Friday, June 21, 2024
Homeখেলাধুলাজায়গা সংকটে দুই ফেডারেশনের ‘স্নায়ুযুদ্ধ’

জায়গা সংকটে দুই ফেডারেশনের ‘স্নায়ুযুদ্ধ’

ক্রিকেট বাদে বাংলাদেশের অন্য সকল খেলায় কম-বেশি অবকাঠামো সংকট। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রীড়াবিদদের কাছে পদক প্রত্যাশা থাকলেও এর বিপরীতে ন্যূনতম অনুশীলন সুবিধাই মেলে না অনেক জায়গায়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমনিশিয়াম ব্যবহার করে জিমন্যাস্টিক্স ও তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন। স্বল্প জায়গায় ভাগাভাগি ব্যবহারে দুই ফেডারেশনের মধ্যে সংকট ছিল কয়েক মাস ধরেই তা এখন রীতিমতো ‘স্নায়ুযুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমনিশিয়ামের চার ভাগের প্রায় তিন ভাগ ব্যবহার করে জিমন্যাস্টিক্স। এক প্রান্তে তায়কোয়ান্দো তাদের কার্যক্রম করে। দুই ফেডারেশনের অনুশীলনের বাইরে কমন জায়গায় রয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে কয়েকটি কাঠের গ্যালারী। এভাবেই গত কয়েক মাস দুই ফেডারেশন স্ব স্ব কাজ করে আসছিল।

গত শুক্রবার তায়কোয়ান্দো বিজয় দিবস প্রতিযোগিতা করে। এই টুর্নামেন্টের জন্য তায়কোয়ান্দো জিমন্যাস্টিক্সের কিছু জায়গা ব্যবহার করেছিল। টুর্নামেন্ট শেষে জায়গা ফিরিয়ে দেয়ার সময়ই ঘটেছে বিপত্তি। জিমন্যাস্টিক্স ফেডারেশনের দাবি, তাদের জায়গা সংকুচিত হয়েছে অন্য দিকে তায়কোন্দা ফেডারেশনের অভিযোগ- কমন স্পেসে গ্যালারী রাখায় তায়কোয়ান্দোর যাতায়াত পথ রুদ্ধ।

গতকাল থেকে দুই ফেডারেশনের মধ্যে এ নিয়ে উত্তপ্ততা। যা ছড়িয়ে পড়েছে দুই খেলার খেলোয়াড়-কোচিং স্টাফ ও ফেডাশেনের স্টাফদের শারীরিক ভাষার মধ্যেও। তাই আজ সকালে বিষয়টি পরির্দশন করতে যান হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ফেডারেশন ফোরামের সভাপতি আসাদুজ্জামান কোহিনূর। তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দুই পক্ষকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বিষয়টি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে অবহিত করে সুষ্ঠ ও স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করব।’

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব পরিমল সিংহ আজ ব্যক্তিগত ছুটিতে রয়েছেন। ছুটির মধ্যে থেকেও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অন্য কর্মকর্তাদের সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব রশিদুজ্জামান সেরনিয়াবাত ও এনএসসির আরো কয়েকজন কর্মকর্তা গিয়ে পর্যবেক্ষণ করে বিজয় দিবস টুর্নামেন্টের আগে যে যেভাবে ছিল সেভাবে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্ত দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি। তাই ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব ও পরিচালকদের উপস্থিতিতে পুনরায় দুই পক্ষকে নিয়ে বসার দিনক্ষণ ঠিক হয়।

দুই ফেডারেশনের জায়গা সংকট ও সমস্যার বিষয়টি ক্রীড়াঙ্গনে বেশ কিছু দিন ধরেই আলোচিত। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব পরিমল সিংহও অবগত। তিনি বললেন, ‘আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে বসার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এক পক্ষ (তায়কোয়ান্দো) বলল তাদের সভাপতি নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত তাই নির্বাচনের পর দুই সভাপতিকে নিয়ে বসার একটি পূর্ব সিদ্ধান্তই রয়েছে। আর এখন উদ্ভূত সমস্যার একটি সাময়িক সমাধান করা হবে।’ জিমন্যাস্টিক্স ফেডারেশনের সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন কাঠের গ্যালারী সরিয়ে দুই ফেডারেশনের জন্য জায়গা সম্প্রসারিত করে কেন্দ্রীয় শীতাতপ ব্যবস্থা করে দেয়ার ঘোষণা দিলেও তায়কোয়ান্দো গ্যালারি উঠানোর পক্ষপাতী নয়।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে পুরনো ফেডারেশনগুলোর মধ্যে একটি জিমন্যাস্টিক্স। বৈশ্বিকভাবে খেলাটি বেশ জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় হলেও বাংলাদেশে পিছিয়ে ছিল দীর্ঘদিন। শেখ বশির আহমেদ মামুন জিমন্যাস্টিক্স ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে গত এক দশকে খেলাটি ঘুরে দাড়ানো শুরু করছে। এখন বিদেশি কোচ, বিদেশে ট্রেনিংয়ে এশিয়ান পর্যায়ে পদকের সম্ভাবনা জাগিয়েছে। জায়গা সংকটে সেই সকল বিনিয়োগ ধ্বংসের মুখে দেখছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ দিয়ে আমাদের অনুশীলন হয়। জায়গা স্বল্পতার জন্য আমরা এখন অনেক ইভেন্টে পূর্ণউদ্যমে অনুশীলন করতে পারছি না। এই স্বল্পতার মধ্যেও গত কয়েক মাস চললেও এখন যে পরিস্থিতি এতে অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’

জিমন্যাস্টিক্স ফেডারেশন জাতীয় দলের অনুশীলন করালেও তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন দিনের একটা বিশেষ সময় মূলত আগত আত্মরক্ষার্থে আগ্রহীদের তায়কোয়ান্দো শেখায়। জিমন্যাস্টিক্সে অনেক বড় জায়গা লাগলেও তায়কোয়ান্দো স্বল্প জায়গাতেই যথেষ্ট। তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় সংখ্যা বেশি হলেও ফেডারেশনের সেই অর্থে কোনো বিনিয়োগ নেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমনেশিয়ামে। তারপরও তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের মন্তব্য, ‘দক্ষিণ এশিয়ান পর্যায়ে আমরা তিনটি স্বর্ণ পদক এনেছি। এছাড়া আন্তর্জাতিক অনেক প্রতিযোগতিায় আমরা দেশের সম্মান বৃদ্ধি করি। তাই আমাদের সুনিবিড় অনুশীলনের জন্য সুনির্দিষ্ট জায়গা দরকার।’ ফেডারেশনগুলোর অভিভাবক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এই সমস্যা জিইয়ে রাখছে বেশ কিছু দিন ধরেই। তাই তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরে ভিডিও চিত্র নির্মাণ করেছে।

ক্রীড়া পরিষদের পুরাতন ভবনের জিমন্যাশিয়ামে আগে জিমন্যাস্টিক্স, তায়কোয়ান্দো, কুস্তি, কারাতে ও ভারোত্তোলন নানা প্রতিযোগিতা আয়োজন করত। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমন্যাশিয়ামে জিমন্যাস্টিক্স ও তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনকে সমঝোতা করে ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে। ভারত্তোলন, কুস্তি ও কারাতে এখন ভিন্ন ক্রীড়া স্থাপনা ব্যবহার করে। জিমন্যাস্টিক্স প্রায় এক বছর এখানে স্থাপনা গড়ে তোলায় কুস্তি এবং ভারত্তোলনের এখানে প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুযোগ পায় না। ভারত্তোলন বাধ্য হয়ে নিজেদের ছোট্ট জিমনিশিয়ামে জাতীয় প্রতিযোগিতা আয়োজন করে। আর কুস্তির অবস্থা আরো খারাপ। কখনো হ্যান্ডবল, কখনো রোলার স্কেটিংয়ে অনুশীলন করছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ফেডারেশনগুলোর অভিভাবক হয়েও তাদের চোখে এই সমস্যাগুলো ধরা পড়ে না।

এজেড/এইচজেএস

Most Popular

Recent Comments