Friday, February 3, 2023
Homeজাতীয়আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগ-পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগ-পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পুলিশকে জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। গণতন্ত্র সুদৃঢ়করণে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ বিচার বিভাগ ও পুলিশ পারস্পরিক সহযোগিতার আদলে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

পুলিশ সপ্তাহ-২০২৩ এর ৬ষ্ঠ ও শেষ দিন (৮ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে পুলিশ আছে জনতার পাশে’ প্রতিপাদ্যে গত ৩ জানুয়ারি থেকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হওয়া ৬ দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে শেষ হয়েছে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সভাপতিত্বে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপিরা, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান, সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপার সভায় উপস্থিত ছিলেন।

মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ হওয়া বীরশ্রেষ্ঠ এবং ১৫ আগস্টে সপরিবারে নিহত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান চার নেতাকে স্মরণ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা সেই বীর পুলিশ সদস্যদের উত্তরসূরি যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন রাষ্ট্র বিনির্মাণে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সামাজিক এবং জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় অন্যান্য জাতীয় দায়িত্ব পালনে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, দুষ্কৃতিকারী, আইন ভঙ্গকারীদের দমনে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন ও জীবন উৎসর্গকে এদেশের মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আজকের এই গতিশীল অবস্থানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। মহান মুক্তিযুদ্ধে সূচনালগ্নে দেশ ও মাতৃভূমি রক্ষার্থে বিজয় কেতন ওড়ানোর সুদৃঢ় প্রত্যয়ে হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র। বীরদর্পে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। পাশাপাশি সুনিপুণ রণকৌশল প্রণয়ন ও অস্ত্র সরবরাহ, সাধারণ জনগণকে প্রশিক্ষণ প্রদান ও জনমত গঠনের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশ পুলিশ এ দেশের ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল নক্ষত্রপুঞ্জের মতো বিচরণ করছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক অতিমারি আমাদের সামষ্টিক সামাজিক জীবনে দুর্বৃত্ত আকার ধারণ করেছে। যখন আপনজনের লাশ থেকে নিজ পরিবারের সদস্যরা দূরে ছিল, তখন আপনারা আপনাদের জীবনের পরোয়া না করে জনমানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছিলেন। ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্যদ্রব্য। নিশ্চিত করেছেন ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা। আত্মনিয়োগ করেছেন করোনায় নিহত মানুষের সৎকারে। আপনাদের এ আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুদৃঢ়করণের অংশ হিসেবে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ বিচার বিভাগ ও বাংলাদেশ পুলিশ পারস্পরিক সহযোগিতার আদলে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আপনারা বিচার প্রক্রিয়ায় আদালতের বিভিন্ন নির্দেশ বাস্তবায়ন করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অপরিসীম সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। কয়েক বছর আগে জনগণ অবৈধ অস্ত্রধারী ও বিভিন্ন তথাকথিত বাহিনী এবং দুষ্কৃতিকারীদের অত্যাচারে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারতো না। সেই পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, গত ৩ জানুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনস রাজারবাগে অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর পরিবেশে প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ উপস্থিতিতে একটি দৃষ্টিনন্দন প্যারেডের মধ্যদিয়ে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৩ এর যে মনোমুগ্ধকর সূচনা হয়েছিল। প্রধান বিচারপতির উপস্থিতির মধ্য দিয়ে তা আজ সমাপ্ত হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সব নাগরিককে সেবা প্রদান, বসবাসের উপযোগী ও কর্মোপযোগী নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা বাংলাদেশ পুলিশের অভিষ্টলক্ষ্য। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে প্রত্যয়ে রেখে প্রধানমন্ত্রী বিনির্মাণ করে চলেছেন দেশের ভবিষ্যৎ। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ডিজিটাল যুগের অগ্রযাত্রা সামাজিক শান্তি ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণকে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা দিয়ে চলেছে বাংলাদেশ পুলিশ।

আইজিপি বলেন, আইনের শাসনকে সমুন্নত রাখতে দেশের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধন আজ সময়ের দাবি। আইন লঙ্ঘনকারীকে বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশ ও বিচার বিভাগ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ। বাংলাদেশে আইনের শাসন বজায় রাখতে ও দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ যে সব নির্দেশনা প্রদান করে সে সব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশ পুলিশ অঙ্গীকারাবদ্ধ।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক এ মতবিনিময় তদন্ত ও বিচারকার্যে বাড়তি মাত্রা যোগ করবে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতিরা আইজিপি ধন্যবাদ জানান।

পুলিশ সপ্তাহের ৬ষ্ঠ ও শেষ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

৩ জানুয়ারি সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্যদিয়ে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৬ দিনব্যাপী বিভিন্ন বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রোববার রাতে শেষ হয়েছে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৩।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments