Saturday, February 4, 2023
Homeজামালপুরইসলামপুরে যমুনা ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ে অনিয়ম

ইসলামপুরে যমুনা ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ে অনিয়ম

ওসমান হারুনী: জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনা নদী ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের বরাদ্দ থাকলেও নাম মাত্র কাজ দেখিয়ে কৌশলে সরকারী বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসীর অভিয়োগ, নদী ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজটি বাস্তবায়নে নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি নিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও তাদের কে সাথে না নিয়ে কৌশলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিম্ন মানের স্বল্প পরিসরে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ লুটপাট করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী ভাঙন রোধে বরাদ্দকৃত প্রায় ৮হাজার জিও ব্যাগের মধ্যে সাড়ে ৩হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করেন ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যা এখনো দৃশ্যমান রয়েছে। তড়িঘড়ি করে অধিকাংশ জিও ব্যাগে বালির পরিবর্তে মাটি দিয়ে ডাম্পিংয়ের কাজ সমাপ্ত করেছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
কাজের অনিয়মের ব্যাপারে সরেজমিনে খোজঁ নিতে গেলে স্থানীয় এক দোকানী কুমোর আলী বলেন, ‘এখানে প্রায় ৮হাজার বালি ভর্তি ব্যাগ ফেলানোর কথা থাকলেও সর্বোচ্চ ৩থেকে সাড়ে ৩হাজার ব্যাগ ফেলা হয়েছে’।
এছাড়াও একই এলাকার মফিজল,আকরামসহ একাধিক ব্যাক্তিরা বলেন,‘পাঁচ ছয় দিনেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনরা বালির পরিবর্তে মাটি ভরে কাজ শেষ করে চলে গেছেন। এখানে যেভাবে কাজ করা হয়েছে এতে সামান্য পানির ঢল আসলেই নদীর গর্ভে চলে ডাম্পিং করা জিও ব্যাগ গুলো।’
এব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান নোয়ারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রুমান হাসান জানান,বরাদ্দের ৪০% কাজও হয়নি। আর যারা ডাম্পিংয়ের কাজ করেছেন তাদের মাধ্যমে আমি জানতে পেয়েছি মাত্র ৩হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও তিনি এবিষয়ে অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট লিখিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানান।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু. তানভীর হাসান রুমান সাংবাদিকদের জানান, যখন কাজ করেছেন তখন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি থাকার কথা ছিল। এখন তারা এ কথা বলছে কেন ? তারও পরেও বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।
এব্যাপারে জামালপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. দীন ইসলামের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে বক্তব্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের ‘হাড়গিলা বাঁধের উত্তর পাশে’ যমুনার ভাঙন ক্রিয়া বৃদ্ধি হওয়াই পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইমার্জেন্সী প্রকল্পের চলতি অর্থবছরের আওতায় ৩৪ লাখ ৪৮ হাজার ৮শ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একশ মিটার দৈর্ঘ্যরে এই প্রকল্পটিতে ৭হাজার ৮৪৪ বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজটি পেয়েছিল জামালপুরের মারুফ এন্টারপ্রাইজ নামে এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
এব্যাপারে ঠিকাদার মারুফ এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মো.আতিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী যে অভিযোগ করেছ তা সঠিক নয়। স্থানীয় লোকদের টাকা না দেওয়ায় আমার কাজ নিয়ে নানান কথা বলছে। বিষয়টি স্থানীয় মন্ত্রী মহোদয়কেও অবহিত করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments