Thursday, June 30, 2022
Homeজাতীয়চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা পিসিটি নির্মাণ কাজ শেষ হলে আরো বাড়বে

চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা পিসিটি নির্মাণ কাজ শেষ হলে আরো বাড়বে

আ.জা. ডেক্স:

দিন দিন দেশের অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। বাড়ছে আমদানি-রফতানির পরিমাণও। এমন পরিস্থিতিতে চাপ সামাল দিতে চট্টগ্রাম বন্দরের সম্প্রসারণ ঘটানো হচ্ছে। ওই লক্ষ্যে চলতি বছরই শেষ হচ্ছে ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনালের (পিসিটি) নির্মাণ কাজ। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর টার্গেট নিয়েছে। আর পিসিটি পুরোদমে অপারেশনে গেলে কন্টেনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা আরো প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টিইইউএস বাড়বে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের পিসিটি চালু হলে তা হবে ১৩ বছর পর নতুন একটি বড় সংযোজন। তার আগে বিগত ২০০৭ সালে ৫টি জেটি নিয়ে নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল চালু হয়েছিল। তারপর আমদানি রফতানি আরো বাড়লেও একযুগেরও বেশি সময় ধরে জেটিসংখ্যা আর বাড়ানো হয়নি। ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান সুবিধায় সেবা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছিল। এখন পিসিটি চালু হলে ওই অবস্থার অবসান ঘটবে।

সূত্র জানায়, চিটাগং ড্রাইডক থেকে বোটক্লাবের মধ্যবর্তী স্থানে ১২শ মিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে পিসিটি নির্মিত হয়েছে। তাতে মোট ৪টি জেটি থাকবে। তার মধ্যে ৩টি কন্টেনার জেটি এবং বাকি একটি তেল খালাসের জন্য ডলফিন জেটি। আর ১৬ একর জায়গায় থাকছে ইয়ার্ড। আর সরাসরি পিসিটি পর্যন্ত রেললাইন থাকায় মূল টার্মিনালে কন্টেনার জট হবে না। টার্মিনালটির বার্ষিক কন্টেনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা ৪ লাখ ৪৫ হাজার টিইইউএস। মূল জেটি থেকে কন্টেনার পরিবহনের জন্য পৃথক রেললাইন থাকছে। পিসিটির আরেকটি সুবিধা হল এর অবস্থান কর্ণফুলীর মোহনার কাছাকাছি। ফলে সেখানে বিদ্যমান বন্দর থেকে ড্রাফট বেশি পাওয়া যাবে। ফলে জাহাজগুলো আরো সহজে ভিড়তে পারবে।

সূত্র আরো জানায়, টার্মিনাল পরিচালনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু করার পাশাপাশি বিদেশী অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যে চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিষ্ঠান টার্মিনাল পরিচালনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে বিদেশী অপারেটর নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পিসিটি জেটিতে গিয়ার্ড ভ্যাসেল (ক্রেনযুক্ত জাহাজ) ভিড়িয়ে কার্যক্রম চালানো হবে।

এদিকে পিসিটি প্রসঙ্গে পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনালের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান সরকার জানান, একেবারেই শেষ পর্যায়ে পিসিটির কাজ। এ বছরের মধ্যে অবশ্যই শেষ হয়ে যাবে। বাকি থাকবে শুধু অপারেটর নিয়োগ। তবে তার আগে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু করার সরকারি সিদ্ধান্তে টার্মিনালটি চলতি বছরই যে অপারেশনে যাচ্ছে তা একপ্রকার নিশ্চিত। পিসিটির জন্য প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। তার মধ্যে যন্ত্রপাতি ক্রয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বিদেশী অপারেটর দিয়ে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হওয়ায় ওই যন্ত্রপাতি তারাই কিনবে। ফলে প্রকল্প ব্যয় ৪২০ টাকা কমিয়ে এখন ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা করা হয়েছে।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মোঃ জাফর আলম জানান, পিসিটি পরিচালনা বিদেশী অপারেটর দিয়েই করা হবে ওই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ সেজন্য বসে থাকব না। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কাজ পুরোপুরি শেষ হলেই ক্রেনযুক্ত জাহাজ ভিড়িয়ে কার্যক্রম শুরু করে দেয়া হবে। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সজ্জিত হয়ে ওই টার্মিনাল পুরোপুরি অপারেশনে গেলে বন্দরের কন্টেনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা আরো বেড়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments