোনো কিছুই শুনতে না চেয়ে বের হয়ে যেতে বলেন। বলেন, বের হয়ে যান, কাল এসে টিসি নিয়ে যাবেন। এ সময় দ্রুত বাসায় চলে যায় অরিত্রী। পেছনে পেছনে আমরাও যাই। বাসায় গিয়ে দেখি সে নিজের ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল সাড়ে ৪টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অরিত্রী অধিকারী ভিকারুননিসা নূন স্কুলের প্রভাতি শাখার ইংরেজি মাধ্যমে নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাদের বাসা শান্তিনগরে। অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারীর গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলায়। তিনি কাস্টমসের সিঅ্যান্ডএফের ব্যবসা করেন। তাঁর ছোট মেয়েও ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থী। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাঁদতে কাঁদতে দিলীপ অধিকারী বলেন, অরিত্রীকে টিসি না দিতে আমি এবং তার মা স্কুল কর্তৃপক্ষকে অনেক অনুরোধ করেছিলাম; কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। অরিত্রীকে আরেকবার সুযোগ দিলে হয়তো আমার মেয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেত না।