Monday, December 5, 2022
Homeখেলাধুলাইনিংস ব্যবধানেই হারল বাংলাদেশ

ইনিংস ব্যবধানেই হারল বাংলাদেশ

আ.জা. স্পোর্টস:

ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিন শেষেও খুব আশাবাদী কোনো ভক্ত সমর্থক ছাড়া বাংলাদেশ ড্র করতে পারবে এমন কিছু ভাবার লোক পাওয়া যেতো নিশ্চিতভাবেই হাতে গোনা। এমনকি পঞ্চম দিন চা বিরতির আগেই ম্যাচের লাগাম যথারীতি পাকিস্তানের হাতে। কিন্তু শেষ সেশনে মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে দারুণ এক জুটিতে ড্রয়ের দিকেই নিয়ে যাচ্ছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে বাবর আজমের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম উইকেট শিকারে ভাঙে জুটি, শেষ বিকেলে পরাজয়ের হতাশা সঙ্গী টাইগারদের। বৃষ্টি, বৈরি আবহাওয়ায় ম্যাচের প্রথম ৩ দিনে ৬৩.২ ওভারের বেশি খেলা হয়নি। কিন্তু পরের দুইদিনেই ম্যাচ জেতার মতো উপলক্ষ তৈরি করে বসে সফরকারীরা। ব্যাটে-বলে কোণঠাসা করে তুলে নেয় ইনিংস ও ৮ রানের জয়। এই হারে বাংলাদেশ চলমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় চক্রেও এখনো পর্যন্ত আছেন জয় শূন্য। দুই ইনিংসে পাকিস্তানি অফ স্পিনার সাজিদ খানের শিকার ১২ উইকেট। আর তাতে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর টেস্টেও ধবল ধোলাই হতে হলো বাংলাদেশকে। গতকাল বুধবার ৫ম দিন শেষ সেশনে ইনিংস হার এড়াতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিলো ৬৬ রান, হাতে ৪ উইকেট। সাকিব আল হাসান অপরাজিত ছিলেন ২৪ রানে।

চা বিরতির পর নতুন ব্যাটার মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ২৩.১ ওভার কাটিয়ে দেন সাকিব। ততক্ষণে জুটিতে রানও যোগ হয়ে যায় ৫১ রান। যেভাবে দুজনে ব্যাট করছিলেন তাতে দিনের বাকি সময় ও ওভারগুলো অনায়েসেই কাটিয়ে দেওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছিলো। কিন্তু আন্তির্জাতিক ক্রিকেটে মঙ্গলবার প্রথমবার বল হাতে নেওয়া বাবর আজম গতকাল গুরুত্বপূর্ণ সময়েই বল হাতে নিয়ে ভাঙেন জুটি। মিরাজকে (৭০ বলে ১৪) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে পথের কাটা সরান। এরপর আর ১০ ওভারও টিকেনি বাংলাদেশের ইনিংস। পৌনে তিন ঘন্টা ক্রিজে টিকে দলকে টেনে নেওয়া সাকিব ফেরেনে সাজিদ খানের বলে লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে। ১৩০ বলে তার ব্যাটে ৯ চারে ৬৩ রান। সাকিব যখন ফেরেন তখনো ইনিংস হার এড়াতে প্রয়োজন ১৩ রান। শেষ দুই উইকেটে ৫ রানের বেশি যোগ করতে পারেনি বাংলাদেশের লেজের ব্যাটাররা। ৩১ বল খেলা তাইজুল ইসলামে শেষ ভরসা করা হলেও সাজিদ খানের চতুর্থ শিকার হন এলবিডব্লিউ হয়ে। রিভিউ নিলেও বাঁচা যায়নি, ৮ রানের জয়ে ততক্ষণে বাঁধ ভাঙা উল্লাস পাকিস্তান শিবিরে।

পাকিস্তানের ৪ উইকেটে ৩০০ রানের জবাবে বাংলাদেশ চতুর্থ দিন শেষ করেছিলো ৭ উইকেটে ৭৬ রান তুলে। ফলো অন এড়াতে এড়াতে ভরসা ছিলেন ২৩ রানে অপরাজিত থাকা সাকিব। তবে গতকাল পাকিস্তানের ৬ ওভারের বেশি সময় লাগেনি সাকিব সহ বাংলাদেশের শেষ ৩ উইকেট তুলে নিতে। সাকিব থামেন ৩৩ রানে, বাংলাদেশ অলআউট ৮৭ রানে। সাজিদ খানের শিকার ৮ উইকেট। ফলো অনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেও ২৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের ব্যাটে কিছুটা আলোর রেখা দেখা যায়। দুজনে ৪৭ রানের জুটি গড়ে লাঞ্চে যায়। মুশফিক ১৬ ও লিটন ২৭ রানে অপরাজিত ছিলো। লাঞ্চের পরও দুজনে সাবলীল ব্যাটিংই করছিলেন। কিন্তু ফিফটির দ্বারপ্রান্তে গিয়ে এলোমেলো লিটন দাস। সাজিদ খানের শর্ট বলকে পুল করে বাউন্ডারি হাঁকাতে চেয়েছেন। কিন্তু ব্যাটে-বলে সংযোগ না হয়ে ক্যাচে পরিণত হন ফাওয়াদ আলমের। ৮১ বলে থামেন ৪৫ রান করে। মুশফিকের সাথে ৭৩ রানের জুটির ইতি ঘটে। এরপর সাকিবকে নিয়ে মুশফিক প্রায় সেশনটা পার করে দিচ্ছিলেন। দুজনে ৪৯ রানের জুটিও গড়েন। কিন্তু শেষদিকে রান আউটে কাটা পড়ে নিজেই পথটা বন্ধ করে দেন মুশফিক। নুমান আলির বলে শর্ট মিড উইকেটে ঠেলে দেন সাকিব। তবে প্রান্ত বদল করতে গিয়ে বিপাকে মুশফিক। ততক্ষণে স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেট রক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান। মুশফিক ড্রাইভ দিলেও তার ব্যাট পপিং ক্রিজে স্পর্শ না করে হাওয়ায় ভেসে ছিলো। যে কারণে টিভি আম্পায়ার অনেক পর্যবেক্ষণ করে শেষ পর্যন্ত আউটের সিদ্ধান্ত দেন। ১৩৬ বলে ৩ চারে মুশফিকের ব্যাটে ৪৮ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
পাকিস্তান ১ম ইনিংসে ৩০০/৪ (৯৮.৩ ওভারে ইনিংস ঘোষণা), আবিদ ৩৯, শফিক ২৫, আজহার ৫৬, বাবর ৭৬, ফাওয়াদ ৫০, রিজওয়ান ৫৩; তাইজুল ২৫-৬-৭৩-২, খালেদ ১৭.৩-৫-৪৯-১, এবাদত ২৩-৩-৮৮-১
বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ৮৭/১০ (৩২), সাদমান ৩, জয় ০, শান্ত ৩০, মুমিনুল ১, মুশফিক ৫, লিটন ৬, সাকিব ৩৩, মিরাজ ০, তাইজুল ০, খালেদ ০, এবাদত ০; সাজিদ ১৫-৪-৪২-৮, আফ্রিদি ৪-৩-৩-১ বাংলাদেশ ফলো অনে পড়ে ২য় ইনিংসে ২০৫/১০ (৮৪.৪), সাদমান ২, জয় ৬, শান্ত ৬, মুমিনুল ৭, মুশফিক ৪৮, লিটন ৪৫, সাকিব ৬৩, মিরাজ ১৪, তাইজুল ৫, খালেদ ০, এবাদত ০; আফ্রিদি ১৫-৫-৩১-২, হাসান ১১-৩-৩৭-২, সাজিদ ৩২.৪-৮-৮৬-৪, বাবর ২-১-১-১।
ফলাফলঃ পাকিস্তান ম্যাচে ইনিংস ও ৮ রানে জয়ী, ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী
ম্যাচসেরাঃ সাজিদ খান (পাকিস্তান)
সিরিজসেরাঃ আবিদ আলি (পাকিস্তান)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments