Thursday, June 13, 2024
Homeখেলাধুলাঅজিদের চেপে ধরার সুযোগ হাতছাড়া পাকিস্তানের

অজিদের চেপে ধরার সুযোগ হাতছাড়া পাকিস্তানের

টেস্ট সিরিজে সমতায় ফেরার লক্ষ্যে বক্সিং ডেতে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান। যেখানে ম্যাচের মাঝখানে দুই দফায় বৃষ্টি বাগড়া দেয়, এতে পেসস্বর্গ মেলবোর্নের কঠিন কন্ডিশনে স্বাগতিকরা আরও ভেঙে পড়তে পারত। তবে সুইংয়ের অনন্য পসরা সাজালেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি শান মাসুদের পাকিস্তান। যার কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সবচেয়ে বড় হতাশার জায়গা ‘মিস-ফিল্ডিং’। ফলাফল– দুটি ক্যাচ মিস আর বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনে অজিদের চেপে ধরার সুযোগ হাতছাড়া করল পাকিস্তান। প্রথমদিন শেষে অজিদের সংগ্রহ ৩ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান।

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে আজ (মঙ্গলবার) দু’দলই কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো জানত। মাথার ওপর মেঘ আর মেলবোর্নের ৬-৭ মিলিমিটার ঘাস পেসারদের অনুকূলে মঞ্চ বানিয়ে রেখেছিল। ফলে টস জিতলে আগে ফিল্ডিংই আরাধ্য ছিল দুই দলের। যথারীতি টস জিতে আগে ফিল্ডিং নেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। আর জানিয়ে দেন— এমসিজিতে গতির ঝড় তুলতে একাদশে রয়েছে চার পেসার। যদিও কমতি ছিল অভিজ্ঞতার।

ম্যাচের শুরুতে ওয়ার্নারের সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন আব্দুল্লাহ শফিক

বৃষ্টির কারণে পুরো দিনে খেলা হয়েছে মোটে ৬৬ ওভার। এই টেস্টে শাহিন শাহ আফ্রিদির সঙ্গে পাকিস্তানের একাদশে আছেন আগের ম্যাচে অভিষেক হওয়া পেসার আমের জামাল। নতুন করে ঢুকেছেন হাসান আলী ও মির হামজা। ইনজুরিতে আগেই ছিটকে গেছেন বিশেষজ্ঞ স্পিনাররা। ফলে পেসস্বর্গে পার্টটাইমার স্পিনে কাজ চালানোর আশা পাকিস্তানের। তাদের সব পেসারই উইকেট থেকে যথেষ্ট মুভমেন্ট আদায় করে নেন। নতুন বলের দুই পেসার শাহিন ও হামজার পরের স্পেলে আসা হাসান আলি ও আমের জামালও ভালো বোলিং করেন। তবে তারা যথেষ্ট ধারাবাহিক হতে পারেননি। ফলে ওপেনিং জুটিতে শক্ত অবস্থান তৈরি হয় অস্ট্রেলিয়ার।

তবে স্বাগতিকদের শুরুতেই খাদে ফেলে দিতে পারতেন শাহিন আফ্রিদিরা। আফ্রিদির অফ স্টাম্প ঘেষা দুর্দান্ত সুইং ডেলিভারিতে স্লিপে ক্যাচ দেন শেষ টেস্ট সিরিজ খেলতে নামা অভিজ্ঞ ডেভিড ওয়ার্নার। কিন্তু আব্দুল্লাহ শফিক তার সহজতম সেই ক্যাচ নিতে পারেননি। ওয়ার্নার রক্ষা পান মাত্র ২ রানেই। যা পরে দীর্ঘায়িত হয় ৩৮ রান পর্যন্ত। লাঞ্চ বিরতে যাওয়ার আগমুহূর্তে পার্টটাইম স্পিনার সালমান আলী আগা প্রথম সফকারীদের ব্রেকথ্র এনে দেন। আগের ম্যাচে ব্যাটে ঝড় তোলা ওয়ার্নার বাবর আজমের হাতে ক্যাচ দেন ৮৩ বলে ৩৮ রান করে।

পাকিস্তানের প্রথম ব্রেকথ্রু আসে সালমানের বলে
ওয়ার্নারের বিদায়ে উসমান খাজার সঙ্গে অজিদের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ৯০ রানে। বিরতির পর আবারও উইকেটের আনন্দে মাতে পাকিস্তান। এই ম্যাচ দিয়ে দলে ঢোকা হাসান আলির বলে প্রিয় লেট কাট খেলতে গিয়ে স্লিপে ধরা পড়েন খাজা। সালমানের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১০১ বল তিনি ৪২ রানে করেন। এরপর গতির ঝড় তোলে পাকিস্তানের পেসাররা। সুইং বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিংয়ের দুই স্তম্ভ মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথের বড় পরীক্ষা নেন হাসান, হামজা ও জামালরা। তরুণ বোলার হামজা সুইং বোলিংয়ের দারুণ প্রদর্শনী মেলে ধরেন। ফলে রান পেতে বেশ সংগ্রাম করতে হয় লাবুশেন ও স্মিথকে।

এরপর কিছুটা থিতু হতে শুরু করলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান স্মিথ। জামালের অফ স্টাম্প ঘেঁষা আউট সুইঙ্গারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে তিনি ২৬ রানে বিদায় নেন। যদিও প্রথমে আম্পায়ার আউট দেননি, পরে রিভিউ নিয়ে সফল হয় পাকিস্তান। এর আগে আফ্রিদির বলে স্মিথকে একবার আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি। শেষদিকে আরেকটি উইকেট পেতে পারত সফরকারীরা। স্পিন অলরাউন্ডার সালমানের বলে ট্র্যাভিস হেডের ক্যাচ গিয়েছিল অধিনায়ক শান মাসুদের হাতে। কিন্তু তিনি ক্যাচটি নিতে পারেননি।

সুইং আর গতির বিপরীতে প্রতিরোধ গড়েছেন মার্নাস লাবুশেন
ফলে এমন সুযোগ পেয়েও হতাশার দিন পার করল পাকিস্তান। প্রতিরোধ গড়ে তোলা লাবুশেন শেষ পর্যন্ত ১২০ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষদিকে জীবন পাওয়া হেড অপরাজিত আছেন ৯ রানে। পাকিস্তানের হয়ে একটি করে উইকেট নিয়েছেন হাসান, জামাল ও সালমান।

এএইচএস

Most Popular

Recent Comments