Sunday, September 26, 2021
Home রাজনীতি অস্ত্র ও পোশাকের ভয় দেখিয়ে সত্য আড়াল করা যাবে না: গয়েশ্বর

অস্ত্র ও পোশাকের ভয় দেখিয়ে সত্য আড়াল করা যাবে না: গয়েশ্বর

আ. জা. ডেক্স:

অস্ত্র ও পোশাকের ভয় দেখিয়ে কখনই সত্য কথা আড়াল করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ তিনি এ কথা বলেন। লেখক ও সাংবাদিক মুশতাক আহমেদ এবং সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল এ সমাবেশের আয়োজন করে। গয়েশ্বর বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের অনেক পথ আছে। উন্মুক্ত রাজপথে আন্দোলনে বাধা দিলে বিকল্প পথ খুঁজতে কর্মীরা বাধ্য হবে। সেই বিকল্প পথে যদি যায় তাহলে দেশটা কী হবে তা কিন্তু আপনাদের ভাবতে হবে। সুতরাং নিরাপত্তা শুধু আমাদের প্রয়োজন নয়, নিরাপত্তা সকলেরই প্রয়োজন। এদেশে নিরস্ত্র জনগণ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করেছেন। তাদেরকে পরাজিত করে দেশের মাটিতে ফেরত পাঠিয়েছেন। আন্দোলনের মুখে অস্ত্র ও পোশাকের ভয় দেখিয়ে কখনই সত্য কথা আড়াল করা যাবে না। সে কারণেই বলছি মুক্তি দিন, প্রতিবাদ করতে দিন, গণতন্ত্রকে ফেতর আসতে দিন। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ফিরে আসলে প্রশাসনে যারা চাকরি করবেন, তারা গর্বিত প্রশাসক হিসেবে জনগণের সামনে হাজির হবেন। গণতন্ত্রবিহীন রাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচানোর জন্য রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন জনগণের সেবা করা বাদ দিয়ে যদি লাঠিচার্জ করেন, তাহলে জনগণ লাঠি কেড়ে নিতে বাধ্য হবে।

জনগণের দেশ জনগণ ডিসাইড করবে, জনগণের গণতন্ত্র জনগণ ফিরিয়ে আনবে। এখানে কোনো মন্ত্র-তন্ত্র কাজে লাগবে না। বিএনপির এই নেতা বলেন, ৭ মার্চ, এদিনে তারেক রহমানের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী শক্তি নির্মূলের যে সূচনা হয়েছে তা সারাদেশ দেখেছে। বাংলাদেশের লেখক, বুদ্ধিজীবীরা গ্রেপ্তার হন, বিনা বিচারে জেল থেকে লাশ হয়ে বের হন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মুসতাকের মৃত্যু নাকি স্বাভাবিক। তিনি বলেন, শুধু শেখ হাসিনার কথায় লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক খুন হন না। শেখ হাসিনাকে যারা লালনপালন করেন, বাংলাদেশকে যারা শোষণ করেন তাদের ইচ্ছায়-অনিচ্ছার উপর বাংলাদেশের অনেকের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশ বাংলাদেশের জায়গায় নাই, বাংলাদেশ দিল্লির শৃঙ্খলে আবদ্ধ। সবাই মিলে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। এই স্বাধীনতা ভোগ করতে চাইলে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে, সকল শ্রেণীপেশার মানুষ এক কাতারে সামিল হতে হবে। যেকোনো বাঁধাকে অতিক্রম করে তাদের পাকিস্তানিদের মতো পরাজিত করে যার যার ঘরে পাঠিয়ে দিতে হবে। সুশৃঙ্খল বাহিনী ছাড়া যুদ্ধ হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলের শৃঙ্খলাসহ যা কিছু আছে তা মেনে ঐকমত্য ও নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন থাকা দরকার। জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিটি কর্মীকে ইস্পাত কঠিন ঐক্যের মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে জিততে হবে। শহীদ জিয়ার বাংলাদেশ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিএনপি নেতাকর্মীদের আরও সাহস ও শক্তি সঞ্চয় করার জন্য আহŸান জানিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, এভাবে চলবে না। আপনারা সাহস করে এখানে বসে আছেন, আপনাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমাদেরকে আরও সাহস ও শক্তি সঞ্চয় করতে হবে।

এই স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমরা একজন একজন করে কোটি জনগণ একসঙ্গে হয়ে একদিন এই স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটাব। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবাদ সভা করছি- এটা করছি কারণ আমরা আমাদের কথা বলার অধিকার চাই। আমরা দেশের স্বাধীনতা চাই। আমরা দেশের মানুষের স্বাভাবিক কথা বলার গ্যারান্টি চাই। আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। কিন্তু আজকে চারিদিকে কত অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়ন। এত ভয় কিসের। কাকে এত ভয়? সরকারের উদ্দেশ্যে আব্বাস বলেন, যাকে ভয় পাবেন তাকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে আটকে রেখেছেন (বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া)। যাকে ভয় পাচ্ছেন, সেই তারেক রহমান প্রবাসে আছেন। যাকে ভয় পাচ্ছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, উনি আমাদের মাঝে নেই। তবু এত ভয় কেন আপনাদের? আমি বুঝতে পারি না। এত ভয় কি জন্য। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল ৯টার পর থেকে থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা সমাবেত হতে থাকে। প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী এই সমাবেশে অংশ নেন। তাদেরকে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে বসে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতেও দেখা গেছে। এদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কদম ফোয়ারা, তোপখানা রোডে ও সচিবালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পথচারীদের তল্লাশি করে। তবে অন্যান্য কর্মসূচির তুলনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এদিনের কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য। এর মধ্যে আবার নিজেদের মধ্যে কয়েকজন মারামারি করে রক্তাক্তও হয়েছেন। কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাধা দিয়েছেন বলেও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে অভিযোগ করেন নেতারা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিএনপির প্রতিপক্ষ না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, মুক্ত বাংলাদেশের জন্য যেখানে যেটা প্রয়োজন আমরা সেটাই করব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের কাছে আমাদের অনুরোধ। দয়া করে আপনারা আমাদের প্রতিপক্ষ হবেন না। আলাল বলেন, আজ দেখলাম এই সমাবেশে আসার সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভাইয়েরা পথে পথে আমাদেরকে আটকাচ্ছেন। সমাবেশে আসতে নিষেধ করছেন। পল্টন মোড়ে আটকাচ্ছেন, সমাবেশের চারপাশে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছেন। কাউকে বাসে-উঠতে দিচ্ছেন না। আর ইরফান সেলিমের বাসা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে, র‌্যাব দিয়ে মদ, অস্ত্র উদ্ধার করলেন। সেই মামলায় তাকে মুক্তি দিয়ে দিলেন। এভাবে বিচার করলে মানুষের মনের মধ্যে যে ভক্তি ও সম্মান সেটা ধরে রাখার কষ্ট হয়ে যায়। পুলিশের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা বাংলাদেশ পুলিশ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের গর্বিত সদস্য। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের অবদান রয়েছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আপনাদের অবদান রয়েছে। আপনারা তাহলে কেন উল্টো পথে চলতে চাচ্ছেন? এটা আমাদের বড় কষ্ট লাগে। এই ৫৬ হাজার বর্গমাইলের অসংখ্য জনগণ রয়েছে। এই জনগণের মধ্যে কারও না কারও আত্মীয় বড় কর্মকর্তা রয়েছে। আবার কোনো না কোনো বড় অফিসারের আত্মীয় এই আওয়ামী লীগ সরকারকে পছন্দ করে না। তাই বলে কি সবাইকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে? তাই বলে কি সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে? পথে পথে আটকাতে হবে? এটা আপনাদের পবিত্র দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

আলাল বলেন, দেশে আজ যে দুই রকমের আইন চলছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরের যে সুবর্ণজয়ন্তীতে গণতন্ত্রকে সুবর্ণ নয়, বিবর্ণ করে দিয়েছে। এই বিবর্ণ গণতন্ত্র দিয়ে দেশ চলতে পারে না। দেশের বর্তমান যে অবস্থা, এই অবস্থা দেখার জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি। তিনি বলেন, লুটেরা রাজত্ব করবে, ভোট ডাকাতরা যা খুশি তাই করবে, ঘরের মধ্যে সাগর-রুনি নিরাপদ না। রাস্তায় সাধারণ মানুষ শাজাহান খানের গাড়ির চাপায় কারণে নিরাপদে নেই। জেলখানায় মুশতাক নিরাপদ না। এই বাংলাদেশ আমরা চাইনি। আলাল বলেন, এখন না হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হয়েছে। কিন্তু ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম যখন গুম হয়েছে, তখন তো এই আইন ছিল না। তাহলে কেন এত মানুষ মরতে হলো? আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও তার ভাইয়ের মধ্যে মারামারির কারণে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির পৃথিবী থেকে চলে গেলেন। কি কারণে? তার অপরাধ কি ছিল? পুলিশ প্রধানের উদ্দেশ্যে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আইজি সাহেব বলেছেন পুলিশের কি অপরাধ, পুলিশকে মারল। পুলিশকে মারার যারা পদক্ষেপ নিয়েছেন আমরা তাদেরকে সমর্থন করি না। কিন্তু আইজি সাহেব আপনাকে বুঝতে হবে, পুলিশের বেশিরভাগ সদস্য অন্যায় আদেশ পালন করতে চান না। আপনারা উপর থেকে চাপ দিয়ে তাদেরকে অন্যায় আদেশ পালন করতে বাধ্য করেন। এই অন্যায় আদেশ তারা বেশিদিন মানবে না। যাদের দেশপ্রেম আছে, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা আছে। তারা এই অন্যায় আদেশ বেশি দিন মানবে না। স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভ‚ঁইয়া জুয়েলের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসবেকল দলের সহ-দপ্তর সস্পাদক নাজমুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ট্রেনে ছিনতাই-খুনের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

আ.জা. ডেক্স: ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেনে ছিনতাই ও দুই খুনের ঘটনায় রেলওয়ে থানায় মামলা হয়েছে।...

জাতিসংঘে ভাষণ: করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ছয়টি প্রস্তাব

আ.জা. ডেক্স: করোনাভাইরাসকে অভিন্ন শত্রু উল্লেখ করে তা মোকাবিলায় ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের...

রাজনীতিবিদরা এখন দেশ চালাচ্ছেন না: ফখরুল

আ.জা. ডেক্স: রাজনীতিবিদরা এখন দেশ পরিচালনা করছেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি...

জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ বিশ্বের যুগান্তকারী ঘটনা: বিএসএমএমইউ উপাচার্য

আ.জা. ডেক্স: জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলায় দেওয়া ভাষণকে বিশ্বের বুকে এক যুগান্তকারী ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন...

Recent Comments