ঢাকা   ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  ইয়েমেন যুদ্ধের মধ্যে ১৮০ কোটি ডলারের মার্কিন অস্ত্র কিনল আবু ধাবি (আন্তর্জাতিক)        নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিয়েবাড়িতে ট্রাক, নিহত ১৩ (আন্তর্জাতিক)        কাশ্মিরে অস্ত্র হাতে তুলে নিলেই গুলির নির্দেশ (আন্তর্জাতিক)        সৌদি যুবরাজের নির্দেশে মুক্ত হচ্ছেন ২১০০ পাকিস্তানি বন্দি (আন্তর্জাতিক)        আমাদের সকল প্রচেষ্টা ও প্রয়াস সার্থক হয়েছে: সিইসি (জাতীয়)        সততাই আমাদের সরকারের মূল চালিকাশক্তি: প্রযুক্তিমন্ত্রী (রাজনীতি)         শাজাহান খানের নেতৃত্বে সড়কে শৃঙ্খলার কমিটি হাস্যকর: রিজভী (রাজনীতি)        উপজেলা নির্বাচন জৌলুস হারাতে বসেছে: ইসি মাহবুব (জাতীয়)        সংবাদমাধ্যমের আরো দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী (জাতীয়)        শহীদ মিনারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে: আছাদুজ্জামান (জাতীয়)      

হোয়াইট হাউসকে মাদুরোর রক্তে রঞ্জিত করার হুঁশিয়ারি

Logo Missing
প্রকাশিত: 08:39:15 pm, 2019-02-04 |  দেখা হয়েছে: 2 বার।

আজ ডেক্সঃ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো তাকে উচ্ছেদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে নোংরা সা¤্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তাকে উৎখাতে জিদ করে থাকেন তাহলে তাকে রক্তে রঞ্জিত হয়ে হোয়াইট হাউস ছাড়তে হবে। স্প্যানিশ সাংবাদিক জোরদি ইভোলি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। নিকোলাস মাদুরো বলেন, ‘থামুন। থামুন, ট্রাম্প! এখানেই থেমে যান! আপনি এমন ভুল করছেন যা আপনার হাতকে রক্তে রঞ্জিত করবে। রক্তের দাগ নিয়ে আপনাকে প্রেসিডেন্সি ছাড়তে হবে। কেন আপনি ভিয়েতনামের পুনরাবৃত্তি চাইছেন?’ ভেনেজুয়েলায় আট দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন দিতে ইউরোপের কয়েকটি দেশ যে আল্টিমেটাম দিয়েছে তাও নাকচ করে দিয়েছেন মাদুরো। তিনি বলেন, আমরা কারও কাছ থেকে আলটিমেটাম গ্রহণ করি না। আমি এই মুহূর্তে নির্বাচনের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করছি। ২০২৪ সালে নির্বাচন হবে। ইউরোপ কী বললো তাকে আমরা গোণায় ধরি না। নিকোলাস মাদুরো বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আপনি আল্টিমেটামের ওপর ভর করতে পারেন না। এসব ঔপনিবেশিক সময়কালের জন্য প্রযোজ্য। নিজের রাজনৈতিক গুরু হুগো শাভেজের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় আসেন বামপন্থী রাজনীতিক নিকোলাস মাদুরো। ভেনেজুয়েলা ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান এই রাজনীতিক। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বলেন, উত্তর আমেরিকার সা¤্রাজ্যবাদীরা হামলা চালালে আমাদের নিজেদের রক্ষা করতে হবে। দেশকে আমরা তাদের হাতে ছেড়ে দেবো না। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় কোনও মানবিক সংকট নেই। এখানে যা রয়েছে তা হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট। ভেনেজুয়েলার স্বঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদো’কে অভ্যুত্থানের কৌশল থেকে সরে আসারও আহ্বান জানান মাদুরো। তিনি বলেন, আপনি কি করছেন; সে সম্পর্কে সাবধানে চিন্তা করুন। বর্তমান সংকট যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ানোর আশঙ্কা করছেন কিনা; এমন প্রশ্নের উত্তরে মাদুরো বলেন, সবকিছু নির্ভর করছে সা¤্রাজ্যবাদী শক্তি এবং তার পশ্চিমা মিত্রদের উন্মত্ততা ও আগ্রাসনের ওপর। এটা আমাদের ওপর নির্ভর করছে না। তবে নিজেদের অধিকার রক্ষায় ভেনেজুয়েলাও প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে সিবিএস টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি তার বিবেচনার মধ্যে রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বৈঠকে বসার আহ্বান তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির বিপরীতে গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিনই ভেনেজুয়েলার সামরিক ঘাঁটিগুলো পরিদর্শন করছেন মাদুরো। একটি নৌ ঘাঁটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা কী উপনিবেশে পরিণত হতে পারি? ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভেনেজুয়েলার নির্বাচন। তাতে জিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। কিন্তু বিরোধী দলসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। বিরোধীদের এমন দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। অর্থনৈতিক সংকটে জনগণের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। আর ব্যাপক এই বিক্ষোভের জেরেই গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধী দলীয় নেতা জুয়ান গুইদো। কয়েক মিনিটের মাথায় তাকে ‘স্বীকৃতি’ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জুয়ান গুইদোকে আমি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছি।’ মাদুরোর পক্ষে দাঁড়িয়েছে চীন ,রাশিয়া ও তুরস্কের মতো দেশ। অন্যদিকে বিরোধী নেতা জুয়ান গুইদোকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, এমনকি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। এমন পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প ও মাদুরোর পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি উচ্চারণের ঘটনা ঘটেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।