ঢাকা   রবিবার ২৪ মার্চ ২০১৯ | ১০ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  ১৬ হাজার কোটি ডলারের যুদ্ধবিমান কিনছে মিসর (আন্তর্জাতিক)        নিউ জিল্যান্ডের মসজিদে হামলা : উদ্দেশ্য ‘লাইভ সম্প্রচার’ (আন্তর্জাতিক)        ক্যালিফোর্নিয়ায় মাতলামির অভিযোগে আটক পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট (আন্তর্জাতিক)        বোয়িংয়ের নিরাপত্তার বিষয়টিকে ‘সর্বোচ্চ’ গুরুত্ব দেয়া হবে : সিইও (আন্তর্জাতিক)        অস্ট্রেলিয়ায় খুনের অপরাধে ১ ব্যক্তির ১১ বছরের কারাদন্ড (আন্তর্জাতিক)        মেক্সিকোর দূত হিসেবে রক্ষণশীল আইনপ্রণেতার নাম ঘোষণা ট্রাম্পের (আন্তর্জাতিক)        ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৯ (আন্তর্জাতিক)        নেদারল্যান্ডসে হামলাকারী চিহ্নিত, ছবি প্রকাশ (আন্তর্জাতিক)        মোজাম্বিকে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে সহস্স্রাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা (আন্তর্জাতিক)        সালাম দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী (আন্তর্জাতিক)      

ঢাকা-৭ আসনে প্রচারণায় সরব হাজি সেলিম, পিছিয়ে আছেন ধানের শীষের মন্টু

Logo Missing
প্রকাশিত: 06:40:57 pm, 2018-12-15 |  দেখা হয়েছে: 4 বার।

আজ ডেক্সঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-৭ আসনে সরগরম ও সুশৃঙ্খল প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাজি মো. সেলিম। নৌকা প্রতীকে প্রভাবশালী এই প্রার্থীর বিপরীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নির্বাচনী কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে। কেরানীগঞ্জ এলাকায় বেশ প্রভাবশালী হলেও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মন্টু লালবাগ এলাকায় এসে স্থানীয় হাজি সেলিমের সঙ্গে পাল্লা দিতে কতটা পারবেন, তা নিয়ে সংশয়ী ভোটাররা। লালবাগ, চকবাজার, কোতোয়ালির একাংশ ও বংশাল থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৭ আসনে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে দেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজি সেলিম। অসুস্থ হওয়ার পরও এবার তাকে নৌকার টিকেট দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তার সঙ্গে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগেরই সাবেক নেতা মন্টু; জোটগত নির্বাচনে গণফোরামের এই নেতা বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনী হাওয়া শুরুর পর থেকে হাজি সেলিমের ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে দেওয়া হয় তার সংসদীয় এলাকাসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকা। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু পরেও বর্তমান সাংসদের সমর্থকরা সুশৃঙ্খল প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর চার দিনের মাথায় গত শুক্রবার দুপুরে প্রথমবারের মতো নির্বাচনী গণসংযোগে নামেন মন্টু। যদিও জুমার নামাজ শেষে আজিমপুর কবরস্থানের সামনের মসজিদের সামনের এলাকায় কিছু লিফলেট বিলি করেই চলে যান তিনি। নিজের পক্ষে লালবাগ-চকবাজার এলাকার ভোট টানতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের জোর সমর্থন দরকার হলেও ওই সময় তার সঙ্গে সেখানকার তেমন কোনো বিএনপি নেতা-কর্মীর দেখা মেলেনি। তার সঙ্গে গণসংযোগে থাকা এক কর্মী বলেন, নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও লিফলেট বিতরণের পর সেখান থেকে নিউ পল্টন এলাকায় গিয়ে ভোটারদের সমর্থন চান মন্টু। বিকাল ৩টার দিকে গণফোরামের কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলন চলে যান তিনি। সংসদীয় এলাকার পুরো এলাকা হাজি সেলিমের নৌকার পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে থাকলেও গত শুক্রবার পর্যযন্ত মন্টুর ধানের শীষের পোস্টার তেমন দেখা যায়নি। অন্য এলাকার বেশ কিছু সমর্থক নিয়ে তার স্বল্পসময়ের গণসংযোগে কেবল প্রয়াত বিএনপি সাংসদ নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর ছোটভাই নাসিম আহমেদ রিন্টুকে দেখা গেছে। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর হাজি সেলিমের রাজনৈতিক কার্যালয় এলাকার লালবাগ শাহী মসজিদের ফটকগুলোতে বিলি ও কমলা বিতরণ করতে দেখা যায়। এরপর বিকালের দিকে পুনরায় গণসংযোগে বের হন প্রার্থীসহ নেতাকর্মীরা। পুরান ঢাকার আলোচিত-সমালোচিত হাজি সেলিম বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এই আসনের প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় সাবেক ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবুল হাসনাতকে হারালেও ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি হেরে যান বিএনপি প্রার্থী নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর কাছে। অন্যদিকে সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর ২০০৮-এর নির্বাচনে ওই আসনে আওয়ামী লীগের তৎকালীন স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বিএনপির নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুকে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে হারিয়ে দিয়ে চমক দেখান হাজি সেলিম। বছর দেড়েক আগে ব্রেইন স্ট্রোক হয় হাজি সেলিমের। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর শারীরিক অচলতা কাটিয়ে এখন কিছুটা সুস্থ হলেও কথা বলার শক্তি প্রায় হারিয়েছেন তিনি। ধানের শীষের বিপরীতে ভোটের ফল ঘরে তুলতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিরোধে কাটিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে হাজি সেলিমকে। স্থানীয়রা জানান, পুরান ঢাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও হাজি সেলিমের বিরোধ দীর্ঘদিনের। আবার গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় এবং এলাকায় কোণঠাসা থাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ হাজি সেলিমের বিরোধী ছিলেন। সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাজি সেলিমের পক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এক করতে তিন দিন আগে আজিমপুরে ওই এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে সভার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই এলাকার বিভিন্ন থানার নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ উপস্থিত ছিলেন। নিজেদের মধ্যে সব ধরনের বিভেদ ও বিরোধ মিটিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। তিনি গত শুক্রবার বলেন, প্রতিটি দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে। আমি নিজেও ক্যান্ডিডেট ছিলাম। প্রতিদ্বন্দ্বিতা-প্রতিযোগিতা প্রতিটি দলের মধ্যে থাকবে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার মালিক হলো পার্টি হাইকমান্ড। জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, আমরা সবাই তার জন্য কাজ করব। এখানে আমাদের মধ্যে আর কোনো বিরোধ নাই, থাকার সুযোগও নাই। কথা বলতে না পারায় হাজি সেলিমের হয়ে অন্যরা বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তেমনি গত শুক্রবার তার হয়ে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে আমাদের মাঠ অনেকটা গুছিয়ে ফেলেছি। ১৩টি ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ ও আমাদের হাজী সেলিমের নিজস্ব ফোর্স, সবাই মিলে একাত্মতা ঘোষণা করে কাজ করে যাচ্ছি। ঢাকা-৭ আসন বিপুল ভোটে জয়ী হব। এক সময় আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে নেতা হিসেবে পরিচিত মন্টু ১৯৮৬ সালে কেরানীগঞ্জ থেকে নৌকার টিকেটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ওই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি হেরে যান বিএনপির আমানউল্লাহ আমানের কাছে। কেরানীগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা বাদল হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯৯২ সালের মে মাসে মন্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ থেকে দূরে সরে যাওয়া ড. কামাল হোসেনের গড়া নতুন দল গণ ফোরামে যোগ দেন তিনি। ২০০৪ সাল থেকে দলটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন মুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলার এই কমান্ডার। ওই আসনে বিএনপির সাবেক সাংসদ পিন্টুর বেশ প্রভাব ছিল। তিনি বিডিআর বিদ্রোহ মামলার চলাবস্থায় ২০১৫ সালে কারাগারে মারা যান। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি কল্পনার সঙ্গে আরও কয়েকজন ধানের শীষের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। আর সংসদ নির্বাচন নিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম সংগঠক মন্টু প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন নিজের ঢাকা-৩ আসন থেকে। কিন্তু সেখানে আমানের বদলে তার ছেলে ইরফান ইবনে আমান অমিকে প্রার্থী করে মন্টুকে ঢাকা-৭ আসনে ধানের শীষের টিকেট দেওয়া হয়। স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে লালবাগ ও চকবাজার এলাকায় বিএনপির জোর সমর্থন দরকার হবে মন্টুর। কিন্তু বিএনপি নিজেরাই কোণঠাসা অবস্থায় তিনি সেই সমর্থন কতটুকু পাবেন, সেটাও প্রশ্নসাপেক্ষ। মিটফোর্ড এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নওয়াব বলেন, পুরান ঢাকায় স্থানীয় লোক দেখে ভোট দেওয়ার একটা রেওয়াজ রয়েছে। এই আসনে যদি পিন্টুর স্ত্রীর মতো স্থানীয় কাউকে দিত, তাহলে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা আরও উৎসাহ পেত। সেটা মন্টুর ক্ষেত্রে সম্ভব হবে না বলেই মনে করেন তিনি। সেক্ষেত্রে কল্পনার বদলে বেচারাম দেউরির রাসেল কমিশনার, সোয়ারিঘাটের হুমায়ুন কমিশনারের মতো প্রার্থীরা মনোনয়ন পেলেও এই এলাকায় ‘হাড্ডাহাড্ডি লড়াই’ হতে পারত বলে ভাষ্য তার। বিএনপির জোরালো সমর্থন না পাওয়ার শঙ্কা ও এলাকা নিয়ে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ অবস্থায়ও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলে মন্তব্য করেছেন মোস্তফা মোহসীন মন্টু। তিনি বলেন, আমরা মনে করছি, সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্ট আমাদের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-ধানের শীষের পক্ষে প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ। আমরা আশা করছি, যদি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে শতকরা ৮০ টা ভোট আমরা ধানের শীষের পাব, ঐক্যফ্রন্ট পাবে। বিএনপিকে নির্বাচনের মাঠে রাখার বিষয়ে এক প্রশ্নে মন্টু বলেন, আমরা সবাইতো একসাথেই কাজ করছি। আমরা একটি জাতীয় সংকটে আছি। এই সংকট থেকে উত্তরণের মানুষকে আমরা এক করার চেষ্টা করছি। এখানে বিএনপি বা গণফোরাম বলে কোনো ভেদাভেদ নাই। বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়েই প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে নির্বাচনের জন্য কমিটি ইতোমধ্যে করা হয়েছে বলে জানান গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক। হাজী সেলিম ও মন্টুর সঙ্গে ঢাকা-৭ আসনে প্রার্থী হিসাবে ‘মই’ প্রতীকে বাসদের খালেকুজ্জামান, লাঙ্গলে জাতীয় পার্টির তারেক আহমেদ আদেল, গোলাপ ফুলে জাকের পার্টির বিপ্লব চন্দ্র বণিক, মাছ প্রতীকে গণফ্রন্টের রিয়াজ উদ্দিন, হারিকেনে মুসলিম লীগের আফতাব হোসেন মোল্লা, হাতপাখায় ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুর রহমান, টেলিভিশনে বিএনএফের জাহাঙ্গীর হোসেন, আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মাসুদ পাশা এবং বটগাছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. হাবিবুল্লাহ রয়েছেন। এই আসনে এবার মোট ১২২টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন। ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৮৪ জন পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৭ জন।