Wednesday, July 21, 2021
Home বিনোদন অভিনেতা খলিলের পরিবার কেমন আছে?

অভিনেতা খলিলের পরিবার কেমন আছে?

আ.জা. বিনোদন:

ঢাকাই চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা খলিল উল্লাহ খান। খল চরিত্রে অভিনয় করে দশরকদের মন জয় করেছেন তিনি। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় রুপালি জগৎ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। অভিনয় ক্যারিয়ারে ছোট পর্দার পাশাপাশি বড় পর্দায় আট শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। পেয়েছেন নানা সম্মাননা। জীবদ্দশায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন অভিনেতা খলিল। ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর অসংখ্য ভক্তকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। তার মৃত্যুর পর কেটে গেছে প্রায় ছয় বছর। কিন্তু কেমন আছে খলিলের পরিবার? সংবাদমাধ্যেমের সঙ্গে কথা বলেছেন খলিল উল্লাহ খানের মেজ ছেলে মুসা খান। মুসা বলেন, ‘আমরা বাবাকে দেখেছি, সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিস এবং সন্ধ্যায় টিভিতে চলে যেতেন। সেখান থেকে ফিরে রাতে ঘুমাতেন। এভাবেই তিনি ব্যস্ত সময় পার করতেন। সারাদিন কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে কাটাতেন। ভাইবোনদের বেঁচে থাকার জন্য এই কষ্টটা তিনি করতেন। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পরিবারের উপর থেকে একটি ছায়া হারিয়ে গেছে। বাবার মৃত্যুর পর এফডিসির কেউ আমাদের খোঁজ খবর নেন না। মৃত্যুর পর আজ পর্যন্ত কেউ আমাদের একটা ফোনকল পর্যন্ত দেয়নি। শুধু আলমগীর আঙ্কেলের সঙ্গে যোগাযোগ আছে।’ পরিবারের সবাই কেমন আছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালে আমরা মাকে হারিয়েছি। আমার ছোট ভাই বাবার বাসায় থাকেন। আমি আলাদা থাকছি। আর আমার এক ভাই আমেরিকায় থাকে। বোনদের বিয়ে হয়েছে। ওনারা সাবাই ভালো আছেন। বাবার কোনো সমস্যা হলে প্রথমেই আমি আলমগীর আঙ্কেলকে (চিত্রনায়ক আলমগীর) ফোন করতাম। তিনি সাড়া দিতেন, আমরা সবসময় তাকে পেয়েছি।’

অভিনেতা খলিল অনেক দিন অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থ থাকাবস্থায় চলচ্চিত্রের কেউ খোঁজ নিতেন কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে মুসা বলেন,‘বাবা অসুস্থ থাকাকালীনই খুব একটা যোগাযোগ ছিল না। রাজ্জাক আঙ্কেল (নায়করাজ রাজ্জাক), আলমগীর আঙ্কেলসহ কয়েকজন সিনিয়র শিল্পী খোঁজ নিতেন। আর কেউ আমাদের খোঁজ নিতেন না। এ ছাড়া মিশা সওদাগর (খল অভিনেতা) একবার বাবাকে দেখতে এসে শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমরা তখন নিইনি। বলেছিলাম, এখন নেব না পরে প্রয়োজন হলে নেব। পরে বাবার কাছে টাকাটা দিয়ে গিয়েছিলেন। এরপরে তাদের দায়িত্ব শেষ!’ এফডিসিতে তার লাশ নিতে মৃত্যুর আগেই ছেলেকে বারণ করে গিয়েছিলেন খলিল। বিষয়টি স্মরণ করে মুসা বলেনÑ‘‘সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, বাবা আমাকে বলে গিয়েছিলেন এফডিসিতে তার মরদেহ না নেওয়ার জন্য। তারপরও আমি বাবার অভিমানের কথা না ভেবে তার লাশ এফডিসিতে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে সিনিয়র কয়েকজন শিল্পী বাদে অন্যরা কেউ তাকে শেষবার দেখতেও আসেননি। রাজ্জাক আঙ্কেল, আলমগীর আঙ্কেলসহ কিছু সিনিয়র শিল্পী ছিলেন। অনেকেই ছিলেন না। অনেক শিল্পীকেই আমরা পাইনি। এটা অনেক দুঃখজনক। কেউ ফোন করে সমবেদনাও জানাননি। আজ পর্যন্ত এফডিসির পক্ষ থেকে ‘কেমন আছো’ এই শব্দটি শুনিনি।’’

১৯৩৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ভারতের মেদিনীপুরে জন্মগ্রহণ করেন অভিনেতা খলিল। তিনি একাধারে টিভি ও চলচ্চিত্রাভিনেতা। চলচ্চিত্রে তার অভিষেক হয় ১৯৫৯ সালে কলিম শরাফী ও জহির রায়হান পরিচালিত ‘সোনার কাজল’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর নিয়মিতই ছোট পর্দায় এবং রুপালি জগতে তাকে দেখা যায়। প্রয়াত পরিচালক আলমগীর কুমকুম পরিচালিত ‘গুন্ডা’ সিনেমায় অভিনয় করে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন খলিল। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন সুমিতা দেবী ও সুলতানা জামান। খলিল অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমা হচ্ছে,‘পুনম কি রাত’, ‘ভাওয়াল সন্ন্যাসী’, ‘উলঝান’, ‘সমাপ্তি’, ‘তানসেন’, ‘নদের চাঁদ’, ‘পাগলা রাজা’, ‘বেঈমান’, ‘অলঙ্কার’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘কন্যাবদল’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘আয়না’, ‘মধুমতি’, ‘ওয়াদা’, ‘ভাই ভাই’, ‘বিনি সুতার মালা’, ‘মাটির পুতুল’, ‘সুখে থাকো’, ‘অভিযান’, ‘কার বউ’, ‘কথা কও’, ‘দিদার’, ‘আওয়াজ’, ‘নবাব’ ইত্যাদি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য টিভি নাটক হচ্ছে, আব্দুল্লাহ আল মামুনের ধারাবাহিক ‘সংশপ্তক’। এই নাটকে ‘মিয়ার ব্যাটা’ চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করেন প্রয়াত এই শিল্পী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সবার জন্য ভ্যাকসিনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আ.জা. ডেক্স: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা প্রতিরোধকল্পে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর পুনরায় গুরুত্বারোপ করে পবিত্র ঈদুল আযহায় দেশের...

জামালপুরে করোনা প্রতিরোধে গো-হাটা ইজারাদারদের নিয়ে আলোচনা সভা

এম.এ রফিক: জামালপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শনিবার উপজেলা পরিষদে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গো-হাটা ইজারাদারদের সাথে...

মেলান্দহের ফুলকোচায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছ কর্তন

নিজস্ব সংবাদদাতা: জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার অন্তর্গত ৮নং ফুলকোচা ইউনিয়নের মুন্সি পাড়ায় বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রায় লক্ষাধিক...

ইসলামপুরে ৫৯হাজার ৫৬৬টি পরিবারে ভিজিএফ বিতরণ

ওসমান হারুনী: জামালপুরের ইসলামপুরে পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে বন্যা/অন্যান্য দুর্যোগ/দু:স্থ/ীঅতিদরিদ্র ভিক্ষুক পরিবারের মাঝে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ইসলামপুর উপজেলার ১২টি...

Recent Comments