Saturday, December 4, 2021
Home Uncategorized দীর্ঘদিন বিপুল লোকসানের পর লাভের মুখ দেখছে পাথরখনি

দীর্ঘদিন বিপুল লোকসানের পর লাভের মুখ দেখছে পাথরখনি

আ.জা. ডেক্স:

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি (এমজিএমসিএল) দেশের একমাত্র পাথরখনি। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় লোকসান গুনে চললেও এখন ধারায় ফিরেছে। বিগত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো লোকসানের কলঙ্ক ঘুচিয়ে এমজিএমসিএল ১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা লাভ করে। আর ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে লাভের অঙ্ক বেড়ে গিয়ে ২২ কোটিতে উন্নীত হয়। পাথর খনি সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনা না থাকলে আগামী অর্থবছরে লাভের অঙ্ক ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। কিন্তু বিদ্যমান মহামারির কারণে এ সময়ে লাভের অঙ্ক অর্ধশত কোটি অতিক্রম করবে। অভিযোগ রয়েছে, এমজিএমসিএলের অভ্যন্তরীণ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি আর কমিশন বাণিজ্যের কারণে দীর্ঘ ১২ বছর খনিটি লাভের মুখ দেখেনি। ফলে দীর্ঘ সময়ে খনিটি প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে। এমজিএমসিএল সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, স্বাধীনতার কয়েক বছর পরই বাংলাদেশ ভূতাত্তি¡ক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া এলাকায় ১২৮ মিটার গভীরতায় কঠিন শিলা আবিষ্কার করে। তারপর ১৯৯৪ সালে খনি উন্নয়নের লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়ার মেসার্স কোরিয়া সাউথ কো-অপারেশন করপোরেশনের (নামনাম) সঙ্গে একটি চুক্তি করে সরকার। কিন্তু চুক্তির পর পরই নামনাম খনি উন্নয়ন নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে। তবে নামনাম কর্তৃপক্ষ খনির উন্নয়ন কাজ শেষ করলেও নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর কমিশন বাণিজ্যের কারণে এমজিএমসিএল দীর্ঘদিন পাথর উত্তোলন শুরু করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত কয়েক দফা ব্যয় বৃদ্ধির পর ২০০৭ সালে এমজিএমসিএল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পাথর উত্তোলন কাজ শুরু করে। তখন প্রতিদিন এক শিফটে পাথর উত্তোলন ছিল ৩০০-৪০০ মেট্রিক টন। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলন হলেও খনির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ছিল না। একপর্যায়ে খনিটি বিপুল টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে বন্ধের উপক্রম হয়। তারপর ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর খনি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং পরিসেবার জন্য বেলারুশ কোম্পানি জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামকে (জিটিসি) দায়িত্ব দেয়া হয়। এ নিয়ে এমজিএমসিএলের সঙ্গে জিটিসির ৬ বছর মেয়াদি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়। বিগত ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চুক্তিটি কার্যকর হয়। জিটিসি ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পাথর উৎপাদন শুরু করে। কিন্তু কাজ শুরু করতে গিয়ে দেখা যায় খনিটির বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি অচল। এমন অবস্থায় খনির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আর ওই দুর্বলতাকে পুঁজি করে এবং খনির কাজে অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি কেনাকাটা নিয়ে খোদ এমজিএমসিএলের অভ্যন্তরেই একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। ওই সিন্ডিকেট নিজেদের পছন্দের কোম্পানির কাছ থেকে যন্ত্রপাতি কেনা নিয়ে দুই বছর সময় নষ্ট করে। তারপর খনির ড্রয়িং-ডিজাইন অনুমোদন নিয়েও আরো এক বছর উৎপাদন ব্যাহত হয়।

সূত্র জানায়, এমজিএমসিএলের দক্ষ বিশেষজ্ঞ না থাকায় কর্তৃপক্ষ খনির ড্রয়িং-ডিজাইন করতে পার্শ্ববর্তী বড় পুকুরিয়া কয়লাখনিতে কর্মরত বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব দেয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সুযোগে বিদেশি বিশেষজ্ঞ টিম দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে তাদের নিজদের পক্ষে ড্রয়িং-ডিজাইন তৈরি করে নেয়। এমজিএমসিএলের নানা প্রতিবন্ধকতা, ড্রয়িং-ডিজাইন অনুমোদন না করা এবং মালামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির অনুমতি না দিয়ে জিটিসিকে ৪৭ মাস বসিয়ে রাখা হয়। এমনকি তাদের পাওনা বিল ৩ বছর পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছিল। ওসব কারণে জিটিসি পুরো চুক্তির মেয়াদ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে খনির উন্নয়ন ও পাথর উত্তোলন করতে পারেনি। এখন জিটিসি তিন শিফটে প্রতিদিন খনি থেকে পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছে। এটি খনির উৎপাদন ইতিহাসে নতুন রেকর্ড।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে দেশব্যাপী পাথরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জিটিসি তাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আরো বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করছে। করোনা মহামারিতেও শতাধিক বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও অর্ধশত দেশি প্রকৌশলীসহ ৭৫০ দক্ষ খনিশ্রমিক কাজ করছে। বর্তমানে মধ্যপাড়া পাথরখনি থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দেশের সব মেগা প্রকল্পে পাথর সরবরাহ করা হচ্ছে। আর জিটিসি পুরো দমে উৎপাদন চালু রেখেছে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে মধ্যপাড়া পাথর খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম কামরুজ্জামান জানান, করোনার কারণে কিছু দিন বন্ধ থাকার পর এখন খনিতে পুরো দমে উৎপাদন চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব শ্রমিককে কাজে লাগানো হয়েছে। করোনার মধ্যেও উৎপাদন অব্যাহত থাকায় খনিতে শ্রমিকদের প্রাণচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। গত ২ বছর ধরে খনি লাভবান রয়েছে।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে জিটিসির চেয়ারম্যান ড. মো. সিরাজুল ইসলাম কাজী জানান, প্রতিদিন তিন শিফটে ৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খনিটি চালু করা হয়েছিল, সেটি অতিক্রম করে এখন একদিনে তিন শিফটে ৬ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এটি আরো বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী জিটিসি মেয়াদের নির্ধারিত সময়ের ৩ মাস আগেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১.১ মিলিয়ন টন পাথর উৎপাদন ও আরো দুটি নতুন স্টোপ নির্মাণকাজ শেষ করতে পারবে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরো ২০ শতাংশ পাথর বেশি উৎপাদন করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙা ছাত্রদের কাজ নয়: প্রধানমন্ত্রী

আ.জা. ডেক্স: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহবান জানিয়ে বলেছেন, যানবাহন ভাঙচুর করা তাদের কাজ নয়।...

৯৯৯ নম্বরে ফোনে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

আ.জা. ডেক্স: জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করে মাদ্রাসাছাত্রীর করা ধর্ষণের অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক...

লাইসেন্সের মেয়াদ নেই, পুলিশ সদস্যকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

আ.জা. ডেক্স: নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর রামপুরায় অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকায় এক...

রামপুরায় ছাত্র নিহতের ঘটনা বিএনপি-জামায়াতের অপকর্ম কি না, প্রশ্ন কাদেরের

আ.জা. ডেক্স: রাজধানীর রামপুরায় বাসের চাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা বিএনপি- জামায়াতের অতীত সহিংস অপকর্মের পুনরাবৃত্তি কিনা তা খতিয়ে...

Recent Comments