Tuesday, April 20, 2021
Home জাতীয় কারখানার ইটিপি প্লান্টের কার্যক্রম অনলাইনে নজরদারির উদ্যোগ

কারখানার ইটিপি প্লান্টের কার্যক্রম অনলাইনে নজরদারির উদ্যোগ

আ. জা. ডেক্স:

দেশের শিল্প-কারখানাগুলোর তরলবর্জ্য পরিশোধন করার জন্য শোধনাগার বা ইটিপি প্লান্ট স্থাপনের আইন থাকলেও অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানই তা মানছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান ইটিপি প্লান্ট স্থাপন না করেই বছরের পর বছর কারখানা চালাচ্ছে। আবার অনেকে আইনের ভয়ে কিংবা জরিমানা থেকে বাঁচতে ইটিপি প্লান্ট স্থাপন করলেও বছরে একদিনও ইটিপি মেশিন চালু করে না। অথচ শিল্পকারখানার অপরিশোধিত তরলবর্জ্য দেশে নদী ও খালের পানি সবচেয়ে বেশি দূষণ ঘটাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবেশ অধিদপ্তর শিল্প-কারখানার ইটিপি প্লান্ট চালু রাখার বিষয়টি অনলাইনে নজরদারির উদ্যোগ নিচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে নির্দিষ্টসংখ্যক কিছু শিল্প-কারখানা অনলাইন নজরদারির আওতায় আনবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এবং জার্মান-বাংলাদেশ উন্নয়ন সংস্থা (জিআইজেড)। ক্রমান্বয়ে ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ইটিপি সিস্টেমও অনলাইন নজরদারি করা হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শিল্প-কারখানায় ইটিপি প্লান্ট স্থাপন অনেক ব্যয়বহুল। মূলত সেজন্যই কারখানা মালিকরা ইটিপি ব্যবহারে অনাগ্রহী। তবে আইনের চোখ এড়াতে অনেক কারখানাই দিনের নির্ধারিত সময়ে ইটিপি সচল রাখে। কিন্তু রাতে কিংবা যখন পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের অভিযানের সম্ভাবনা কম তখন ইটিপি মেশিন বন্ধ রেখে তরলবর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হয়। এভাবেই দূষিত হচ্ছে রাজধানীর প্রধান চার নদীসহ দেশের উল্লেখযোগ্য নদ-নদী। তাছাড়া অনেক কারখানা ইটিপি চালু না রেখে অপরিশোধিত তরলবর্জ্য মাটির নিচে চাপা দিচ্ছে। তাতে করে জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশগত হুমকির সৃষ্টি হচ্ছে।

সূত্র জানায়, দেশে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। কিন্তু স্বল্প লোকবলের কারণে ওসব শিল্পকারখানা সঠিকভাবে মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া কোনো ফ্যাক্টরিতেই সার্বক্ষণিক মনিটরিং করাও সম্ভব নয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযানে গিয়ে এক একটি কারখানাকে ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হচ্ছে। অনেক শিল্প-কারখানা জরিমানা দিতে প্রস্তুত থাকলেও ইটিপি মেশিন চালাতে চায় না। কারণ ইটিপি মেশিনের খরচের চেয়ে জরিমানার অর্থের পরিমাণ অনেক কম। আর আইনগত কারণে ওসব প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি জরিমানাও করা যায় না।

সূত্র আরো জানায়, শিল্পকারখানার ইটিপির অনলাইন নজরদারির ক্ষেত্রে দুটি বিষয় নিশ্চিত করা হবে। কারখানাগুলো ইটিপি প্লান্ট ঠিকমতো সচল রয়েছে কিনা এবং কতোটুকু পানি ব্যবহার করছে। আবার ওই পরিমাণ তরলবর্জ্য শোধন করছে কিনা তাও পরিমাপ করা হবে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইটিপি প্লান্ট অনলাইন নজরদারির কথা ভাবা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি কেমন হবে, কী কী প্রযুক্তি বসানো হবে, কতোটুকু ডাটা প্রয়োজন, খরচ কেমন হবে এ বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এখন অল্প কিছু কারখানা অনলাইন নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে রাজধানীর সব শিল্প-কারখানার ইটিপি প্লান্ট অনলাইনের মাধ্যমে নজরদারির পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে শিল্পকারখানার ইটিপি প্লান্ট অনলাইন নজরদারির ফলে ভোগান্তি বা সমস্যা যাতে না বাড়ে তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি ফজলুল হক জানান, যেহেতু এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি পদ্ধতি সেক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা না গেলে ফ্যাক্টরি মালিকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। দেখা গেল একজনের জরিমানা আরেকজনের নামে চলে এসেছে। একজনের ইটিপির হিসাব আরেকজনের সার্ভারে শো করলো ইত্যাদি। এগুলো কম্পিউটারের ভুলের কারণে নয়, দক্ষ অপারেটরের অভাবে ঘটতে পারে। তাই আগে থেকেই সতর্ক হয়ে এগোতে হবে। অন্যদিকে পরিবেশবিদরা ইটিপি প্লান্টের অনলাইন নজরদারির বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। তাদের মতে, পরিবেশ অধিদপ্তরের এ উদ্যোগ সফল হলে কল-কারখানার তরলবর্জ্যে নদী-খাল দূষণ অনেক কমে আসবে।

তবে কারখানা মালিকরা যেন কোনো চোরাপথ খুলে না বসে সেক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরকে সচেতন থাকতে হবে। দেখা গেল তারা ইটিপি প্লান্ট সচল করল আবার তরলবর্জ্যরে একাংশ মাটি চাপা দিল তখন পরিবেশ আরো মারাত্মকভাবে দূষণ হবে। নজরদারিতে সিসি ক্যামেরাসহ যে ধরনের মেশিন কারখানায় বসানো হবে, ওসব মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কারখানা মালিকদের হাতে দেয়া হলেই ভালো হবে। তাতে মেশিন নষ্টের অজুহাত দেখিয়ে নজরদারির বাইরে থাকার সুযোগ কারখানা মালিকরা পাবে না। তাছাড়া শুধু ইটিপি মেশিন সচল এবং পানির পরিমাণ নজরদারি করলেই হবে না, পাশাপাশি ইটিপির বিদ্যুৎ মিটার এবং কারখানার বিদ্যুৎ মিটার আলাদা করতে হবে এবং নজরদারির আওতায় আনতে হবে। তাতে করে তরলবর্জ্য শোধনের বিষয়টি সঠিকভাবে নজরদারি করা যাবে। নয়তো দেখা যাবে, ইটিপি প্লান্ট সচল রাখা হয়েছে কিন্তু তাতে সঠিক পরিমাণের কেমিক্যাল দেয়া হয়নি। ফলে ময়লা পানিই নদীতে পড়বে। এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর জানান, অনলাইন নজরদারি শুরু করতে পারলে একসঙ্গে সব শিল্প-কারখানার তথ্য নখদর্পণে চলে আসবে। ফলে সহজেই বোঝা যাবে কোন প্রতিষ্ঠান কখন ইটিপি প্লান্ট সচল করেছে কিংবা কখন শোধন না করেই তরলবর্জ্য অপারেশন করেছে। তখন সহজেই অনিয়ম করা কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

লকডাউন চলবে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত

রমজানের শুরু থেকে বাস্তবায়ন হওয়া লকডাউন আরেক দফা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লকডাউন চলবে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত। আগের যে ১৩ দফা শর্ত...

২৪ বছরেও বাড়ি ফিরতে পারেনি গাদুর পরিবার

মোহাম্মদ আলী: জামালপুর শহরের ফৌজদারী মোড়ের শহর রক্ষা বাঁধ। বাঁধের ঠিক নিচেই ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের ঢালে ছোট্ট ছাপড়া করে...

লকডাউন: জামালপুরে মোবাইল কোর্টে ১০৫ জনকে ৭৬ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সর্বাত্মক লকডাউনের পঞ্চম দিন ১৮ এপ্রিল সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় জামালপুরে ১০৫ জনের বিরুদ্ধে মামলায় মোট ৭৬...

সাত দিনের রিমান্ডে মামুনুল

আ.জা. ডেক্স: হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে...

Recent Comments