Sunday, January 17, 2021
Home জাতীয় টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহবান টিআইবি’র

টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহবান টিআইবি’র

আ. জা. ডেক্স:

টিকা সংগ্রহের ক্রয় পদ্ধতি ও প্রাপ্তিতে সব পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহবান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আহবান জানায় সংস্থাটি। একইসঙ্গে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় জরুরি কেনাকাটার নামে স্বাস্থ্য খাতে যে অবারিত দুর্নীতি, তার পুনরাবৃত্তি এড়াতে টিকার কার্যক্রমে যেকোনও মূল্যে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুসরণের তাগিদ দেয় তারা।
গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোভিড-১৯ অতিমারি থেকে সুরক্ষা পেতে টিকা সংগ্রহের ক্রয় পদ্ধতি, প্রাপ্তি এবং অগ্রাধিকার অনুযায়ী, বিতরণ প্রক্রিয়ায় যেকোনও ধরনের বিতর্ক ও বিভ্রান্তি দূর করতে সব পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। টিআইবি জানায়, কোভিড-১৯ অতিমারি থেকে সুরক্ষা পেতে কার্যকর টিকার সংখ্যা এখনও পর্যন্ত খুবই কম হওয়ায় এবং এর উৎপাদন ও সরবরাহে সীমাবদ্ধতা থাকায়, এর প্রাপ্তি নিয়ে শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে একধরনের প্রতিযোগিতা লক্ষ্যণীয় ছিল। এমন বাস্তবতার মাঝেও সরকার অক্সফোর্ড- অ্যাস্ট্রোজেনেকার উদ্ভাবিত টিকা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে দ্রুত সংগ্রহের উদ্যোগ সাধুবাদ পাবার যোগ্য। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক চুক্তি এবং এই উৎস থেকে টিকার সময়মতো প্রাপ্তির সম্ভাবনা বিতর্ক এড়াতে পারেনি, বরং বেশকিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘টিকার প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যেভাবে বাণিজ্যিক চুক্তিটিকে দুই দেশের জি-টু-জি বলার চেষ্টা চালিয়েছে, তা অনভিপ্রেত।’ তিনি বলেন, ‘অপরদিকে ভারতে টিকার অনুমোদনের পরদিনই যেভাবে দ্রুত গতিতে কাভিশিল্ডের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসনের বিদ্যমান আইন কতোটা মানা হয়েছে এবং কোন কোন নথির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে সরাসরি কেনা টিকার জন্য বেক্সিমকোকে তাদের খরচ ও কমিশন বাবদ যে মূল্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, তা কোন নীতি বা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া হয়েছে, বা এর পেছনের যুক্তি বা বিবেচনা কী ছিল, তাও পরিষ্কার করতে পারেনি। এটি যেকোনও পর্যায়ের সরকারি কেনাকাটার স্বচ্ছতার পরিপন্থী। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার মনে রাখা জরুরি যে, অতিমারি যেনো কোনোভাবেই কারও জন্য অন্যায় সুবিধার মাধ্যমে পকেটপূর্তির উৎসবে পরিণত না হয়।’ কোভিড-১৯ এর টিকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই এক ধরনের সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল মন্তব্য করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘দেশে চীনা টিকা সিনোভ্যাকের ট্রায়াল চালানোর সিদ্ধান্ত হলেও বেশ কয়েকমাস ঝুলে থাকার পর সেটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আবার দেশীয় কোম্পানি গ্লোব বায়োটেকের টিকার ট্রায়াল চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিলেছে টিকা প্রাপ্তির অশ্চিয়তার বিতর্কের মাঝেই। একইভাবে চীনা কোম্পানি আনহুই জিফেই এর টিকার ট্রায়াল চালানোর চিন্তাভাবনার কথা জানা হচ্ছে সমালোচনার মুখে। এর মাঝে সংরক্ষণ জটিলতা থাকার পরও কোভ্যাক্স উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফাইজারের টিকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এখানে বড় প্রশ্ন হচ্ছে সরকারি মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফাইজারের টিকা সংরক্ষণ ও ব্যবহারে যেখানে ৬৪ জেলার ৫৬টিতেই মানসম্পন্ন বিশেষ শীতলীকরণ ব্যবস্থা নতুন করে তৈরি করতে হবে, টিকাটির প্রয়োগে বিশেষ সিরিঞ্জের প্রাপ্তির চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেখানে এমন সিদ্ধান্ত কতটা ফলদায়ক হবে এবং টিকার তুলানামূলক দরের বিষয়টি কতটা বিবেচনা করা হয়েছে, তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পর্যাপ্ত টিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে সরকার বিনামূল্যে জনসংখ্যার ৮০ ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। অথচ এটির প্রয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আরেক দফা বিভ্রান্তি তৈরির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। করোনোর টিকা প্রথম ডোজ প্রয়োগের একমাস পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কথা প্রাথমিকভাবে জানা হলেও এখন স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ করা হবে চার সপ্তাহ নয়, আট সপ্তাহের ব্যবধানে। এক্ষেত্রে, বড় বিষয় হচ্ছে এ সিদ্ধান্ত কেন কীভাবে পরিবর্তন করা হলো? এর পেছনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী বা বিষেশজ্ঞ কমিটির পরামর্শ নেওয়া হয়েছে কিনা, তা পরিষ্কার করা হয়নি। একইভাবে টিকা প্রাপ্তির অগ্রাধিকার নির্ণয় প্রক্রিয়া কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে সম্পর্কেও জনমনে পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়নি। এ ধরনের বড় আকারের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে ও বিভ্রান্তি দূরীভ‚ত করে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করা যায়, তার ওপর। কেননা, এই টিকাদান কর্মসূচি সফল না হলে একদিকে যেমন অতিমারির হাত থেকে দ্রুত স্বাভাবিক কর্মকান্ডে ফেরা এবং অর্থনৈতিক পুনঃরুদ্ধার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনই বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেওয়া চার হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয়ের উদ্দেশ্যই ভেস্তে যাবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

জামালপুরে শীতার্তদের মাঝে পৌর মেয়রের কম্বল বিতরণ

নিজস্ব সংবাদদাতা: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেছেন জামালপুর পৌরসভার...

জামালপুরে করোনা ও ডেঙ্গু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে সাংবাদিকদের দিন ব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব সংবাদদাতা: জামালপুরে করোনা ও ডেঙ্গু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে সাংবাদিকদের দিন ব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার ১৩জানুয়ারী...

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের বিশেষ আসর

নিজস্ব সংবাদদাতা: বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের নিয়মিত পাঠচক্র বীক্ষণ-এর গত ০৮ জানুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিত...

ইসলামপুরের ১২টি ইউনিয়নের ৭টির নেই পরিষদ ভবন

মোহাম্মদ আলী: ইসলামপুরের ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টিরই নেই সরকারি পরিষদ ভবন। এদের কোনোটি ভাড়া করা ঘরে আবার কোনোটি চেয়ারম্যানের বাড়িতে গড়ে উঠেছে...

Recent Comments