Sunday, June 13, 2021
Home জামালপুর ঘর নিয়ে নেন আমার জমি ফেরৎ দেন আমি ওই ঘরে থাকমো না

ঘর নিয়ে নেন আমার জমি ফেরৎ দেন আমি ওই ঘরে থাকমো না

মোহাম্মদ আলী:

ঘর নিয়ে নেন। আমার জমি আর ৪ হাজার টাকা আমাক ফেরৎ দেন। আমি ওই ঘরে থাকমো না। ঘর ভাইঙ্গে যদি আমার নাতি নাতনী মইরে যায় তহন? এভাবেই প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেয়েও আতংকে তা ফেরৎ দিতে চাইছেন, দেওয়ানগঞ্জের চুকাইবাড়ি ইউনিয়নের রামপুরা মধ্যপাড়ার মনোহরের স্ত্রী জয়লা খাতুন (৭০)।
সোমবার, উপজেলার চুকাইবাড়ি ইউনিয়নের রামপুরা মধ্যপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ প্রকল্প আশ্রয়ণ-২ এর নির্মাণাধীন ঘরের দেওয়াল ধসে সুবিধাভোগী মমতা বেওয়া আহত হওয়ার খবরের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে গেলে আরেক সুবিধাভোগী জয়লা খাতুন উপরের কথাগুলো বলেছেন।

জানা যায়, গত ডিসেম্বরের শুরু থেকে ভূমি মন্ত্রাণালয়ের অর্থায়নে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ প্রকল্পে দেওয়ানগঞ্জে ১শ ৭২টি ঘরের কাজ শুরু হয়। নতুন বছরের জানুয়ারীর মাঝামাঝি সময়ে ঘরগুলো হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এর মধ্যে গত শনিবার উপজেলার চুকাইবাড়ি ইউনিয়নের রামপুরা মধ্যপাড়ায় নির্মাণাধীন ঘরের দেওয়াল ধসে পড়ে ঘরের মালিক মমতা বেওয়ার উপর। এই ঘটনায় তিনি মারাত্বক আহত হন। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর ঠিক একদিন পর রবিবার একই পাড়ার আমেনা বেগমের আরেকটি নির্মাণাধীণ ঘরের বারান্দা ভেঙ্গে পড়ে। পাশা পাশি সময়ে দুইটি ঘর এভাবে ভেঙ্গে পড়ায় ঘর নিয়ে ভীতি ও আতংকের মধ্যে পড়েছেন সুবিধা ভোগীরা। তাদের মতে ঘরের নির্মাণ কাজে ত্রুটি বা দুর্নীতির কারণে এধরণের ঘটনা ঘটছে। যার ফলে অন্যঘরগুলোর সুবিধাভোগীদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। তারা ঘর পেয়েও সেখানে থাকতে চাচ্ছেন না। এলাকাবাসী জানান, ঘরগুলোর কোনো ভীত্তি নেই। নতুন আলগা মাটির উপর ঘরগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘরগুলো এখন টিকে গেলেও ঝড়ে দিনে বা বর্ষা মৌসুমে এসব ঘরে বসবাস ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। এছাড়া ঘরগুলো নির্মান কাজে অত্যান্ত অবহেলা ও অবজ্ঞা লক্ষ্য করা গেছে। সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, ও সঠিক তদারকির অভাব ছিল। তাছাড়া তাড়াহুড়া করে কাজ শেষ করতে চাওয়ায় এমন বিপত্তি ঘটছে বলেও তারা জানান। অপরদিকে জয়লা বেগমসহ এ পাড়ার আরও অনেকে জানান এ ঘরগুলো তাদেরকে দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কবলাকৃত জমি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভূক্ত কওে নিয়েছেন। আর সে দলীলের খরচ বাবদ তাদেরকে ৪ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ণ কর্মকর্তা, মোঃ এনামুল হক বলেন, ১শ ৭২টি ঘরের সবগুলোর খবর রাখা আমার পক্ষে একা সম্ভব নয়। যাদেরকে এ প্রকল্পের ট্যাগ অফিসার দেওয়া হয়েছে তাদেরকে বার বার অবহিত করা হলেও তারা সেভাবে দায়িত্ব পালন করেননি।

এ ব্যাপারে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার. এ.কে.এম, আব্দুল্লাহ বিন রশিদ এর মতামত জানার চেষ্টা করেও পাওয় যায়নি। তবে, তার অফিসসূত্রে জানা গেছে এঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

৬ দফার ভেতরেই নিহিত ছিল স্বাধীনতার এক দফা: প্রধানমন্ত্রী

আ.জা. ডেক্স: ঐতিহাসিক ৬ দফার ভেতরেই স্বাধীনতার এক দফা নিহিত ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির...

স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেয়া হবে এসএসসি পরীক্ষা: শিক্ষাবোর্ড

আ.জা. ডেক্স: চলমান করোনাভাইরাসের মহামারী পরিস্থিতিতে সব কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে...

১৩ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

আ.জা. ডেক্স: চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ১৩ হাজার ৯৮৭ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার টাকার সম্পূরক বাজেট সংসদে...

করোনায় আরও ৩০ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯৭০

আ.জা. ডেক্স: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৯...

Recent Comments