Saturday, January 22, 2022
Home জাতীয় জানুয়ারিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সত্ত্বেও দেশে এখনো অ্যান্টিবডি টেস্ট শুরু হয়নি

জানুয়ারিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সত্ত্বেও দেশে এখনো অ্যান্টিবডি টেস্ট শুরু হয়নি

আ.জা. ডেক্স:

শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতোটুকু তা বুঝতে অ্যান্টিবডি টেস্টের প্রয়োজন। একই সঙ্গে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী টিকা মানুষের শরীরে কোন পর্যায়ের প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করল তা নিরীক্ষণ করতেও পরীক্ষাটি জরুরি। তবে গত জানুয়ারিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরও দেশে এখনো শুরু হয়নি অ্যান্টিবডি টেস্ট। নির্ধারণ হয়নি পরীক্ষার কিট ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম। বিষয়টি এক মাসের বেশি সময় ধরে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আটকে রয়েছে। ওই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আবারো ঔষধ প্রশাসনকে চিঠি দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ বিতর্কের পর গত জানুয়ারিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অ্যান্টিবডি পরীক্ষার জন্য নীতিমালার অনুমোদন দেয়। তারপর গত ১৮ মার্চ মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনুমোদনের চিঠি আসে। আর ঔষধ প্রশাসনকে ২৪ মার্চ পরীক্ষার কিট ও দাম নির্ধারণের জন্য চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু এক মাসের বেশি সময় ধরে ঔষধ প্রশাসনের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) গত ২৮ এপ্রিল আবারো অনুরোধের চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে অ্যান্টিবডি টেস্টের জন্য কিট ও মূল্য নির্ধারণের জন্য তাগিদ দেয়া হয়। বলা হয়, টেস্ট কিটস ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের অনুমোদন (অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি টেস্ট) ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক হওয়া প্রয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যান্টিবডি টেস্টের জন্য ব্যবহৃত কিট অনুমোদন দেয়া যায় কিনা তা বিশ্লেষণ এবং বর্তমান কভিড-১৯ মহামারীর ঊর্ধ্বগামী পরিস্থিতি মোকাবেলায় অ্যান্টিবডি টেস্টের ব্যবহার সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে শুরু করার ক্ষেত্রে কোন কোন অ্যান্টিবডি কিট ব্যবহার করা যায়, তার তালিকা ও মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুনরায় অনুরোধ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ হলে তার বিরুদ্ধে লড়তে শরীরই একপর্যায়ে যে প্রতিরোধী ব্যবস্থা তৈরি করে তাকেই অ্যান্টিবডি বলা হয়। অ্যান্টিবডির কাছে ভাইরাস পরাজিত হলে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। শরীরে নির্দিষ্ট কোনো রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কিনা অ্যান্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে তা স্বল্প সময়ে জানা যায়। কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার রক্তে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে ৫-১০ দিন সময় লাগতে পারে। ফলে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার আগে র‌্যাপিড কিটে নমুনা পরীক্ষা করা হলে ফলাফল নেগেটিভ হবে। শরীরে ভাইরাস থাকলেও এ পরীক্ষায় তা ধরা পড়বে না। ওসব বিবেচনা করে গত বছর কভিড-১৯ মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি অ্যান্টিবডি পরীক্ষা চালুর পরামর্শ দেয়।

সূত্র জানায়, গবেষণার কারণে এবং করোনায় আক্রান্তের পর ব্যক্তির শরীর কতটুকু প্রতিরোধী তা জানার জন্য অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হয়। টিকা দেয়ার আগেই অ্যান্টিবডি টেস্ট চালু করা প্রয়োজন ছিল। তাতে যাদের শরীরে আগেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে তাদের বাদ দিয়ে বাকিদের টিকা দেয়া যেতো। ফলে টিকার অপচয় রোধ করা সম্ভব হতো। তাছাড়া প্লাজমা দেয়ার ক্ষেত্রেও অ্যান্টিবডি টেস্ট গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্টিবডি টেস্ট না করে প্লাজমা দেয়া যুক্তিসঙ্গত নয় বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তাদের মতে, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকের শরীরে প্রতিরোধ সক্ষমতার সৃষ্টি হয়। যার শরীরে বেশি হয় তিনি অন্য আক্রান্তকে প্লাজমা দিয়ে সাহায্য করতে পারে। সেক্ষেত্রে জানতে হবে যিনি প্লাজমা দিচ্ছে তার প্রতিরোধক্ষমতা কেমন। এ কিটের অনুমোদন দেয়া বেশি সময়সাপেক্ষ নয়।

সূত্র আরো জানায়, অ্যান্টিবডি টেস্টে কোন কিটস ব্যবহার হবে এবং মূল্য কত হবে সেগুলো ঠিক হলে পরীক্ষার অনুমতি দেয়া হবে। সরকারের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর), আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গবেষণার কাজে অ্যান্টিবডি টেস্ট করেছে। তবে কিটের অনুমোদন না হওয়ায় ব্যক্তি পর্যায়ে কোথাও এ পরীক্ষা হচ্ছে না। কিটের অনুমোদন পাওয়া গেলে দেশের জেলা হাসপাতালসহ বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোয় অ্যান্টিবডি পরীক্ষা শুরু করা হবে। তবে সরকারি সব হাসপাতালে নয়। যেসব হাসপাতালে আরটি-পিসিআর টেস্ট হয় এবং কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল তাদেরই অনুমতি দেয়া হবে।

এদিকে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও পরিচালক (অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন জানান, পরামর্শক কমিটি যখন এ বিষয়ে নীতিমালা করে তখন সেখানে উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে এটা ব্যক্তি পর্যায়ে নয়। গবেষণার জন্য কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান অ্যান্টিবডি টেস্ট করতে চাইলে তা ঠিক আছে। শরীরে অ্যান্টিবডি আছে কিনা এটা ব্যক্তি জেনে কী করবে। কারণ বিশ্বে বিষয়টি সর্বস্বীকৃত নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

দেওয়ানগঞ্জে মোবাইল কোর্টে বিভিন্ন মামলায় জরিমানা

নিজস্ব সংবাদদাতা: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ভেরিয়েন্ট ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে এক অভিযান পরিচালনা করেছেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার...

জামালপুরে সিডস প্রকল্পের শিক্ষকদের বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামালপুরে উন্নয়ন সংঘের ‘মর্যদা ও স্থায়িত্বশীলতার সাথে আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়তন(সিডস)’ প্রকল্পের আওতায় চাইল্ড ক্লাব শিক্ষকদের ৫ দিনব্যপী বুনিয়াদী...

জামালপুরে হিজড়া জনগোষ্ঠীর পরিবার ও ব্যবসা উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রশিক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী হিজড়াদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পরিবার ও ব্যবসা উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।...

রাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শীতার্তদের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিলেন মহিলা এমপি হোসনে আরা

ওসমান হারুনী: জামালপুর ও শেরপুর আসনের সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি হোসনে আরা রাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শীতার্তদের গায়ে কম্বল...

Recent Comments