Friday, July 30, 2021
Home জাতীয় দেশের উন্নয়নে যেন কোনোভাবেই সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়: প্রধানমন্ত্রী

দেশের উন্নয়নে যেন কোনোভাবেই সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়: প্রধানমন্ত্রী

আ.জা. ডেক্স:

সরকার সুন্দরবন ও এর জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়ে সব সময় আন্তরিক ও বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের উন্নয়নে যে পদক্ষেপই নেয়া হোক না কেন, সুন্দরবন এবং এর জীববৈচিত্র্য যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয়। তিনি আরও বলেছেন, সুন্দরবনের আয়তন বাড়ানোর জন্য সরকার কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে। সমগ্র উপক‚লীয় অঞ্চলে এর বিস্তৃতি ঘটানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের বৃক্ষাদি এবং বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য তথা বন অপরাধ দমনের জন্য স্মার্ট পেট্রোলিংসহ নানাবিধ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের বেগম সুলতানা নাদিরার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিনের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। এ সময় সুন্দরবনের উন্নয়নে সরকারের নেয়া নানান পদক্ষেপের কথা প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জীব বৈচিত্র্যের আঁধার সুন্দরবনে এখন ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড এবং ৩৭৫ প্রজাতির বন্য প্রাণী পাওয়া যায়। বন্য প্রাণীর মধ্যে ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর, ৩১৫ প্রজাতির পাখি, ২১০ প্রজাতির মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া আছে। তিনি বলেন, সুন্দরবন স¤প্রসারিত হচ্ছে। ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে ২০১৫ সালের বাঘশুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ২০১৮ সালের শুমারিতে এর সংখ্যা ১১৪টি পাওয়া গেছে। সুন্দরবনের কার্বন মজুতের পরিমাণ ২০০৯ সালের ১০৬ মিলিয়ন টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯ সালে ১৩৯ মিলিয়ন টন হয়েছে। সুন্দরবনের গাছপালা ও বন্যপ্রাণীক‚লকে রক্ষার জন্য বনকর্মীদের যুগোপযোগী করে গড়ে তুলে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির পদক্ষেপের কথাও জানান সরকার প্রধান। ২০১৭ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকা স¤প্রসারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনের প্রায় ৫৩% এলাকা অভয়ারণ্যের অন্তর্ভুক্ত।

ল²ীপুর-২ আসনের আনোয়ার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজধানী ঢাকাসহ দেশের যেসব স্থানে অবস্থান করে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিভিন্ন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেসব স্থান বিশেষভাবে সংরক্ষণের জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের স্মরণে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে ১৫০ ফুট উঁচু গ্যাস টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। যশোরের রাজগঞ্জ বাজারে ও ফরিদপুরের আম্বিকা ময়দানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে। ঢাকার মিন্টো রোড ও আবদুল গণি রোডের ভবনগুলোতে বঙ্গবন্ধুর অবস্থান ছিল, বিধায় সেগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের যেসব স্থানে বঙ্গবন্ধুর বিশেষ স্মৃতি বিজড়িত ঐ সব স্থান ঘটনার তাৎপর্য, ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় স্মৃতিস্বরূপ সংরক্ষণ করা হলে তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে অবহিত হতে পারবে।

শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের গণমাধ্যমকে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সমাজে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রেখেছে। শেখ হাসিনা বলেন, সরকার গণমাধ্যমকর্মীদের ৪৫ শতাংশ মহার্ঘভাতা নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন করেছে। এটি অনুমোদনের জন্য চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া উভয়ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা কর্মস্থলে চাকরির অনিশ্চয়তায় ভোগেন। এটা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকি। তাদের চাকরির এ অনিশ্চয়তা দূর করতে তথ্য ও স¤প্রচার মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলি) আইন প্রণয়ন করছে, যা বর্তমানে অনুমোদনের চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সাংবাদিকদের আবাসনের জন্যও বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সাংবাদিকদের পরিবারকে সহায়তা দেয়ার জন্য ১০ কোটি টাকা আর্থিক অনুদান দেয়া হয়েছে। করোনায় প্রেস ক্লাবের আয় কমে যাওয়ায় মে মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য ৫০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। সংবাদকর্মীদের কল্যাণে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার ২০১৩ সালে অষ্টম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণার মাধ্যমে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুয়োগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ১৮৮টি পত্রিকায় অষ্টম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়িত হয়েছে। এ ছাড়া নবম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণার মাধ্যমে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। সরকার দেশের সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের লক্ষ্যে নানা সুবিধা দেয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময় গুরুতর আহত সাংবাদিকদের দেশ-বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার বহন করে থাকে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকেও সাংবাদিকদের জন্য অর্থ প্রদানসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

আশ্রিতাদের মুখে মলিণ হাসি

মোহাম্মদ আলী: আজকের রমরপাড়ার আশ্রিতদের ছিল ভাসমান বসতি। শেষ আশ্রয় ছিল ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের সামনে। সেখান থেকে ঠাঁয় হয়েছে...

জামালপুরে শারীরিক প্রতিবন্ধী শাহিদা পেলেন পুলিশ সুপারের আর্থিক সহায়তা

এম.এ.রফিক: জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মোছাঃ শাহিদা খাতুনকে গতকাল বুধবার তার চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার...

জামালপুর পৌরসভায় মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব সংবাদদাতা: জামালপুর পৌরসভায় কাউন্সিলর ও পৌর কর্তৃপক্ষের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে জামালপুর পৌরসভা মিলনায়তনে...

ইসলামপুরে লকডাউনে খোলা দোকান পাট, মাইকিং করে চলছে খেলার আয়োজন

ওসমান হারুনী: জামালপুরের ইসলামপুরে ‘কঠোর লকডাউনে’ খোলা রয়েছে দোকান-পাট, হাট-বাজার। বাজার ও সড়কে বাড়ছে মানুষের ভীড়। সেই সাথে বিভিন্ন্...

Recent Comments