Thursday, December 1, 2022
Homeজামালপুরজামালপুরে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে জনজীবন অতিষ্ঠ

জামালপুরে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে জনজীবন অতিষ্ঠ

শ্রাবণ শুরু হলেও বৃষ্টির দেখা নেই। চৈত্র, বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাস পেরিয়ে আষাঢ়ও গেছে তীব্র তাপপ্রবাহে। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় জামালপুরে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে জনজীবনে নেমে এসেছে অস্থিরতা। তাপমাত্রা কমার কথা থাকলেও দিন দিন বেড়েই চলছে। চারদিকে দেখা দিয়েছে সর্দিকাশি, ডায়রিয়া, কলেরাসহ নানা রোগ। কাজ করতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্ট করছেন তারা। দিনের তীব্র গরমে কষ্ট করে কাজ করলেও রাতেরবেলা একটু শান্তিতে ঘুমোতেও পারছেন না।

আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে জামালপুর শহরে রিকশা চালান। শহরের অলিগলিতে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। তিনি বলেন, জীবনে এমন গরম কখনও দেখিনি। গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড গরমে ভালোভাবে রিকশা চালাতে পারছি না। যাত্রীও কমে গেছে। এদিকে লোডশেডিং দুর্বিষহ করে তুলেছে জীবন।

রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করছিলেন স্থানীয় বারিক মণ্ডল। তিনি বলেন, এমন দিনে এরকম গরম আসলে ভাবা যায় না। গ্রীষ্মকালেও এরকম গরম ছিল না। আমরা জানি আষাঢ়-শ্রাবণে বৃষ্টি হয়। অথচ হচ্ছে উল্টোটা।

রাস্তার ধারে আখের শরবত বিক্রি করছেন আকতার হোসেন। তিনি জানান, কয়েকদিন ধরে জেলায় প্রচুর গরম পড়েছে। মানুষ ঘরে টিকতে পারছে না। জীবনে এমন গরম কখনও পড়তে দেখেননি। মানুষ তাদের তৃষ্ণা মেটাতে আখের শরবত পান করছেন। গত বছরের তুলনায় তার বেচা-বিক্রিও খুব ভালো।

জামালপুর পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, দীর্ঘ ১৭ দিন পর জেলায় গতকাল রাতে কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই সব স্থানে কিছু সময়ের জন্য তাপমাত্রা কমে গেলেও আজ থেকে আবারও তাপমাত্রা বেড়েছে। মূলত এ মৌসুমে তাপমাত্রা বাড়ার কারণ হিসেবে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন তিনি।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে কলেরা, ডায়রিয়া, সর্দিকাশি রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ ধরনের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

ঢাকা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, জেলায় ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তখন তাপমাত্রা সহনশীল পর্যায়ে চলে আসবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments