Tuesday, April 20, 2021
Home জাতীয় খাদ্য মজুদ সক্ষমতা বাড়াতে চলতি বছরেই চালু হচ্ছে ৩টি সাইলো

খাদ্য মজুদ সক্ষমতা বাড়াতে চলতি বছরেই চালু হচ্ছে ৩টি সাইলো

আ. জা. ডেক্স:

খাদ্যশস্যের মজুদ বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বর্তমান সরকারিভাবে দেশে খাদ্য মজুদ সক্ষমতা প্রায় ২১ লাখ টন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাদ্য মজুদ বাড়াচ্ছে সরকার। চলতি বছর চাল ও গম আমদানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে খাদ্য অধিদপ্তর প্রায় ৩৩ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সংগ্রহ করবে। এমন অবস্থায় মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোয় জোর দেয়া হচ্ছে। ওই লক্ষ্যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ চালু হচ্ছে আরো ৩টি সাইলো। আর আশুগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের মধুপুরের সাইলোর মাধ্যমে ২ লাখ টন খাদ্য মজুদ সক্ষমতা বাড়বে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে,

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদপ্তর সারা দেশের কৌশলগত স্থানে সাইলো, সিএসডি এবং দেশের প্রায় সব জেলা ও উপজেলায় এলএসডির মাধ্যমে খাদ্য মজুদ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বিগত ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশে সরকারিভাবে খাদ্যশস্যের কার্যকর ধারণক্ষমতা ছিল ১৪ লাখ ৯৩ হাজার টন। ২০০৯-১০ অর্থবছরে তা ১৫ লাখ ২৯ হাজার টন হলেও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আরো বেড়ে ১৮ লাখ ৭৬ হাজার টনে উন্নীত হয়। আর বিগত কয়েক বছর ধরেই খাদ্যশস্যের মজুদ সক্ষমতা ২১ লাখ টনেই আটকে রয়েছে। যদিও অর্থনৈতিক মজুদ সক্ষমতা কিছুটা কম, প্রায় ২০ লাখ টন। তাছাড়া অনেক সময় খাদ্যগুদামের পরিপূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। বেশ কয়েক বছরই খাদ্যগুদামের অর্ধেকই অব্যবহৃত ছিল। কিন্তু এখন সরকার খাদ্য মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জোর দিয়েছে। ওই লক্ষ্যে চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত সমাপ্তকরণের মাধ্যমে মজুদ সক্ষমতা বাড়াতে চায় খাদ্য মন্ত্রণালয়। সূত্র জানায়,

সারা দেশের কৌশলগত স্থানে সাইলো, সিএসডি এবং দেশের প্রায় সব জেলা-উপজেলায় কমপক্ষে একটি এলএসডি, গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় দুই বা ততোধিক এলএসডির মাধ্যমে খাদ্য ব্যবস্থাপনার প্রশাসনিক ও পরিচালন কার্যাবলি সম্পাদন করা হয়। খাদ্য অধিদপ্তরের ৭টি সাইলো, ১২টি সিএসডি এবং ৬৩২টি এলএসডিতে এক হাজার টনের ৭১২টি, ৫০০ টনের ১ হাজার ৭৯০টি এবং আরো বিভিন্ন রূপ ধারণ ক্ষমতার ২২০টিসহ মোট ২ হাজার ৭২২টি গুদাম রয়েছে। বর্তমানে ওই গুদামগুলোর সম্মিলিত ধারণক্ষমতা ২১ লাখ টন। ওই ধারণ ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে ৩০ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেজন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে নানা ধরনের খাদ্যগুদাম নির্মাণ করছে। আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ দশমিক ৩৫ লাখ টন ধারণ ক্ষমতার ৮টি আধুনিক স্টিল সাইলো (চাল ও গম) নির্মাণ করা হচ্ছে। ৩ হাজার ৫৬৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। ইতিমধ্যে দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্পটিতে ১ হাজার ৬৪৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। প্রকল্পটির প্রথম অনুমোদনের সময় বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৯১৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। কিন্তু প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ১ হাজার ৯১৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। মূলত ওসব সাইলোর মাধ্যমে ধারণসক্ষমতা প্রায় ২৬ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, দেশের ৮টি অঞ্চলে সাইলোর মধ্যে ঢাকা স্টিল রাইস সাইলো (ঢাকা সিএসডি), নারায়ণগঞ্জ স্টিল রাইস সাইলো (নারায়ণগঞ্জ সিএসডি), মধুপুর স্টিল রাইস সাইলো (টাঙ্গাইল), বরিশাল স্টিল রাইস সাইলো (বরিশাল সিএসডি), ময়মনসিংহ স্টিল রাইস সাইলো (ময়মনসিংহ সিএসডি), মহেশ্বরপাশা স্টিল গমের সাইলো (মহেশ্বরপাশা সিএসডি), চট্টগ্রাম স্টিল গমের সাইলো (চট্টগ্রাম সাইলো) এবং আশুগঞ্জ স্টিল রাইস সাইলো (আশুগঞ্জ সাইলো)। স্টিল সাইলো বেশ টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ করা যায়। ইতিমধ্যে সারা দেশে ১ লাখ ৫ হাজার টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন খাদ্যগুদাম নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হয়েছে। ওই প্রকল্পে এক হাজার টনের ৫২টি এবং ৫০০ টনের ১০৬টি গুদামসহ মোট ১৫৮টি নতুন খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা হয়েছে। বগুড়ার সান্তাহারে ২৫ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার অত্যাধুনিক বহুতলবিশিষ্ট খাদ্যগুদাম নির্মাণ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি ৪০০ কোটি ৯১ লাখ টাকায় সংশোধিত আকারে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১৩ সালে জুলাই থেকে গত বছরের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন হচ্ছে। তাছাড়া সরকার আধুনিক সাইলো নির্মাণের পাশাপাশি ৫ লাখ গৃহস্থালি সাইলো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রত্যেক গৃহস্থালিতে ৬০ কেজি করে খাদ্য সংরক্ষণ করে রাখা যাবে।

ফলে দুর্যোগের সময় পর্যাপ্ত খাদ্য পাওয়া যাবে। তাছাড়া ৩১৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সারা দেশে পুরনো খাদ্যগুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদির মেরামত এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২১ মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ‘সারা দেশের পুরনো খাদ্যগুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদির মেরামত এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৩১৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আর তা জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২১ পর্যন্ত মেয়াদকালে বাস্তবায়িত হবে। সারা দেশের ৮টি বিভাগের ৬২টি জেলাধীন ১৯৪টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনে তা বাস্তবায়িত হবে। সেখানে ৫৫০টি গুদাম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদির মেরামত করা হবে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ২০টি, ৩টি (ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা) ল্যাবরেটরিতে যন্ত্রপাতি/যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং ৭২৫টি স্থাপনায় সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। একই সাথে পরিবার পর্যায়ে প্লাস্টিকের সংরক্ষণাগারের মাধ্যমে খাদ্য মজুদাগারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মাটির পাত্র বেশ স্বাস্থ্যসম্মত কিন্তু উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য প্লাস্টিক সাইলো বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে সরকারিভাবে যে ধান, চাল ও গমের গুদামজাত করা হয় তার ধারণক্ষমতা প্রায় ২১ লাখ টন। যা দেশের জন্য মোটেও পর্যাপ্ত নয়। আগামী দিনে তা ৫০ লাখ টনে বাড়িয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। কারণ দেশের অধিকাংশ কৃষক ক্ষুদ্র ও ছোট হওয়ার কারণে তাড়াতাড়ি খাদ্যপণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হয়। ফলে শস্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত হয় না। গুদাম কিংবা সংরক্ষণাগার সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষকের ন্যায্য দাম দেয়া সম্ভব। সেজন্যই বাজার ও কৃষকের চাহিদা অনুসারে শস্যগুদাম নির্মাণে জোর দিতে হবে। সরকারের গুদাম খালি থাকলে ব্যবসায়ীরা ওই সুযোগের অপব্যবহার করে। ফলে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। তাই কৃষক ও ভোক্তাস্বার্থে দেশের খাদ্যগুদামের মজুদ বাড়ানো জরুরি।

অন্যদিকে এ বিষয়ে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম জানান, খাদ্যশস্যের মজুদ বাড়ানোয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সেজন্য চলমান প্রকল্পগুলোকে তদারকি করা হচ্ছে। আশা করা যায় চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ৩টি নতুন সাইলো চালু করা সম্ভব হবে। যদিও কভিডের কারণে কার্যক্রম কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে দ্রুত কার্যক্রম সমাপ্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওসব সাইলো আন্তর্জাতিক মানের হবে। বর্তমানে দেশে যে খাদ্য গোডাউন (এলএসডি, সিএসডি) আছে, সেগুলো ফ্ল্যাট গোডাউন। তাতে বস্তাবন্দি করে শস্য রাখা হয়। কিন্তু আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগারে তা করা হবে না। তাতে মানসম্পন্নভাবে দীর্ঘদিন খাদ্য সংরক্ষণ করা যাবে। প্রাথমিকভাবে একটি সাইলোতে আড়াই থেকে ৩ বছর পর্যন্ত খাদ্যশস্যের মান সম্পূর্ণ বজায় রেখে সংরক্ষণ করা যাবে। দেশের আরো কয়েকটি অঞ্চলেও একই ধরনের সাইলো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

লকডাউন চলবে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত

রমজানের শুরু থেকে বাস্তবায়ন হওয়া লকডাউন আরেক দফা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লকডাউন চলবে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত। আগের যে ১৩ দফা শর্ত...

২৪ বছরেও বাড়ি ফিরতে পারেনি গাদুর পরিবার

মোহাম্মদ আলী: জামালপুর শহরের ফৌজদারী মোড়ের শহর রক্ষা বাঁধ। বাঁধের ঠিক নিচেই ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের ঢালে ছোট্ট ছাপড়া করে...

লকডাউন: জামালপুরে মোবাইল কোর্টে ১০৫ জনকে ৭৬ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সর্বাত্মক লকডাউনের পঞ্চম দিন ১৮ এপ্রিল সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় জামালপুরে ১০৫ জনের বিরুদ্ধে মামলায় মোট ৭৬...

সাত দিনের রিমান্ডে মামুনুল

আ.জা. ডেক্স: হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে...

Recent Comments