Monday, December 5, 2022
Homeজাতীয়করোনা মহামারীতেও চট্টগ্রাম বন্দরে বেড়েছে কার্গো ও কন্টেনার হ্যান্ডলিং

করোনা মহামারীতেও চট্টগ্রাম বন্দরে বেড়েছে কার্গো ও কন্টেনার হ্যান্ডলিং

আ.জা. ডেক্স:

বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীতেও দেশের আমদানি-রফতানি বেড়েছে। ফলে এমন পরিস্থিতিতেও গত বছরের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দরে বেড়েছে কার্গো ও কন্টেনার হ্যান্ডলিং। সমাপ্ত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে ৪ সহস্রাধিক জাহাজ ভিড়েছে। আর কন্টেনার ওঠানামা করেছে প্রায় ৩১ লাখ টিইইউএস (প্রতিটি ২০ ফুট)। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তপক্ষ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আসার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। সমাপ্ত অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে বেশি পরিমাণ কার্গো ও কন্টেনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। ফলে কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। অবশ্য করোনা পরিস্থিতি না থাকলে আমদানি-রফতানি আরো বেশি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আর ওই পরিমাণ পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতাও চট্টগ্রাম বন্দরের রয়েছে।

সূত্র জানায়, সদ্যসমাপ্ত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে জাহাজ ৪ হাজার ৬২টি ভিড়েছে। যা আগের বছরের চেয়ে ২৯৮টি বেশি। সেক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। আর বন্দর কন্টেনার হ্যান্ডলিং করেছে ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ২৩৬ টিইইউএস। আগের বছর ৩০ লাখ ৪ হাজার ১৪২ টিইইউএস হ্যান্ডলিং হয়েছিল। তাছাড়া সমাপ্ত অর্থবছরে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১১ কোটি ৩৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন। আর আগের বছর কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৭২ মেট্রিক টন।

সূত্র আরো জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান সক্ষমতায় ৩৬ থেকে ৪০ লাখ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব। ইতিমধ্যে বন্দরের হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি এবং ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে চারটি গ্যান্টিক্রেন দিয়ে কাজ চলছিল, সেখানে আরো ১০টি যুক্ত হয়ে ১৪টি হয়েছে। তাছাড়া এ বছরই নবনির্মিত পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল (পিসিটি) চালু করা হবে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান জানান, করোনার লকডাউন বা বিধি-নিষেধের মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দর সচল ছিল। চালু ছিল কাস্টম হাউস এবং বন্দর ও শুল্কায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পোশাক এবং পণ্য উৎপাদনকারী শিল্প-কারখানাগুলো খোলা থাকায় আমদানি-রফতানি অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল। ইয়ার্ড থেকে পণ্য ডেলিভারির ধারাবাহিকতাও রক্ষা হয়েছে। ফলে জাহাজ ও কন্টেনার জটের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। প্রতিকূলতার মধ্যেও বন্দরে প্রায় ৩১ লাখ টিইইউএস কন্টেনার ও ১১ কোটি মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং প্রমাণ করে যে, মহামারীতেও দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাÐ সচল রয়েছে। বাড়ছে শিল্পায়ন ও উন্নয়ন। কারণ আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল এবং অবকাঠামো নির্মাণের সামগ্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments