ঢাকা   সোমবার ২১ জানুয়ারী ২০১৯ | ৮ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  উপজেলা নির্বাচনের জন্য ব্যয় বরাদ্দ ৬৭৭ কোটি টাকা (জাতীয়)        সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)        ধনী বৃদ্ধির হারে বিশ্বে তৃতীয় বাংলাদেশ (বিবিধ)        জন্মবার্ষিকীতে জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে বিএনপির শ্রদ্ধা (রাজনীতি)        চিকিৎসা নিতে আজ সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন এরশাদ (বিবিধ)        ডাকসু নির্বাচনের জন্য ৫ রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ (রাজনীতি)        ভুয়া আইডিতে বন্দর থেকে খালাস হয়ে গেছে হাজার হাজার চালান (চট্রগ্রাম)        বিপুল বকেয়ার কারণে বিমানকে বাকিতে জেট ফুয়েল দিতে রাজি নয় বিপিসি (বিবিধ)        পরাজয়ের বেদনা ভুলতে ভোট নিয়ে প্রশ্ন: ওবায়দুল কাদের (রাজনীতি)        ফের বিক্ষোভে পোশাক শ্রমিকরা (বিবিধ)      

রাজধানীতে এক ছেলে জীবিত, আরেক ছেলের লাশ উদ্ধার, বাবা আটক

Logo Missing
প্রকাশিত: 07:24:44 pm, 2018-12-05 |  দেখা হয়েছে: 6 বার।

আজ ডেক্সঃ রাজধানীর বাংলামোটরের এক বাড়ি ঘিরে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টর রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার অবসান ঘটেছে আড়াই বছরের একটি ছেলের লাশ ও চার বছরের একটি ছেলেকে জীবিত উদ্ধারের মধ্য দিয়ে; তাদের ‘মাদকাসক্ত’ বাবাকেও পুলিশ আটক করেছে। নুরুজ্জামান কাজল নামের মধ্যবয়সী ওই ব্যক্তি তার ছোট ছেলেকে ‘হত্যা করে’ আরেক ছেলেকে কোলে নিয়ে দা হাতে ঘরের ভেতর ঘুরে বেড়াচ্ছেন খবর পেয়ে গতকাল বুধবার সকালে ওই দোতলা বাড়ি ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নানাভাবে বোঝানোর পর বেলা ২টার দিকে পুলিশ কৌশলে কাজলকে নিচ তলার সিঁড়ির কাছে নিয়ে এলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার বড় ছেলে সুরায়েতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে ঘরের ভেতর থেকে ছোট ছেলে সাফায়াতের কাফনে জড়ানো লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। স্বজনদের ভাষ্য, মাদকাসক্ত কাজলই তার ছোট ছেলেকে খুন করে বড় ছেলে জিম্মি করে বাড়ির ভেতরে ওই জিম্মি পরিস্থিরি সৃষ্টি করেন। তবে আটক হওয়ার পর কাজল পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, সাফায়াতের মৃত্যু হয়েছে বৈদ্যুতিক শকে, তিনি তাকে হত্যা করেননি। পরিস্থিতি থিতিয়ে আসার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের বলেন, ছেলেটার গায়ে কোনো কাঁটা ছেঁড়া বা ক্ষত নজরে আসেনি। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে আমরা বলতে পারছি না। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার আগে আমরা তার বাবা বা কাউকে দায়ী করছি না। কাজলদের পরিবার ওই এলাকার পুরনো বাসিন্দা। তার বাবা মনু মেম্বারও স্থানীয়ভাবে বেশ পরিচিত ব্যক্তি। কাজল নিজেই বাংলামোটর লিংক রোডের ১৬ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওই বাড়ির মালিক। কাজলের বাড়ির পাশে তার আত্মীয়স্বজন বেশ কয়েকজনের বাড়ি আছে। তবে মাদকাসক্তির কারণে কাজলের সঙ্গে অন্যান্যের সম্পর্কও ভালো ছিল না বলে তার বড় ভাই নুরুল হুদা উজ্জ্বলের ভাষ্য। ওই বাড়ি ঘিরে নাটকীয়তার সূচনা হয় গতকাল বুধবার সকাল ৮টার দিকে। কাজল স্থানীয় এক মাদ্রাসায় গিয়ে বলেন, তার ছোট ছেলে সাফায়েত বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছে। তিনি ছেলের মৃত্যুসংবাদ মাইকে ঘোষণা করতে অনুরোধ করেন এবং কোরআন খতমের জন্য মাদ্রাসা থেকে কাউকে বাসায় পাঠাতে বলেন। তার কথায় মাদ্রাসা থেকে একজন ওই বাসায় গিয়ে দোয়া দুরুদ পড়তে শুরু করে। এদিকে কাজল তার ছেলেকে হত্যা করেছেন বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এই খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা বাংলামোটরের ওই বাড়িতে উপস্থিত হন। এদিকে বাবার হাতে ছেলে খুনের গুঞ্জনে কয়েকশ উৎসুক মানুষ ওই বাড়ির সামনে ভিড় করে। ছুটে আসেন সংবাদকর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন কাজল। ছেলেকে কোলে নিয়ে দা হাতে তিনি নেমে এসে সিড়ির কাছে কলাপসিল গেইট আটকে দেন। উজ্জ্বল এ সময় তার ভাইকে শান্ত করে রায়েতকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও তাতে লাভ হয়নি। গোয়েন্দা পুলিশের একজন সদস্য ওই বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করলে কাজলের দায়ের কোপে হাতে আঘাত পান। উজ্জ্বল বলেন, ও (কাজল) সারাদিন নেশা করে, খায় আর ঘুমায়। এটা ওর নিজের বাড়ি। চাচার সাথে গত ঈদের আগেও মারামারি করেছে। এতদিন আমরা সহ্য করছি, পুলিশ আনি নাই, শুধু ওই বাচ্চাগুলোর কারণে। এখন বাচ্চাটাকেই মেরে ফেলছে। কাজলের মার খেয়ে ওর বৌ বাপের বাড়ি চলে গেছে। বাসায় দুই বাচ্চা নিয়ে ও থাকতো। আজকে এই কা- করল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত গুলশান থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) মাহবুবর রহমান বেলা ১২টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, একটি শিশু মারা গেছে এটা নিশ্চিত। তবে কীভাবে মারা গেছে এটা আমরা বলতে পারব না। আমরা তাকে দরজা থেকে শান্ত করার চেষ্টা করছি। শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ভেতরের অবস্থা এখনও নিশ্চিত না, বুঝতেই পারছেন। উনি উত্তেজিত অবস্থায় আছেন। ছোটো ছেলেটার কথা চিন্তা করে আমরা একটু সময় নিয়ে অভিযান চালাতে চাই। পরে পুলিশ কলাপসিবল গেইটের কাছে দাঁড়িয়ে কাজলকে বোঝানোর চেষ্টা করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে বলা হয়, জোহারের নামাজের সময় হয়ে গেছে, সাফায়েতের জানাজা পড়াতে হবে। পুলিশের এ কথায় কাজল সিঁড়ির কাছে নেমে এলে পুলিশ সদস্যরা তাকে ধরে পেলেন এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা সুরায়েতকে সরিয়ে নেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার এহসানুল ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেন, মৃত ছেলেটাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বাবাকেও আটক করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, বৈদ্যুতিক শকে তার ছোট ছেলের মৃত্যু হয়েছে, তিনি মারেননি। আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছি।