Monday, October 25, 2021
Home জাতীয় অপরাধ জগতে দেশী-বিদেশী চক্রের বিটকয়েনে লেনদেনে ভয়াবহ অশনিসংকেতের আশঙ্কা

অপরাধ জগতে দেশী-বিদেশী চক্রের বিটকয়েনে লেনদেনে ভয়াবহ অশনিসংকেতের আশঙ্কা

আ.জা. ডেক্স:

অপরাধ জগতে অবৈধ লেনদেনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিটকয়েন। এদেশ থেকে ভার্চুয়াল মুদ্রায় ব্যবহৃত বিটকয়েনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এমনকি কালো টাকার মালিকরাও বিটকয়েনের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ সাদা করছে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গীবাদেও বিটকয়েন ব্যবহার করছে। অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের পেমেন্টের জন্যও বিটকয়েন ব্যবহার হচ্ছে। বিটকয়েনের মাধ্যমে নানা ধরনের অপরাধী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কয়েকটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ইউরোপ, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে সিন্ডিকেট গ্রুপের সদস্যরা এদেশে অবস্থান করে বিটকয়েনের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে। সম্প্রতি বিটকয়েন চক্রের একাধিক সদস্য গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা এসব তথ্য পেয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শেয়ার বাজারের মতোই বিটকয়েনের কেনাবেচা। বিভিন্ন এ্যাপসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে ওই কেনাবেচায় অংশগ্রহণ করা যায়। সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে বিটকয়েন কেনাবেচা করতে পারে। অধিক লাভের প্রলোভনে বিটকয়েন কেনার পর অনেকে ফতুরও হয়ে গেছে। বিটকয়েন কেনাবেচার নামে অর্থপাচার ও কালো টাকা সাদা করার পাশাপাশি প্রতারণাও চলছে। কোন কোন সিন্ডিকেট বিটকয়েন কেনাবেচার মাধ্যমে অধিক অর্থ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করে আসছে। সম্প্রতি গাজীপুর থেকে এক বিটকয়েন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তদন্তে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির মাত্র এক মাসে ৩৫ হাজার ডলার লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।

সূত্র জানায়, ভার্চুয়াল মুদ্রা বিটকয়েন বাংলাদেশে অবৈধ। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিটকয়েন ব্যবহারে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছে। ওই মুদ্রার লেনদেনে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সম্পর্কিত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তারপরও ক্রিপ্টো কারেন্সি বিটকয়েনের মাধ্যমে দেশ থেকে পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এক শ্রেণীর কালো টাকার মালিক বিদেশে অর্থ পাচারের জন্য বিটকয়েনকে বেছে নিয়েছে। একই সঙ্গে বিটকয়েন কেনাবেচার মাধ্যমে কালো টাকার মালিকরা তাদের অবৈধ অর্থ সাদা করে নিচ্ছে। তাছাড়া সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গী অর্থায়নেও বিটকয়েন ব্যবহৃত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো অর্থ সংগ্রহ করার জন্য বিটকয়েন ব্যবহার করছে। এমনকি বিটকয়েনের মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদকের বড় বড় চালানেরও পেমেন্ট করা হচ্ছে। বাংলাদেশে জঙ্গী অর্থায়নেও বিটকয়েনের ব্যবহার করার তথ্য মিলেছে। জঙ্গী অর্থায়নে বিটকয়েনের ব্যবহারের তথ্য মেলায় দেশী জঙ্গীদের সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত জঙ্গীদের যোগাযোগ থাকার প্রমাণ দিচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, দেশী-বিদেশী আন্ডারওয়ার্ল্ডে নিষিদ্ধ বিটকয়েন ব্যবহার খুবই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিদেশে অর্থ পাচার, কালো টাকা সাদা করার হাতিয়ার, সন্ত্রাসাবাদ, জঙ্গীবাদের জন্য ব্যবহার, মাদক চোরাচালানে বিটকয়েনের ব্যবহারের ফলে অপরাধ জগতের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে অনেক কঠিন হয়ে পড়ছে। বিগত ২০১৭ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিটকয়েন ব্যবহারের ওপর সতর্কতা জারি করা হয়। কারণ অপরাধ জগতে দেশী-বিদেশী চক্রের বিটকয়েনের মাধ্যমে লেনদেনের ভয়াবহ তৎপরতায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি ডেকে আনার অশনিসংকেত দেখা দিয়েছে।

এদিকে গোয়েন্দা পুলিশ সম্প্রতি এক বিটকয়েন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া ওই ব্যক্তি বিটকয়েন চক্রের সদস্য। গোয়েন্দা পুলিশ এরকম বেশ কয়েকটি গ্রুপকে শনাক্ত করেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। বর্তমানে বিটকয়েনের মাধ্যমে অর্থ পাচারের দিকে ঝুঁকছে অসাধু ব্যক্তিরা। অবৈধভাবে আয়কৃত অর্থ নিরাপদে বিদেশে পাচার করার জন্য বিটকয়েন কেনাবেচার সিন্ডিকেটও গড়ে উঠেছে। দেশ থেকে অনেকেই বিটকয়েন কিনে ইউরোপের অনেক দেশে ভার্চুয়াল ওই কয়েন অর্থে রূপান্তরিত করছে। কেউ কেউ কালো টাকা সাদা করার জন্যও বিটকয়েন কেনার পর বিদেশে তা ভাঙ্গিয়ে স্বজনদের মাধ্যমে বৈধ অর্থ হিসেবে দেশে আনছে। বিটকয়েন কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের সদস্যরা নির্দিষ্ট পরিমাণের কমিশনের বিনিময়ে অবৈধ অর্থ উপার্জনকারীদের অর্থ পাচার ও কালো টাকা সাদা করতে সহায়তা করে থাকে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজমের একটি টিম ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দুই জঙ্গীকে গ্রেফতার করে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসার আল ইসলামের ওই সদস্যরা বিটকয়েনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছিল। গ্রেফতার হওয়া দুই জঙ্গী ২০১৪ সাল থেকে বিটকয়েনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে আসছিল। আগে প্রথাগত পদ্ধতি বা হুন্ডির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে জঙ্গী অর্থায়নের জন্য অর্থ আনা হতো। কিন্তু প্রথাগত পদ্ধতি বা হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি গোয়েন্দারা নজরদারি করায় এখন পুরোপুরি ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থায়ন হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা জানান, এখন জঙ্গী অর্থায়ন পুরাটাই বিটকয়েন বা অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে হচ্ছে। সেগুলোতে নজরদারি করা কঠিন বলেই জঙ্গী গোষ্ঠীগুলো অর্থ লেনদেনের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করছে। আর অদূর ভবিষ্যতে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জঙ্গী অর্থায়ন বন্ধ করা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

পাকিস্তানসহ পাঁচ দেশকে আমন্ত্রণ জানালো ভারত

আ.জা. আন্তর্জাতিক: আফগানিস্তানে ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে ভারতের অস্বস্তি কাটছেই না। একদিকে তালেবানের ওপর পাকিস্তানের প্রভাব, অন্যদিকে আফগানিস্তানে দিল্লির...

কুয়েতে তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড

আ.জা. আন্তর্জাতিক: কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি জানিয়েছে, সোমবারের এ...

পতিতাবৃত্তি বন্ধ করতে চান স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

আ.জা. আন্তর্জাতিক: আইন করে দেশে পতিতাবৃত্তি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ। রোববার তার দল সোস্যালিস্ট...

২০০ নারী-পুরুষের পোশাকহীন ফটোশ্যুট

আ.জা. আন্তর্জাতিক: স্পেন্সার টিউনিক প্রথম মৃত সাগরে তার লেন্স স্থাপন করার ১০ বছর পর বিশ্বখ্যাত এই আলোকচিত্রী আরেকবার...

Recent Comments